মায়ের ওষুধের বদলে মিলল শত্রু পক্ষের(Ukraine Russia Crisis) গোলা! দেশের মাটিতেই ছিন্নভিন্ন ইউক্রেনের ভ্যালেরিয়া

Home বিদেশ-বিভূঁই মায়ের ওষুধের বদলে মিলল শত্রু পক্ষের(Ukraine Russia Crisis) গোলা! দেশের মাটিতেই ছিন্নভিন্ন ইউক্রেনের ভ্যালেরিয়া
মায়ের ওষুধের বদলে মিলল শত্রু পক্ষের(Ukraine Russia Crisis) গোলা! দেশের মাটিতেই ছিন্নভিন্ন ইউক্রেনের ভ্যালেরিয়া

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: সামরিক অভিযানের(Ukraine Russia Crisis) নামে রুশ নির্মমতার বলি ইউক্রেনের আরেক নাগরিক। অসুস্থ্ মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় ওযুধ কিনতে বেরিয়ে আর ফেরা হল না ভ্যালেরিয়া মাকসেটস্কার। দেশের মাটিতেই শত্রুপক্ষের গোলা(Russian tank) ছিন্নভিন্ন করে দিল যুবতীর শরীর। সামনে মৃত্যুর ছায়া দেখেও, নিজের দেশের মাটি আঁকড়ে পড়ে থাকার অদম্য জেদের স্বীকৃতি দিল রাশিয়া। হামলায় নিহত ভ্যালেরিয়ার মা এবং গাড়ির চালকও।

ভ্যালেরিয়া মাকসেটস্কার সদ্য মাকে নিয়ে বসবাস শুরু করেছিলেন কিভের(Kyiv)শহরতলিতে। দেশ ছাড়ার সুযোগ এসেছিল ভ্যালেরিয়ার সামনেও। কিন্তু দেশের মানুষগুলোকে এমন অসহায় অবস্থার মধ্যে ফেলে যেতে পারেননি। বার বার ফিরিয়ে দিয়েছেন দেশান্তরী হয়ে শান্তিতে বাঁচার প্রস্তাব। সেই ভ্যালেরিয়াই মরিয়া হয়ে ওষুধের খোঁজ করছিলেন, মায়ের জন্য। ওষুধের বদলে মিলল গোলা (Russian tank) ।

তিরিশ পেরোনো, পেশায় চিকিৎসাকর্মী ভ্যালেরিয়া আদতে ইউক্রেনের বিতর্কিত এলাকা ডনেৎস্কের বাসিন্দা। কিন্তু রাশিয়ার সহায়তায় বিদ্রোহী গোষ্ঠী সেই অঞ্চলের দখল নেওয়ায়, প্রাণভয়ে এই যুবতী মাকে নিয়ে পালিয়ে আসেন কিভের শহরতলিতে। ডনেৎস্কে আহতদের চিকিৎসা করতেন তিনি। কিভে এসেও ঝাঁপিয়ে পড়েন সেই কাজেই। যুক্ত হন ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশানল ডেভলপমেন্ট বা ইউএসএআইডি-এর সঙ্গে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ (Ukraine russia war) ঘোষণার পর, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এই সংস্থার হয়েই কাজ করে আসছিলেন। অকাতরে যুদ্ধে আহতদের চিকিৎসা চালাচ্ছিলেন। ডনেৎস্কে রুশ বাহিনীর (Ukraine Russia Crisis) লাগাতার বোমাবর্ষণের মধ্যেও কাজ করে গেছেন অকুতোভয় এই যুবতী। গোলার(Russian tank) আঘাতে জখম ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও করে গেছেন। ডনেৎস্কে হামলা থেমে যাওয়ার পর মা’কে নিয়ে চলে আসেন কিভের(Kyiv)শহরতলিতে। সেখানেও কাজে নেমে পড়তে কালবিলম্ব করেননি। সেই মানুষটির জীবনে এমন ভয়াবহ পরিণতির কারণ হল রুশ ট্যাঙ্কের থেকে দুরন্ত গতিতে ছুটে আসা গোলা। আর মাত্র ক’দিন পরই ছিল যাঁর ৩২তম জন্মদিন।

ভ্যালেরিয়ার সামনেও মাকে নিয়ে ইউক্রেনের বধ্যভূমি(Ukraine Russia Crisis) ছাড়ার একাধিক সুযোগ আসে।  কিন্তু বারবারই তাঁর পথ আটকে দাঁড়িয়েছে নিজের দেশের মাটি, স্বদেশের মানুষ। দেশের বাকি পাঁচজনকে মৃত্যুর মুখে ফেলে, নিজে দেশান্তরী হতে পারেননি। বার বার ফিরিয়ে দিয়েছেন অন্য রাষ্ট্রে শরণার্থী হয়ে বেঁচে থাকার প্রস্তাব। নিঃস্বার্থ ভ্যালেরিয়া কি কোনওদিন ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পেরেছিলেন এই দেশপ্রেমই হবে, তাঁর অকাল পরিণতির কারণ!

এইদিন ভ্যালেরিয়া কার্যত মরিয়া হয়ে ওষুধের খোঁজ করছিলেন মায়ের জন্য। কিন্তু ওষুধের বদলে মিলল গোলা। ভ্যালেরিয়ার দেহাবশেষ ছড়িয়ে পড়ল কিভের(Kyiv) রাস্তায়। ভ্যালেরিয়ার মৃত্যুর খবর দিয়েছেন ইউএসএআইডি-র কর্মী সামান্থা পাওয়ার।

এখানেই শেষ নয়, গোলার অভিঘাতে মৃত্যু হয়েছে অদূরেই গাড়িতে বসে থাকা ভ্যালেরিয়ার অসুস্থ মা ইরিনা এবং গাড়ির চালক ইয়ারোস্লাভের। সূত্রের খবর, রাশিয়ার(Ukraine Russia Crisis)  একটি কনভয়কে যাওয়ার রাস্তা দিতে ভ্যালেরিয়াদের গাড়ি পাশ কাটালেও, শত্রুপক্ষ তাঁদের রেহাই দেয়নি।  

সামান্থা তাঁর শোকবার্তায় জানিয়েছেন, ‘রুশ আগ্রাসন(Ukraine russia war) শুরুর সময়ই ভ্যালেরিয়া ইউক্রেন ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে পারতেন। কিন্তু ভ্যালেরিয়া মনে করতেন, দেশ যখন শত্রুপক্ষকে প্রতিরোধ করছে, তখনই নিজের পেশাকে কাজে লাগানোর সর্বোত্তম সময়। তাই দেশ ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই নেই। মায়ের ওষুধের খোঁজ করতে হন্নে হয়ে ঘুরছিলেন, কিন্তু রাশিয়ার গোলা তাঁকেও ছাড়ল না।’

নিজের সহকর্মী এবং বন্ধুবান্ধব মহলে ভ্যালেরিয়ার পরিচিত ছিলেন ‘লেরা’ নামে। দ্য ডেইলি মেলের রিপোর্ট অনুযায়ী, বন্ধুদের চোখে তাঁদের ‘লেরা’ ছিল এক অকুতোভয় নারী। সামান্থা পাওয়ারকে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ডনেৎস্কে শত্রুপক্ষের গোলাগুলির মধ্যে দাঁড়িয়েও কাজ করার থেকে তাঁকে আটকানো যায়নি। এরপর তাঁর পরিবার কিভে চলে আসে। সেখানে ইউএসএআইডি-এর সঙ্গে যোগ দেন ভ্যালেরিয়া। আর মাত্র কয়েদিনের মধ্যেই  তাঁকে এক ডাকে সবাই চিনে যায়। সকলে তাঁকে ভালোবেসে বলতেন, একজন করুণ হৃদয়ের দুঃসাহসী নারী।’

   

২৪ ফেব্রুয়ারি মস্কো থেকে ইউক্রেনে হামলা(Ukraine Russia Crisis) ঘোষণা করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার পর থেকে ২৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ প্রাণের দায়ে ইউক্রেন ছেড়েছেন। যুদ্ধ প্রাণ কেড়েছে  শিশু, মহিলা-সহ শতাধিক মানুষের।

ভ্যালেরিয়ার কর্মস্থল কেমোনিকস-এর চিফ এক্সিকিউটিভ জেমি বুচার ভ্যালেরিয়ার একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমার সংস্থার কর্মী ভ্যালেরিয়া(লেরা)মাকসেটস্কা। পশ্চিম কিভে, মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে বেরিয়ে মারা পড়েছে সে।’ এর পরের ট্যুইটেই বুচারের সংযোজন, লেরা নিজের দেশ ও দেশবাসীর প্রতি এতটাই দায়িত্ববান ছিল যে, যুদ্ধের মুখে দাঁড়িয়েও দেশ ছেড়ে যেতে পারেনি। কিভেই থাকতে মনস্থ করে। বন্ধুদের উদ্দেশে লেখা শেষ ইমেলে ও জানায় ‘আমি কিভে থেকে সেখানকার মানুষকে যথাসম্ভব সাহায্য করতে চাই।’   

সামান্থাই জানিয়েছেন, ভ্যালেরিয়া রাশিয়ার(Ukraine Russia Crisis) নিরীহ নাগরিকদের হত্যালীলায় অত্যন্ত রুষ্ট ছিল। কারণ সে ইউক্রেনের একজন নাগরিক হিসেবে গর্ববোধ করত। আর সে জীবনের পরম সত্যি বলে যা বিশ্বাস করত, তা আঁকড়েই বাঁচতে চাইত।

ভ্যালেরিয়ার জন্ম ও বড় হয়ে ওঠা ইউক্রেনের ডনেৎস্ক অঞ্চলে। ২০১৪-য় রাশিয়ার ক্রিমিয়া আগ্রাসনের সময়ও আহতদের চিকিৎসায় এভাবেই মন প্রাণ উজার করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার শত্রুর জিঘাংসা শেষ করে দিল এক দেশভক্তকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.