‘আট বছরের অ্যালিস রাস্তায় ছটফট করতে করতে মারা গেছে !’ ইউক্রেনের(Ukraine) ফার্স্ট লেডির খোলা চিঠি  

Home বিদেশ-বিভূঁই ‘আট বছরের অ্যালিস রাস্তায় ছটফট করতে করতে মারা গেছে !’ ইউক্রেনের(Ukraine) ফার্স্ট লেডির খোলা চিঠি  
‘আট বছরের অ্যালিস রাস্তায় ছটফট করতে করতে মারা গেছে !’ ইউক্রেনের(Ukraine) ফার্স্ট লেডির খোলা চিঠি  

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: যুদ্ধের নামে  ঠাণ্ডা মাথায়, শুধু নিরীহ নাগরিক নয়, শ’য়ে শ’য়ে শিশুকে হত্যা করছে রাশিয়া। সামরিক অভিযানের নামে ইউক্রেনে(Ukraine) রাশিয়ার হত্যালীলার কথা আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সামনে তুলে ধরলেন ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডি(Zelenska)। বিনা প্ররোচনায় তাঁর দেশের উপর রাশিয়ার হামলা নিয়ে খোলা চিঠি লিখলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কির(President Volodymyr Zelensky) স্ত্রী ওলেনা জেলেনস্কা। এই  চিঠিতে ওলেনা(Zelenska) যুদ্ধবাজ রাশিয়ার প্রতি কখনও ভীষণ রুষ্ট, আবার কখনও চোখের সামনে দেশের মানুষের মৃত্যুমিছিলে আবেগরুদ্ধ। 

যুদ্ধে ইউক্রেন(Ukraine) কী পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলেছে, তা এবার বিশ্বের চোখের সামনে তুলে ধরতে এই খোলা চিঠি ওলেনার। তাতে তিনি রাশিয়ার উদ্দেশে প্রশ্ন রেখেছেন, আর কতদিন চলবে এই গণহত্যা? পৃথিবীর শক্তিশালী দেশগুলি নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে কি এতে ইতি টানতে পারে না? ইউক্রেনের আকাশপথ বন্ধ করতে পারে না?

জেলেনস্কা আবেগের সঙ্গে লিখেছেন, রাশিয়ার যে আক্রমণ করেছে, সত্যিই তাদের পক্ষে তা বিশ্বাস করা কঠিন ছিল। এক সপ্তাহ আগেও যা ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন বলে মনে হয়েছিল, তা আসলে ততটাই বাস্তব। চিঠির মাধ্যমে রুশ আগ্রাসনের ভয়াবহ রূপটা বিশ্বের সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিকের চোখে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন ওলেনা। কেন এই চিঠি, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডি। জানিয়েছেন, ‘আমাকে সংবাদমাধ্যমগুলি ইন্টারভিউয়ের জন্য অনুরোধ করেছিল। বিশ্বাস করুন, সেই পরিস্থিতি নেই। এক সপ্তাহ আগেও যা ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন বলে মনে হয়েছিল, তা এখন কঠোর বাস্তব। আমরা জানি না এই যুদ্ধ কতদিন চলবে। কিন্তু, এই মুহূর্তে যদি পুতিনকে আটকানো না হয়, তবে গোটা বিশ্বের মানুষকে ভয়ঙ্কর বিপদের মুখোমুখি হতে হবে।’  

 তিনি লিখেছেন, ‘২৪ ফেব্রুয়ারি আমাদের ঘুম ভাঙল একটি ঘোষণায়। রুশ সেনা আমাদের দেশে অনুপ্রবেশ করতে শুরু করেছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই রুশ সেনার ট্যাঙ্ক আমাদের সীমানা(Ukrainian border) অতিক্রম করে ভিতরে ঢুকে পড়ল। রুশ বিমান আমাদের আকাশের দখল নিল। গোটা শহরে শুরু হল অবিরাম ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ।’ 

জেলেনস্কার অভিযোগ, ‘ইউক্রেনে (Ukraine) রুশ সেনার উপস্থিতিকে, ক্রেমলিন গোটা বিশ্বের নজরে কৌশলগত বিশেষ সেনা অভিযান বলে যুক্তি দিতে চাইছে। কিন্তু সাদা চোখে আমার একে গণহত্যা ছাড়া আর অন্য কিছু মনে হচ্ছে না।’


যন্ত্রণাকাতর ওলেনার((Zelenska) কলমে উছে এসেছে ছোট্ট অ্যালিসের মৃত্যু। চিঠিতে তিনি ফুলের মতো শিশুটির জীবনের অকাল পরিণতির মর্মান্তিক বিবরণ দিয়েছেন।দুঃস্বপ্নের মতো এইসকল ঘটনাকে, ‘সম্ভবত সবচেয়ে ভয়াবহ এবং ভয়ঙ্কর’ ঘটনাবলী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। চিঠিতে ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডি লিখেছেন, ‘ইউক্রেনের শহর ওখতিরখায় দু’দিন আগেই আট বছরের শিশু কন্যা অ্যালিস রুশ ফৌজের বিস্ফোরণে মারা গিয়েছে । অ্যালিস তার দাদুর সঙ্গে রাস্তায় বেরিয়েছিল সম্ভবত খাবার নিতে। তার দাদু নাতনিকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেও হেরে যান। রাস্তার উপরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশুটি। কিভের আর এক শিশুকন্যা পোলিনা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মারা গিয়েছে। তার সঙ্গে মৃত্যু হয়েছে তার বাবা-মায়েরও। চিঠিতে ১৪ বছরের এক কিশোরের কথাও জানিয়েছেন ওলেনা। আর্সেনলি নামের ওই কিশোরের মাথায় এসে পড়ে যুদ্ধাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ। তাকে বাঁচানো যায়নি কারণ ঠিক সময়ে অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছতে পারেনি মৃত্যুপথযাত্রী আর্সেনলির কাছে।’  

এরপরই বেশ রুষ্ট ওলেনা বলেছেন, ‘রাশিয়া যখন যখন বলবে, সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা হয়নি, ঠিক তখন তখনই আমি নিহত এই তিনটি শিশুর নাম চিৎকার করে বলতে চাই কীভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে।’  

ঘরের বাইরে রুশ সেনার ভারী বুটের শব্দ, মাথার উপর আকাশে চক্কর কাটছে হানাদার বিমান। এই আতঙ্কের পরিস্থিতিতে ইউক্রেনবাসীর(Ukraine) কী ভাবে প্রতিটা দিন, প্রত্যেকটা ঘণ্টা কাটছে, খোলা চিঠিতে তার বিবরণ দিয়েছেন ওলেনা।

ওলেনা((Zelenska) রাশিয়ার কাছেও জানতে চেয়েছেন, তাঁদের দেশে যে ক্যানসারের রোগীরা এখনও বেঁচে আছেন, তাঁরা কী করবেন? যাঁদের হয়তো কেমোথেরাপি হওয়ার কথা ছিল, যাঁদের চিকিৎসা চলছিল, তাঁরা কী ভাবে পাবেন চিকিৎসা। যে রোগীদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে, অ্যাজমা আছে তাঁরা প্রয়োজনে কী ভাবে পাবেন প্রাথমিক চিকিৎসা। তবে কি তাঁরা চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাবেন। আর অসহায় ভাবে তা দেখতে বাধ্য হবেন তাঁদের আত্মীয় পরিজনেরা।

জেলেনস্কার কলমে যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত দেশের ছবি ক্রমশ ফুটে উঠেছে, ‘গত এক সপ্তাহ ইউক্রেনের জন্য কতটা ভয়াবহ ছিল। প্রাণ বাঁচাতে বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন নাগরিকরা। আমি সমস্ত কিছুর সাক্ষী। ভূগর্ভে আটকে থাকা সেইসব মানুষগুলির জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। সুগারের রোগীরা ইনসুলিন পাচ্ছেন না। ওই বাঙ্কারে ক্যানসার রোগীদের কেমোথেরাপি দেওয়া সম্ভব? আপনারাই বলুন। জল নেই, বিদ্যুৎ নেই। মোবাইলে নেটওয়ার্ক নেই। শহরগুলি যেন এক একটা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।’

ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডি, মস্কো ঘোষিত এই যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক দুনিয়ার কোনও বিভ্রান্তি বা ভ্রম থাকলে, তা দূর করতে গিয়ে লিখেছেন, এখানে যুদ্ধের কোনও নীতি মানা হচ্ছে না। ইউক্রেনের সাধারণ নাগরিকদের মাটিতে পিষে  এগিয়ে যাচ্ছে সাঁজোয়া গাড়ি। ইউক্রেনের(Ukraine) পথে এখন থিকথিক করছে শরণার্থীর(refugees) দল। প্রশ্ন রেখেছেন, ওই শরণার্থী মহিলা, শিশুদের ক্লান্ত মুখের দিকে তাকিয়েও কি রাশিয়া বলতে পারে, নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি?

ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডি ওলেনা জেলেনস্কার বয়স ৪৪। বিবাহিত জীবন ১৬ বছরের। তিনি একসময় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির (President Volodymyr Zelensky) কৌতুক প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন । লেখালেখিও করতেন। তাই যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের ছবি এত নিখুঁতভাবে নিজের কলম দিয়ে আঁকতে পেরেছেন তিনি।  

তবে শুধুই আতঙ্ক আর আশঙ্কা নয়।চিঠির একেবারে শেষে দেশের মানুষের মনোবল বাড়াতে ওলেনা জেলেনস্কার বার্তা, ‘আমরা করব জয় নিশ্চয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.