ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন(Ukraine-Russia Conflict) : নিরাপত্তা পরিষদে(UNSC) নিরপেক্ষ ভারত(India Abstained)! ব্যাখ্যা দিল্লির

Home বিদেশ-বিভূঁই ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন(Ukraine-Russia Conflict) : নিরাপত্তা পরিষদে(UNSC) নিরপেক্ষ ভারত(India Abstained)! ব্যাখ্যা দিল্লির
ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন(Ukraine-Russia Conflict) : নিরাপত্তা পরিষদে(UNSC) নিরপেক্ষ ভারত(India Abstained)! ব্যাখ্যা দিল্লির

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন (Ukraine-Russia Conflict) নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নিরপেক্ষ ভূমিকা নিল ভারত(India)। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে(UNSC)রাশিয়ার বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটিতে অংশ নিল না(Abstain) দিল্লি। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে আমেরিকা এবং সহযোগী রাষ্ট্রগুলির আনা ওই প্রস্তাব ঘিরে ভোটাভুটিতে প্রত্যাশা মতোই ভেটো দিল রাশিয়া।

নিরাপত্তা পরিষদে আনা এই প্রস্তাবে কড়া ভাষায় ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের নিন্দা করা হয়েছে। একইসঙ্গে ইউক্রেন থেকে অবিলম্বে রুশ সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। আমেরিকার সঙ্গেই প্রস্থাবটির খসড়া তৈরি করে আলবেনিয়া।১৫ জন স্থায়ী সদস্যের মধ্যে রাশিয়ায় বিরুদ্ধে আনা ওই প্রস্তাবের পক্ষে ১১টি ভোট পড়লেও, স্থায়ী সদস্যের ভেটো প্রয়োগে, প্রস্তাবটি পাস হয়নি। ভারত(India Abstained)ছাড়াও চিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ভোটাদানে বিরত থাকে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে ভেটো প্রয়োগের ক্ষমতাই এখন মস্কোর হাতে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

প্রস্তাব পাস না হলেও, নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে আমেরিকা ও সহযোগী রাষ্ট্রগুলি, প্রতিবেশী ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনের নির্দেশের নিন্দায় মুখর হয়।

এদিকে নিরাপত্তা পরিষদে আমরিকার স্থায়ী প্রতিনিধি লিন্ডা থমাস গ্রিনফিল্ড প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়ে নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করে রাশিয়ার উদ্দেশে সুর চড়িয়ে বলেন, ‘আমি এখানে দাঁড়িয়ে একটা বিষয় স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে চাই, রাশিয়া ভেটো দিয়ে আমাদের প্রস্তাব আটকে দিতে পারে, কিন্তু আমাদের আওয়াজকে দমিয়ে রাখার কোনও ক্ষমতা রুশদের নেই। ঠিক যেমনভাবে ভেটো প্রয়োগ করে সত্য, নৈতিকতা এবং ইউক্রেনবাসীকে আটকে রাখা রাশিয়ার পক্ষে সম্ভব নয়।’

আমেরিকার সুরেই রাষ্ট্রসংঘে ব্রিটিশ প্রতিনিধি বারবারা উডওয়ার্ডের বক্তব্য, ‘এ কথায় কোনও ভুল নেই যে এই মুহূর্তে রাশিয়া পুরোপুরি কোণঠাসা। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনকে(Ukraine-Russia Conflict) কোনও দেশই সমর্থন করছে না।’ ব্রিটিশ প্রতিনিধির কথা অনুযায়ী, ‘ক্ষমতা জাহির করতে রাশিয়ার এই নির্লজ্জ আচরণ আন্তর্জাতিক দুনিয়াকে একসূত্রে বেঁধে রাখতে চেনা ছন্দের উপর বিপজ্জনক আঘাত।’

বর্তমানে রাশিয়া পর্যায়ক্রমে নিযুক্ত নিরাপত্তা পরিষদের(UNSC) সভাপতির আসনে।বারবারার কথা থেকে মনে করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক দুনিয়া এই মুহূর্তে একলা পড়ে যাওয়া রাশিয়াকে, খুব শীঘ্রই রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় এরকমই একটি প্রস্তাবের মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতেই রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, আগ্রাসন নয়, কূটনৈতিক আলোচনাই সমাধানের একমাত্র রাস্তা। তবুও কূটনৈতিকই হোক বা দ্বিপাক্ষিক, এখনই ভারত যে দুই বন্ধু রাষ্ট্রের মধ্যে কোনও একজনকে বেছে নিতে রাজি নয়, তা স্পষ্ট। অতএব দিল্লির মধ্যপন্থা মোতাবেকই, নিরাপত্তা পরিষদে আমেরিকার উদ্যোগে রাশিয়ার বিরোধিতায় আনা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটিতে অংশ না নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন, রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টি এস তিরুমূর্তি।

এদিনও সেই ভারসাম্য বজায় রাখল ভারত।ভারত নিজের সেই ত্রিশঙ্কু অবস্থানে দাঁড়িয়েই জানিয়ে দিল, বিরোধ ও বিতর্ক মেটাতে একমাত্র গ্রহণযোগ্য রাস্তা হল আলোচনার দরজা খুলে দেওয়া। এক্ষেত্রে যুযুধান দুই পক্ষের কূটনৈতিক পথে না হাঁটার সিদ্ধান্তকে ‘দুঃখজনক’  বলে ব্যাখ্যা করে দিল্লি।

তবে রুশ-ইউক্রেন সংঘাতের প্রেক্ষিতে ভারত নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে ভোটদানে বিরত থাকলেও, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণকে কিন্তু কড়া ভাষায় নিন্দা করতে দ্বিধা করেনি।  যদিও জানা গিয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কোনও এক পক্ষ নিতে ভারতের উপর আমেরিকার চাপ বাড়ছে।

বৃহস্পতিবারই বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছে ফোন আসে তাঁর মার্কিন কাউন্টারপার্ট আ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের। আমেরিকার বিদেশমন্ত্রী ইউক্রেন ইস্যুতে ভারতের উপর পরোক্ষ চাপ দিয়ে দাবি করেন, এখনই রাশিয়ার ‘পূর্বপরিকল্পিত, প্ররোচনাহীন এবং অনৈতিক’ আক্রমণের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে শক্তিশালী বিরোধিতার পথে যেতে হবে। কিন্তু আমেরিকা-সহ পশ্চিমী দেশগুলির ওই সিদ্ধান্তে শামিল হয়নি নরেন্দ্র মোদি সরকার। বরং ফের আলোচনার মাধ্যমে ইউক্রেন সঙ্কট মেটানোর সওয়াল করেন তিরুমূর্তি। নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য ভারতের তরফে আগেই ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে ‘ভারসাম্যের কূটনীতির’ পথে হাঁটার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। আমেরিকা এবং তার সহযোগী দেশগুলির আনা প্রস্তাবে, ‘ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসনের জন্য রাশিয়ার কড়া নিন্দা’ করা হয়েছিল। শনিবারও দিল্লি পশ্চিমী দুনিয়ার সেই মস্কো বিরোধিতার থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্নই রাখল। যার প্রমাণ মিলেছে গুরুমূর্তির বক্তব্যেও।

নিরাপত্তা পরিষদে ভোটদানে বিরত থাকার সিদ্ধান্তে ভারতের ব্যাখ্যা, ‘ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। অবিলম্বে বৈরিতা এবং হিংসা বন্ধের আবেদন জানাচ্ছি আমরা। একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই ইউক্রেন সঙ্কট সমাধানের পথ মিলতে পারে।’

গুরুমূর্তির বক্তব্য,‘ প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রের উচিত আন্তর্জাতিক আইনের নীতি এবং রাষ্ট্রসংঘের সনদ মেনে চলা, যার মাধ্যমে আমরা গঠনমূলক পথে অগ্রসর হই।’ পাশাপশি দিল্লি বুঝিয়ে দিতে চায়, কোনও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা রক্ষার অধিকারকে, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র সর্বাধিক মর্যাদা দেয়। ফলে অবিলম্বে আগ্রাসন এবং হিংসার পথ পরিহার করা বাঞ্ছনীয়।    তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এখনই সব দেশের বৈধ স্বার্থের কথা বিবেচনা করে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে পদক্ষেপ করা উচিত।’ এই প্রসঙ্গে ২০১৪-১৫ সালের মিনস্ক চুক্তির কথা উল্লেখ করেন তিরুমূর্তি। ইউক্রেন সংক্রান্ত সেই চুক্তি এখনও কার্যকর হয়নি।

উল্লেখ্য সোমবার রাতে ডনবাস বলে পরিচিত, ইউক্রেনের ডোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকার। তার পরেই ওই দুই এলাকায় মস্কো-পন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলিকে সাহায্য করতে রুশ সেনার অনুপ্রবেশ ঘটে। যার জেরে মঙ্গলবার রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। তাতে আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলি পুতিন সরকারের ওই সিদ্ধান্তকে ‘ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত’ বলে সরব হয়। দেশগুলি সমস্বরে জানিয়ে দেয়, সেনা প্রত্যাহার না হলে, আর্থিক নিষেধাজ্ঞা সহ আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় রাশিয়াকে একঘরে করতে যাবতীয় পদক্ষেপের দিকে এগোবে তারা। পাল্টা ভারতের বক্তব্য, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে গঠনমূলক কূটনীতিই এখন একমাত্র পথ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.