অর্থনীতির (economy) ঘুরে দাঁড়ানোর পথে অন্তরায় শান্তিবিঘ্ন, নির্মলার (nirmala) আশঙ্কা

Home দেশের মাটি অর্থনীতির (economy) ঘুরে দাঁড়ানোর পথে অন্তরায় শান্তিবিঘ্ন, নির্মলার (nirmala) আশঙ্কা
অর্থনীতির (economy) ঘুরে দাঁড়ানোর পথে অন্তরায় শান্তিবিঘ্ন, নির্মলার (nirmala) আশঙ্কা

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন নির্মলা সীতারমন। এই যুদ্ধের প্রভাব যেভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়েছে, তাতে তাঁর আশঙ্কা স্বাভাবিক। একে রামে রক্ষে নেই…! দোসর এবার যুদ্ধ! করনোয় সারা বিশ্বের অর্থনীতি ধস্ত। এর প্রভাব থেকে বাদ যায়নি ভারতও। সবে করোনার দমক কমতে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল। তাতে বাধ সাধল ইউক্রেম-রাশিয়া যুদ্ধ। আবার অর্থনৈতিক সঙ্কটের আশঙ্কা।অর্থনীতির আকাশে যে ফের কালো মেঘ ঘনাচ্ছে, তা খোলাখুলিই স্বীকার করে নিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পরে আজ প্রথম মুখ খুলেই মোদী সরকারের অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ভারতের উন্নয়ন চ্যালেঞ্জের মুখে। ভারত-সহ গোটা বিশ্বের অর্থনীতির অতিমারির গ্রাস থেকে বেরিয়ে আসার জন্য শান্তি প্রয়োজন। এখন সেই শান্তিই ভঙ্গ হচ্ছে। যার ফলে ভারতের অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া জোর ধাক্কা খাবে। মানবকল্যাণের স্বার্থে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর পথ অবাধ হওয়া প্রয়োজন।

অর্থমন্ত্রীর আশঙ্কা যে অমূলক নয়, তা বুঝিয়ে আজ আর্থিক বিশ্লেষক সংস্থা নোমুরা জানিয়েছে, ইউক্রেন-সঙ্কট এশিয়ার যে সব দেশের অর্থনীতিতে সব থেকে বেশি ধাক্কা দেবে, ভারত তার অন্যতম। রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ শুরুর পরেই এক ঝটকায় আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৫ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে। অশোধিত তেলের দাম বাড়লে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়বে। অর্থনীতিবিদদের মতে, উত্তরপ্রদেশের ভোট মিটলেই পেট্রল-ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৬ থেকে ৮ টাকা বেড়ে যাবে। তার জেরে খাদ্যপণ্য থেকে সমস্ত জিনিসপত্রের দামই বাড়বে। নোমুরার- মতে, তেল, খাদ্যপণ্যের দাম টানা বাড়তে থাকলে ভারত, তাইল্যান্ড, ফিলিপাইনসের মতো এশিয়ার দেশগুলি সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আজ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া-ও তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের প্রভাব সমস্ত পণ্যের দামের উপরেই পড়বে। স্টেট ব্যাঙ্কের মুখ্য অর্থনীতিবিদ সৌম্যকান্তি ঘোষের মতে, অশোধিত তেলের দাম ইতিমধ্যেই ১০০ ডলার ছাপিয়ে গিয়েছে। সোনা, প্ল্যাটিনামের মতো অন্যান্য দামি ধাতুর দামও বাড়ছে। ইউক্রেন গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য রফতানিকারী দেশ। কৃষ্ণসাগরে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা এলে গম, ভুট্টার দাম বাড়বে। দেশের বাজারে জিনিসপত্রের দাম তো বাড়বেই, বেড়ে যাবে বিদেশি মুদ্রার লেনদেনের ঘাটতিও। রাশিয়ার উপরে আর্থিক নিষেধাজ্ঞার ফলে এ দেশ থেকে চা রফতানিতে ধাক্কা লাগতে পারে।আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম বাড়তে শুরু করার পরেই কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকে ‘ত্রাহি, ত্রাহি’ রব উঠেছিল। কারণ, গত ১ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী যে বাজেট পেশ করেছেন, তার হিসেবের তিনটি অনুমান ভুল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এক, আগামী অর্থ বছরে অশোধিত তেলের দাম ৭০ থেকে ৭৫ ডলার থাকবে ধরে নিয়েছে আর্থিক সমীক্ষা। দুই, অর্থমন্ত্রী নিজে লোকসভায় বলেছিলেন, তিনি মূল্যবৃদ্ধির হার ৩.৫% থাকবে বলে আশা করছেন। তিন, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অনুমান ছিল, মূল্যবৃদ্ধির হার গড়ে ৪.৫% থাকবে। নোমুরা-র মতে, অশোধিত তেলের দাম ১০% বাড়লে আর্থিক বৃদ্ধির হার ০.২% অঙ্ক কমে যেতে পারে।অর্থমন্ত্রী আজ মুম্বইয়ে ‘এশিয়া ইকনমিক ডায়লগ ২০২২’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে মেনে নিয়েছেন, ভারত বা অন্য কোনও দেশই এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা আঁচ করতে পারেনি। তাঁর বক্তব্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে পৃথিবীর সামনে এত বড় মাপের বিপত্তি আসেনি। খুব শীঘ্রই শান্তি ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করে নির্মলা বলেন, সে ক্ষেত্রে অর্থনীতির চাঙ্গা হয়ে ওঠা অব্যাহত থাকতে পারে।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছিলেন দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। এবার তিনি কী করেন দেখা যাক। অর্থমন্ত্রীর ঘোষিত সেই অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রশংসা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেছিলেন অর্থমন্ত্রকের ঘোষিত নীতি দেশের জনস্বাস্থ্য সুবিধাগুলি বৃদ্ধি করতে হবে। ছোট এলাকাগুলিতে চিকিৎসা পরিকাঠামোতে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে।সোশ্যাল মিডিয়া পরপর চারটি টুইট করেন নরেন্দ্র মোদী। সেখানে তিনি বলেন, দেশের শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সুবিধে জোরদার করার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওযা হয়েছে। তিনি বলেছেন শিশুদের জন্য হাসপাতালে শষ্যা সংখ্যা বাড়ানোর দিকে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে । শয্যা ও অন্যন্য চিকিৎসা সুবিধে বাড়ানোর জন্যই ২৩.২২০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ করা হয়েছে বলেই নির্মলা সীতারমন জানিয়েছেন।কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারম দেশের অর্থনীতিতে চাঙ্গা করতে আটটি অর্থনৈতিক ত্রাণের কথা ঘোষণা করেছিলে। করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ করার উদ্যোগ নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তেমনই জানান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। সেখানেই তিনি ছোট শিল্পগুলিকে ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি পর্যটন শিল্প উন্নয়নেও জোর দেন। বিদেশীদের এই উৎসাহিত করতে বিনামূল্যে ভিসা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.