৯৭ শতাংশ পেয়েও মেডিক্যালে সিট পায়নি ছেলে! দেশের শিক্ষাব্যস্থাকেই দায়ী ইউক্রেনে (Ukraine to study) নিহত নবীনের বাবার

Home Uncategorized ৯৭ শতাংশ পেয়েও মেডিক্যালে সিট পায়নি ছেলে! দেশের শিক্ষাব্যস্থাকেই দায়ী ইউক্রেনে (Ukraine to study) নিহত নবীনের বাবার

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: বধ্যভূমি ইউক্রেনে রুশ হামলায় (russia and ukraine conflict) মৃত্যু হয়েছে ইউক্রেনে পড়তে যাওয়া(Ukraine to study) কর্নাটকের নবীন শেখারাপ্পা জ্ঞানগউধরের। আর নবীনের সঙ্গেই যুদ্ধক্ষেত্রে অকাল মৃত্যু হয়েছে একটি পরিবারের স্বপ্ন। হাভেরি গ্রামের পরিবারটি স্বপ্ন দেখেছিল বাড়ির ছেলেকে ডাক্তার হওয়ার। আর ছেলের এই নির্মম পরিণতির জন্য দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকেই দায়ী করলেন সদ্য পুত্রহারা পিতা। দায়ী করলেন দেশের রাজনীতি এবং জাতপাত ব্যবস্থাকে(indian caste system)। বরাবরই মেধাবি ছাত্র ছিল সে৷ স্বপ্ন দেখেছিল চিকিৎসক হওয়ার৷ নিজের এবং পরিবারের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে সে পাড়ি দিয়েছিল সুদূর ইউক্রেনে। ভারতে ডাক্তারি পড়াশোনার খরচ অনেক৷ তাই বেঙ্গালুরুর নবীন শেখরাপ্পা জ্ঞানগৌদার গিয়েছিল ইউক্রেনে মেডিক্যাল নিয়ে পড়তে(Ukraine to study)৷

২১ বছরের ছেলে ইউক্রেনে আটকে। কর্নাটকের হাভেরি জেলার চালাগেরি গ্রামের শেখরাপ্পা জ্ঞানগৌড়ার বাড়িতে এমনিতেই ছেয়ে ছিল দুশ্চিন্তার মেঘ। এরপর বজ্রপাতের মতো আসে খবরটা। রাশিয়ার বিমান হামলায় (Russia-Ukraine War) খারকিভে নিহত বাড়ির ছোট ছেলে নবীন। খারকিভ ন্যাশানল মেডিক্যাল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র । তাঁর মৃত্যুতে যখন শোকে পাথর গোটা পরিবার, সেই স্পর্শকাতর মুহূর্তে, প্রিয়জনদের দগদগে ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা তো দূর বরং নুনের ছিটে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেছেন, ‘মাথায় রাখতে হবে, দেশে মেডিক্যালের প্রবেশিকায় পাশ করতে না পেরেই এরা বিদেশে গিয়েছে।’ কিন্তু নবীনের ইউক্রেনে ডাক্তারি পড়তে যাওয়ার(Ukraine to study) প্রকৃত কারণ ছিল অর্থ৷ তাই মন্ত্রীর অসংবেদনশীলতা বাকরূদ্ধ বাবার মুখেও কথা ফুটিয়েছে। শেখরাপ্পা মৃত ছেলের অপমান মেনে নিতে পারেননি, বলেছেন, ‘অত্যন্ত মেধাবী ছেলে ছিল তাঁর। উচ্চমাধ্যমিকে ৯৭ শতাংশ নম্বর পেয়েও রাজ্যে কোনও মেডিক্যাল সিট পায়নি সে। আর ম্যানেজমেন্ট কোটায় মেডিক্যাল পড়ার খরচ অনেক৷ বড় অঙ্কের ডোনেশনও দিতে হয়৷ বুদ্ধিমান ছেলে-মেয়েরা তাই ইউক্রেনের মতো বাইরে(Ukraine to study)পড়তে যায়৷ কেননা সেখানে পড়াশোনার খরচ ভারতের তুলনায় কম৷ ম্যানেজমেন্ট কোটায় মেডিক্যাল নিয়ে পড়াশোনা করতে হলে কম করেও কোটি টাকার মতো খরচ হয়৷ তাছাড়া ভারতে ডাক্তারি প্র্যাকটিস করতে হলে পড়ুয়াদের ফরেন মেডিক্যাল গ্র্যাজুয়েট পরীক্ষায়(Foreign Medical Graduates Examination)পাশ করা বাধ্যতামূলক৷’ শেখরাপ্পার আক্ষেপ অথচ ছোট থেকে নবীনের স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার।

দেশে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়াতে কোটি টাকার মতো খরচের সামর্থ্য তাঁর কই? ইউক্রেনে শিক্ষার মান যেমন ভাল, এর অর্ধেক খরচে থাকা-খাওয়া সহ পড়া হয়ে যায়। ধার-দেনা করে তাই ছেলেকে পড়তে (Ukraine to study) পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু দুই বিদেশি রাষ্ট্রের যুদ্ধের (Russia-Ukraine War)বলি হতে হল তাঁরই ছেলেকে। শেখরাপ্পা নিজের আক্ষেপের মধ্যে দিয়েই ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটিগুলি তুলে ধরতে চেয়েছেন। যার জন্যই ছেলেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন। যেমন শেখরাপ্পা বলেছেন, ‘আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও জাতপাতকে প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য অত্যন্ত মেধাবী নবীনকেও ডাক্তারি পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হয়।’ শেখরাপ্পা বলেই চলেন, ‘আমি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, জাতপাত ব্যবস্থা (indian caste system), সব কিছুতেই পুরোপুরি বীতশ্রদ্ধ। এখন সবকিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কব্জায়। খোঁজখবর করে জানতে পারি, এখানে কোনও বেসরকারি কলেজে ডাক্তারি পড়াতে গেলে কম করেও আমাকে ৮৫ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা খরচ করতে হত। অগত্যা ওকে ইউক্রেনে (Ukraine to study) পাঠাতে বাধ্য হই। কিন্তু কে জানত যে তার চেয়েও বড় মূল্য চোকাতে হবে!’

রোজ বার তিনেক বাড়িতে ফোন করতেন নবীন। মঙ্গলবার দেড়টার ট্রেন ধরে দেশের পশ্চিম সীমান্তে চলে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। সেখান থেকে রোমানিয়া হয়ে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করতেন। ট্রেন ধরতে যাওয়ার আগে কিছু খাবার কিনতেই বাঙ্কার থেকে বেরিয়ে একটি দোকানের সামনে লাইন দিয়েছিলেন নবীন। ঠিক তার পাশেই অবস্থিত গভর্নরস হাউসটি সরকারি বাড়ি উড়িয়ে দেয় রুশ বাহিনী। নবীনের ভাই হর্ষ জানিয়েছেন, প্রাতরাশের আগে ফোন করেছিলেন নবীন। বাবার সঙ্গে সামান্য কথা হয়। শেখরাপ্পা তখনই ছেলেকে পরামর্শ দেন, রুশ হামলার(Russia-Ukraine War) হাত থেকে বাঁচতে, নিজেদের বাড়ির সামনে যেন ভারতের পতাকা লাগিয়ে রাখে নবীনরা।

কিছুক্ষণ পরে আবার ফোন করার কথা থাকলেও সেই ফোন আর আসেনি। হর্ষ জানান, দুপুর ২টোর পরে বাড়ি থেকে নবীনকে ফোন করা হলে তা বেজে যায়। বার চারেক বাজার পরে এক মহিলা ফোন ধরে জানান, এই ফোনের মালিককে মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অল্প কিছুক্ষণ পরেই দিল্লির বিদেশ মন্ত্রক থেকে বাড়িতে ফোন করে নবীনের মৃত্যু সংবাদ জানানো হয়। নবীনের মৃত্যুর জন্য আপাতভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ(russia and ukraine conflict) দায়ী হলেও, ২১ বছরের তরতাজা এই যুবকের মৃত্যু কিন্তু আমাদের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সময় হয়েছে, দীর্ঘদিন চলে আসা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটিগুলির দিকে নজর দেওয়ার। যেমন প্রথমেই আসে, সামান্য অক্ষমতার দরুন কীভাবে ছেলেমেয়েদের দেশের বাইরে পা রাখতে হয়, যার শেষ হয় এরকমই কোনও নির্মম পরিণতিতে।

শিক্ষা সকলের জন্য উন্মুক্ত হোক, কখনওই তা যেন টেবিলে টাকার থলি ছুঁড়ে দেওয়া মানুষদের একচ্ছত্র অধিকারে পরিণত না হয়। তাহলে শেখরাপ্পার জ্ঞানগৌড়ার মত মধ্যবিত্ত এক বাবা, পেপারমিলের অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মীর সন্তানের মতোই আরও অনেককে নিজের রক্ত দিয়ে স্বপ্নের মূল্য চোকাতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.