এক সপ্তাহেই রাজ্যে তৃতীয় ঢেউ? ‘অসম্ভব নয়!’ স্বাস্থ্যভবনের সতর্কবার্তায় মত বিশেষজ্ঞদের

Home কলকাতা এক সপ্তাহেই রাজ্যে তৃতীয় ঢেউ? ‘অসম্ভব নয়!’ স্বাস্থ্যভবনের সতর্কবার্তায় মত বিশেষজ্ঞদের
এক সপ্তাহেই রাজ্যে তৃতীয় ঢেউ? ‘অসম্ভব নয়!’ স্বাস্থ্যভবনের সতর্কবার্তায় মত বিশেষজ্ঞদের

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: একদিকে চলছে বর্ষবরণের জোরদার উৎসব। কলকাতা থেকে দীঘা, শান্তিনিকেতন থেকে শৈলশহর, ঢল নেমেছে পর্যটকের। এরইমধ্যে ওমিক্রন আবহে ১ সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে খোদ স্বাস্থ্য দপ্তর। রাজ্যের করোনা-পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রও।

ওমিক্রন-উদ্বেগের মাঝেই করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। স্বাস্থ্য ভবনের অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে এই তথ্য। সূত্রের খবর, এক সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্যভবনের বিশেষজ্ঞরা। কলকাতায় গোষ্ঠী সংক্রমণের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিদেশে না গিয়ে রাজ্যের কমপক্ষে চারজন ওমিক্রনের দৌলতে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। তৃতীয় ঢেউয়ে প্রতিদিন ৩০-৩৫ হাজার সংক্রমণের পূর্বাভাস দিচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর। আগামী মার্চ-এপ্রিল নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা।

উল্লেখ্য, বাংলায় দ্রুত হারে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। উদ্বেগ বাড়িয়ে ৬ মাস পরে ফের রাজ্যে করোনার দৈনিক সংক্রমণ ২ হাজার পার করে গিয়েছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। কয়েক দিনের ব্যবধানে অনেকটাই বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। দেশের বিভিন্ন রাজ্যেও হু হু করে বাড়ছে আক্রান্তর সংখ্যা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের সতর্কবার্তা। এ ব্যাপারে কী ধরনের সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে, সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা তাঁদের মতামত জানিয়েছেন। তাঁরা কোভিড-বিধি কঠোরভাবে পালনের ওপর জোর দিয়েছেন। মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি নিয়মিত হাত স্যানিটাইজ করা বা সাবান জলে হাত ধোওয়ার বিধি পালনের কথা বারংবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন। তাঁরা বলেছেন, এ ক্ষেত্রে কোনও গা-ছাড়া মনোভাব বিপদ ডেকে আনতে পারে।

রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তৃতীয় ঢেউয়ের সতর্কবার্তা প্রসঙ্গে চিকিৎসকরা বলছেন,  বাস্তবে এমন দিনের মুখোমুখি যে হতে হবে, তা বেশ কিছুদিন ধরেই অনুমান করা হচ্ছিল। গত বছরের মার্চ মাসেও যখন দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কার কথা বলা হয়, তখনও তা কার্যত অস্বীকারের মনোভাব ছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত আছড়ে পড়েছিল করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। যা গোটা দেশকে মৃত্যু মিছিলের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়। তাই তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কার প্রেক্ষিতে সমস্ত ধরনের জন সমাবেশ, জমায়েত বন্ধ হওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই বর্ষবরণের হৈ-হুল্লোড় এড়িয়ে চলতে, সরকারের চেয়ে নাগরিকদের দায়িত্বই অনেক বেশি বলে তাঁদের মত।আর তা না হলে আগামী তিন-চারদিনের মধ্যে এর খেসারত দিতে হতে পারে। ওমিক্রনের মতো অতি সংক্রামক ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাব হলে তা সাস্থ্য পরিকাঠামোর উপর চাপ ফেলবে বলেও আশঙ্কা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.