প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার (HS Exam) সময় ইন্টারনেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রশাসনের

প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার (HS Exam) সময় ইন্টারনেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রশাসনের

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: সামনেই ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা (HS Exam) ।গত বছর অতিমারীর কারণে অফলাইনে পরীক্ষা দিতে পারেননি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। এ বছর অতিমারী পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। সেই কারণে এই বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা অফলাইনেই নেওয়া হবে জানিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে উদ্যোগী হল তারা। সংসদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষাকেন্দ্রের আশেপাশে ইন্টারনেট (Internet) পরিষেবা বন্ধ রাখা হবে।

গত কয়েক বছরে উচ্চমাধ্যমিকের (HS Exam) প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে সংসদকে। এবার তা রুখতেই উদ্যোগী হয়েছে তারা। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য গত কয়েকমাসে একাধিকবার বৈঠক করেছেন জেলা প্রশাসনিক আধিকারিক ও সংসদের কর্তারা। প্রশ্নপত্র (Question Paper) ফাঁসের মতো অস্বস্তিকর বিষয় এড়াতেই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষাকেন্দ্রের আশেপাশে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এমনটাই জানানো হয়েছে সংসদের তরফ থেকে। ওই সময় হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও বা ভয়েস কলের সুবিধাও পাওয়া যাবে না বলে জানা গিয়েছে।

আপাতত উত্তর চব্বিশ পরগণা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা, মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং বীরভূমে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই তালিকায় আরও কয়েকটি জেলাকে যুক্ত করা হতে পারে। প্রশ্নপত্র ফাঁস এড়াতে সংসদ ও প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।

গত কয়েক বছরে পরীক্ষার আগেই একাধিকবার ফাঁস হয়ে গিয়েছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার (HS Exam) প্রশ্নপত্র। ঠিক কী কারণে প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গিয়েছে, শিক্ষা দফতরের তরফে তার নির্দিষ্ট কোনও কারণ দেখানো সম্ভব হয়নি। বিশেষত যেখানে নকল রুখতে একাধিক নির্দেশিকা কার্যকর করার কথা বলা রয়েছে, সেখানে কীভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে রাজ্য সরকারকেও। যদিও এই বিষয়ে পুলিসের তরফে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হলেও প্রশ্নপত্র ফাঁস কার্যত আটকানো সম্ভব হয়নি। তাই এবার কড়া হাতে নিয়মমাফিক সুষ্ঠুভাবে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা পরিচালনা করতে উদ্যোগী সংসদ ও প্রশাসন।

প্রসঙ্গত, এই বছর বারংবার বদল হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার (HS Exam) সূচিতে। প্রথমে সর্বভারতীয় জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার জন্য উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার দিন পরিবর্তন করা হয়। পরে আসানসোল লোকসভা কেন্দ্র ও বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের জন্য বদল হয় পরীক্ষার সূচিতে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ১২ এপ্রিল আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে ও বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ এপ্রিল নির্বাচনের ফলপ্রকাশ হবে। ১৭ মার্চ কমিশন ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৮ মার্চ। একইদিনে ছত্তিশগড়, বিহার, মহারাষ্ট্রের ৩টি বিধানসভা কেন্দ্রেও উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

২০১৯ সালে আসানসোল লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মুনমুন সেনকে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপি নেতা বাবুল সুপ্রিয়। পরপর দু’বার কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীও হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে তিনি যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে। সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দেন তিনি। ফলে আসানসোল লোকসভা সাংসদ শূন্য হয়ে পড়ে। অন্যদিকে ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়। কিন্তু গত বছর কালীপুজোর রাতে মৃত্যু হয় রাজ্যের প্রাক্তন পঞ্চায়েতমন্ত্রীর। তাই আগামী ১২ এপ্রিল একইসঙ্গে আসানসোল লোকসভায় ও বালিগঞ্জ বিধানসভায় উপনির্বাচনের ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

উচ্চমাধ্যমিকের নতুন সূচি অনুযায়ী ২ এপ্রিল হবে প্রথম ভাষার পরীক্ষা। ৪ এপ্রিল দ্বিতীয় ভাষার, ৫ এপ্রিল স্বাস্থ্যবিদ্যা, অটোমোবাইল, আইটি ও আইটিইস ইত্যাদি ভোকেশনাল বিষয়ের পরীক্ষা হবে। এরপর উপনির্বাচনের কারণে পরের কয়েকদিন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। এরপর ১৬ এপ্রিল গণিত, সাইকোলজি, অ্যান্থ্রোপলজি ও ইতিহাস বিষয়ের, ১৮ এপ্রিল অর্থনীতির, ১৯ এপ্রিল কম্পিউটার সায়েন্স, মডার্ণ কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, পরিবেশবিদ্যা, মিউজিক, স্বাস্থ্যবিদ্যা ও ভিজ্যুয়াল আর্টসের, ২০ এপ্রিল কমার্শিয়াল ল, দর্শন ও সমাজবিদ্যার, ২২ এপ্রিল পদার্থবিদ্যা, পুষ্টিবিদ্যা, শিক্ষাবিজ্ঞান ও হিসাবশাস্ত্রের, ২৩ এপ্রিল স্ট্যাটিটিক্স, ভূগোল, হোম ম্যানেজমেন্ট বিষয়ের, ২৬ এপ্রিল সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন, রসায়নবিদ্যা, সংস্কৃত, পারসি, আরবি ও ফরাসির এবং ২৭ এপ্রিল জীববিদ্যা, বিজনেস স্টাডিজ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা হবে।

কোভিডের প্রকোপ যেহেতু এখনও সম্পূর্ণ নির্মূল হয়ে যায়নি, সেই কারণে এবার হোম সেন্টারেই হতে চলেছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। ২০২০ সালের তুলনায় এই বছর উচ্চমাধ্যমিকের (HS Exam) পরীক্ষাকেন্দ্রও বাড়ানো হয়েছে। মোট পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ৬৭২৭ টি। প্রতি বছরের মতো এ বছরও পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনও ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা মোবাইল থাকলে তাকে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে না। যেদিনগুলিতে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা (HS Exam) থাকবে, সেদিনগুলিতে পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে ১০০ কিমি পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হবে, এমনটাই জানানো হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের পক্ষ থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.