ডিজিটাল কারেন্সির সঙ্গে বিট কয়েনের তফাৎ কোথায়? নির্মলার ঘোষণায় কৌতূহল তুঙ্গে

Home দেশের মাটি ডিজিটাল কারেন্সির সঙ্গে বিট কয়েনের তফাৎ কোথায়? নির্মলার ঘোষণায় কৌতূহল তুঙ্গে
ডিজিটাল কারেন্সির সঙ্গে বিট কয়েনের তফাৎ কোথায়? নির্মলার ঘোষণায় কৌতূহল তুঙ্গে

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ঘোষণা করলেন ডিজিটাল কারেন্সির কথা। জানানো হয়েছে ব্লকচেইন ও অন্যান্য প্রযুক্তির সাহায্যে ডিজিটাল রুপি ইস্যু করবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ২০২২ সালে। এর ফলে অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। শীতকালীন অধিবেশনেই সংসদে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল ক্রিপটোকারেন্সি অ্যান্ড ডিজিটাল কারেন্সি বিল, ২০২১ এর। বিলের লক্ষ্য ছিল যাতে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার অফিশিয়াল ডিজিটাল কারেন্সির জন্য সুবিধাজনক একটি কাঠামো তৈরি করা যায়। বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ঘোষণা করলেন ডিজিটাল কারেন্সির কথা। জানানো হয়েছে ব্লকচেইন ও অন্যান্য প্রযুক্তির সাহায্যে ডিজিটাল রুপি ইস্যু করাবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ২০২২ সালে। এর ফলে অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।

আসুন জেনে নিই, ডিজিটাল কারেন্সি কী? বিটকয়েনের থেকে এর তফাৎই বা কতটা?

অফিশিয়াল ডিজিটাল কারেন্সি বা ডিজিটাল রুপি হল একটি সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ডিজিটাল কারেন্সি বা CBDC। এটি হল একটি লিগাল টেন্ডার, যেটা কোনও দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ইস্যু করতে পারে, কিন্তু ডিজিটাল মাধ্যমে। প্রসঙ্গত নোট বা কয়েন আমরা ব্যবহার করি বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে, যাতে সরকারের শিলমোহর দেওয়া থাকে, সবই লিগাল টেন্ডার। এ ক্ষেত্রেও সেই একই লিগাল টেন্ডার, কিন্তু তা নোট বা কয়েন নয়, ডিজিটাল মাধ্যমে শুধু।

ক্রিপ্টোকারেন্সি হল বিকেন্দ্রিত আর্থিক টোকেন। আর সিবিডিসি হল, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক দ্বারা ইস্যু করা অন্য কারেন্সির মতোই কারেন্সি, শুধুমাত্র অবয়বটি ডিজিটাল তার। অবশ্য বিটকয়েন এবং অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও স্পষ্ট বার্তা দেননি অর্থমন্ত্রী। শুধু জানিয়েছেন, ২০২২-২৩ সালের মধ্যেই সরকারি ডিজিটাল মুদ্রা চালু করা হবে। তবে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, সরকার নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল মুদ্রা চালুর পরই বিটকয়েনের মতো অন্যান্য ডিজিটাল মুদ্রা নিষিদ্ধ করা হবে। এই নিয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি জগতেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি কি? এটা হল ডিজিটাল মুদ্রা। ক্রিপ্টোকারেন্সি ছোঁয়া যায় না, দোকানে দেওয়া যায় না, শুধুমাত্র অনলাইন ওয়ালেটে রাখা যায়। ফিজিক্যাল মোডে নয়, ডিজিটাল কয়েন হিসেবে। গোটা বিশ্বেই ক্রিপ্টো জনপ্রিয়। কিন্তু তা কোনও ব্যাঙ্কিং পরিষেবার আওতাধীন নয়।
ভারতের নিজস্ব ডিজিটাল মুদ্রার সঙ্গে এর তফাত কোথায়?
বর্তমানে নানা ব্যবসায় লেনদেন হলেও ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলির নগদ মুদ্রার সঙ্গে মিল নেই, এগুলি ব্যক্তিগতভাবে তৈরি করা সম্পদ। বেশিরভাগ দেশই ক্রিপ্টোকারেন্সিকে মান্যতা দেয়নি। কিন্তু সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ডিজিটাল কারেন্সি কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের আওতায় তৈরি হবে। যা ভারত সরকারের নিজস্ব ডিজিটাল মুদ্রার সিলমোহর পাবে। অর্থাৎ সরকার দ্বারা অনুমোদিত। সহজ বাংলায় বলতে গেলে, এখন থেকে দু’ধরনের টাকা হবে। একটি ছাপা কাগজে। অন্যটি ডিজিটাল মাধ্যমে। দু’টি দিয়েই একই ধরনের কাজ করা যাবে।

ক্রিপ্টোর ভবিষ্যত কী?
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বিভিন্ন সময়ে বিটকয়েন-সহ একাধিক ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলির মাধ্যমে আর্থিক তছরুপ, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে অর্থের জোগান, কর ফাঁকির উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাই নিজস্ব ডিজিটাল মুদ্রা) আনতে চাইছে সরকার। এ থেকেই অন্যান্য ক্রিপ্টো সম্পর্কে সরকারের অভিপ্রায় স্পষ্ট। ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করার ফলে এই ডিজিটাল মুদ্রারও যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। ফলে কোনও ত্রুটি থাকলে চলবে না। সাধারণ মানুষ এই ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবহার করে সবই ধরনের অনলাইন পেমেন্ট করতে পারবেন। আগামী দিনে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির মুদ্রা আন্তর্জাতিক বাজারের অনেকটা দখল করতে চলেছে বলে আন্দাজ করা হচ্ছে।
২০০৮ সালে বিট কয়েন আসার পরে সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিপটোকারেন্সির প্রতি সবার আগ্রহ নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি সবচেয়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এবং গ্রহণযোগ্য ডিজিটাল মুদ্রা হয়ে উঠছে। ১৯৮৩ সালে ডেভিড চৌম তার গবেষণা পত্রে ডিজিটাল মুদ্রার উল্লেখ করেছিলেন। ১৯৯০ সালে তিনি ডিজিক্যাশ একটি ইলেকট্রনিক নগদ সংস্থা (ক্যাশ কোম্পানি) প্রতিষ্ঠা করেন। আমস্টারডামে তাঁর গবেষণার বাণিজ্যিক বিকাশ ঘটানোর জন্য তিনি এটি করেন।
১৯৯৭ সালে, কোকা-কোলা মোবাইল পেমেন্টের মাধ্যমে ভেন্ডিং মেশিন থেকে ক্রয়ের ব্যবস্থা করে। এরপরে ১৯৯৮ সালে পেপ্যাল এর উদ্ভব হয়। ২০০৮ সালে বিটকয়েন চালু হয়, যা ডিজিটাল মুদ্রার শুরু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
গতকাল বাজেটে সীতারমন ডিজিটাল মুদ্রা চালু করার কথা ঘোষণার পরই এই নিয়ে নানা মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকেই লেনদেনের এই নতুন প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত নন। তবে ধীরে ধীরে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো এখানেও অস্বচ্ছতা দূর হবে, তা আশা করা যায়। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে নির্মলার এই দাওয়াই কতটা কাজে এল, তা সময়ই বলবে। এখন শুধু অপেক্ষার পালা। দেখা যাক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.