ভারতে করোনার (Covid 19) চতুর্থ ঢেউ কি অবশ্যম্ভাবী? দ্বিধাবিভক্ত কোভিড বিশেষজ্ঞ থেকে চিকিৎসকমহল

ভারতে করোনার (Covid 19) চতুর্থ ঢেউ কি অবশ্যম্ভাবী? দ্বিধাবিভক্ত কোভিড বিশেষজ্ঞ থেকে চিকিৎসকমহল

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: মহামারীর দাপট ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। রূপ বদলে নতুন শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাসের (Covid 19) একাধিক নয়া স্ট্রেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের (Europe) একাধিক দেশে চোখ রাঙাচ্ছে কোভিডের (Covid 19) নতুন স্ট্রেন। অবশ্য দেশে চতুর্থ ঢেউ আসার আগে করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই স্বস্তির। দৈনিক কোভিড গ্রাফে তেমন বড়সড় কোনও বদল লক্ষ্য করা যায়নি। একদিনে সামান্যই বাড়ল দেশের করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সাম্প্রতিকতম পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৫৮১ জন, মৃত্যু হয়েছে ৩৩ জনের। যা সোমবারের তুলনায় সামান্য বেশি। দেশে সুস্থতার হার প্রায় ৯৬.৯ শতাংশ। কমেছে অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যাও। এই মুহূর্তে দেশে অ্যাকটিভ কেস ২৩,৯১৩ টি। 

দেশে এবার জাঁকিয়ে বসছে বিএ.২ ভ্যারিয়েন্টটি। এটি ওমিক্রনেরই অন্য এক প্রজাতি বলে মত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। বিশ্বের একাধিক দেশে বিশেষত ইউরোপে ইতিমধ্যেই এই স্ট্রেনটি দাপট দেখিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, চতুর্থ ঢেউ আছড়ে পড়ার আগে দেশে কম বেশি এই ভ্যারিয়েন্টটি কিছুটা হলেও বিপদ বাড়াবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভ্যারিয়েন্টের সঙ্গে যুঝতে দেশের প্রত্যেকের বুস্টার ডোজ নেওয়া প্রয়োজন। আর সেই কারণেই এবার সমস্ত প্রাপ্তবয়স্ককে বুস্টার ডোজ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। দেশের আঠারো উর্ধ্ব সমস্ত নাগরিকদের জন্য চালু হতে চলেছে বুস্টার ডোজ। ইতিমধ্যেই ১৮১ কোটি ৫৬ লক্ষেরও বেশি ভ্যাকসিনের ডোজ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গত বুধবার থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সিদের করোনা (Covid 19) ভ্যাকসিন অভিযান। সেইসঙ্গে ষাটোর্ধ্বদের বুস্টার বা প্রিকশন ডোজ দেওয়ার কাজও চলছে। মহামারীর সঙ্গে লড়াইয়ে এই টিকাকরণই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তরফেও সম্প্রতি জানানো হয়েছিল করোনার থেকে সুরক্ষিত থাকতে বুস্টার ডোজের উপর জোর দেওয়া জরুরি। গতকালই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানা গিয়েছে, প্রত্যেককে প্রিকশন ডোজ দেওয়া যায় কি না, তা ভেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি কোন ব্যক্তিদের বিনামূল্যে এই বুস্টার ডোজ দেওয়া সম্ভব, সেই বিষয়টিও আলোকপাত করা হবে।

আইসিএমআর (ICMR) এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আগামী দিনে করোনার (Covid 19) কোন অবতার হানা দেবে, তা এখনই স্পষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। কারণ, চিন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ওমিক্রন। কয়েকমাস আগেই ওই স্ট্রেনের দাপটে থরহরি কম্পমান হয়েছিল গোটা দেশ। আবার চিন থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ঘুরে ইজরায়েলে আসতেই সেই ওমিক্রন দ্বিধাবিভক্ত হয়েছে বিএ.১ এবং বিএ.২ তে। অর্থাৎ ভৌগোলিক চরিত্র ও আবহাওয়ার তারতম্যে একই ভাইরাসের স্ট্রেন দ্রুত বদলাচ্ছে। তাই চতুর্থ ঢেউ রুখতে দেশবাসীকে সমস্ত কোভিডবিধি মেনে চলারই পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

ইতিমধ্যেই সমস্ত রাজ্যকে চিঠি দিয়ে কোভিড (Covid 19) টেস্ট বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। পাশাপাশি বদল ঘটেছে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ব্যবধানেও। বর্তমানে কোভিশিল্ডের প্রথম ডোজ নেওয়ার ১২ থেকে ১৪ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া যায়। কিন্তু এখন তা কমে হচ্ছে ৮ থেকে ৯ সপ্তাহ। এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, ভারতে (India) করোনার চতুর্থ ঢেউ কি অবশ্যম্ভাবী? চিন্তায় আইসিএমআর থেকে স্বাস্থ্যভবন। উৎকণ্ঠায় রয়েছেন কোভিড (Covid 19) বিশেষজ্ঞ থেকে সাধারণ মানুষ। তবে চতুর্থ ঢেউ কবে শুরু হবে তাই নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত চিকিৎসক মহল। সাধারণত দুটি ঢেউয়ের মাঝে ৩-৪ মাসের ব্যবধান থাকে। সেই হিসেব অনুযায়ী জুন থেকে অক্টোবরের মধ্যে দেশে হাজির হবে চতুর্থ ঢেউ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.