ইউক্রেনের মসজিদে আশ্রিতদের টার্গেট করে রুশ(RUSSIA-UKRAINE WAR)বোমা হামলা! ‘টার্নিং পয়েন্টে যুদ্ধ’, দাবি জেলেনস্কির

Home বিদেশ-বিভূঁই ইউক্রেনের মসজিদে আশ্রিতদের টার্গেট করে রুশ(RUSSIA-UKRAINE WAR)বোমা হামলা! ‘টার্নিং পয়েন্টে যুদ্ধ’, দাবি জেলেনস্কির
ইউক্রেনের মসজিদে আশ্রিতদের টার্গেট করে রুশ(RUSSIA-UKRAINE WAR)বোমা হামলা! ‘টার্নিং পয়েন্টে যুদ্ধ’, দাবি জেলেনস্কির

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক দুনিয়াকে রাশিয়ার বার্তা, ইউক্রেনে যুদ্ধ(RUSSIA-UKRAINE WAR) নয়, কৌশলগত সেনা অভিযান চলছে। সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু নিরীহ মানুষকে পিষে দিয়েই ইউক্রেন ভূখণ্ডে এগিয়ে যাচ্ছে রুশ সেনার সাঁজোয়া গাড়ি। একদিকে ইউক্রেনের রাজধানী কিভের দ্বার প্রান্তে বিপুল সেনা সমাবেশ(Russian Invasion of Ukraine)। অন্য দিকে শহরের জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলি লক্ষ্য করে এবার হামলা চালাতে শুরু করল রাশিয়া।

ইউক্রেনের দাবি, এবার নিরীহ নাগরিকদের উপর সরাসরি আঘাত হানার কৌশলে নেমেছে মস্কো((RUSSIA-UKRAINE WAR)। সেই লক্ষ্যেই মারিওপোলের মসজিদে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। একদিকে রাশিয়ার মুর্হুমুহু বোমা বর্ষণ আর অন্যদিকে মসদিজের ভিতর তখন প্রাণভয়ে কুঁকড়ে যাওয়া মহিলা,শিশু সহ ৮০ জন মানুষ জীবন-মৃত্যুর মাঝে দাঁড়িয়ে। বোমার আঘাত থেকে বাঁচতেই ঘরবাড়ি ছেড়ে এরা সকলে এই মসজিদেই আশ্রয় নিয়েছিলেন।

ইউক্রেনের(Ukraine)বিদেশ মন্ত্রকের ট্যুইট, ‘রুশ দখলদারেরা মারিওপোল শহরের সুলতান সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিশেন্ট এবং তাঁর পত্নী রক্সোলানা(হারেম সুলতান) মসজিদে বোমা হামলা চালিয়েছে। সেখানে ৮০ জনের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। এই আশ্রিতদের মধ্যে তুরস্কের কয়েকজন নাগরিকও ছিল।’

ইউক্রেন আক্রমণের শুরু থেকেই রাশিয়া সাধারণ মানুষজনকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। উপর্যুপরি বোমা হামলার পরই মসজিদ ঘিরে আকাশের দিকে উঠতে থাকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী।  এদিকে রুশ সেনা গোটা শহর ঘিরে রাখায়, তুরস্কের নাগরিকসহ মারিওপোলের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ বারবার বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ইউক্রেন। এই শহরে এখনও কয়েক লক্ষ মানুষ বন্দি দশায় দিন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে নিজেদের হামলার পক্ষে যুক্তি সাজিয়ে রাশিয়ার((Russian invaders) বক্তব্য, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে  দেশের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে ব্যর্থ ইউক্রেন সরকার। ইউক্রেনে অবস্থিত তুরস্কের দূতাবাসের মুখপাত্র সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, মসজিদটিতে শিশু ও বয়স্ক মিলিয়ে মোট ৮৬ জন আশ্রয় নিয়েছিল।

এদিকে প্রবল শক্তিতে((RUSSIA-UKRAINE WAR) হামলার অভিঘাত বাড়িয়েছে রুশ সেনা। পাশাপাশি রুশ বিমান হামলার মুখে পড়ে বিপর্যস্ত কিভ নতুন করে সঙ্কটের মুখে। ইউক্রেনে হামলার পরদিনই রাজধানী কিয়েভে ঢুকে পড়লেও এখনও সেটি দখলে আনতে পারেনি রুশ সেনা। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাত থেকেই, একের পর এক বিস্ফোরণের ভয়াবহ শব্দ থেকে মনে করা হচ্ছে আক্রমণের গতি কয়েকগুণ বাড়িয়ে এবার কিভের দখল নিতে মরিয়া পুতিন বাহিনী। ইতিমধ্যেই তছনছ হয়ে গিয়েছে ওই বিধস্ত ইউক্রেনের রাজধানী শহর। এয়ার স্ট্রাইকে((Russian Invasion of Ukraine) ধ্বংস ইউক্রেনের এয়ারবেস। ধ্বংস একের পর এক সেনা ঘাঁটি। ইতিমধ্যেই তছনছ হয়ে গিয়েছে ওই বিধস্ত ইউক্রেনের রাজধানী শহর।

আকাশপথে হামলার পাশাপাশি সীমান্তে ইউক্রেন পেরিয়ে ঢুকে পড়েছে রাশিয়ার পদাতিক সেনাও। পাশাপাশি সাঁজোয়া গাড়িতে বসানো হয়েছে ‘বিএম-২১ গ্রাদ’ রকেট। শহরের ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতে এই ‘মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম’-এর ধ্বংস ক্ষমতা মারাত্মক। গত ২৪ ঘণ্টায় কিভের বিভিন্ন আবাসিক এলাকাগুলি থেকেও প্রচণ্ড বিস্ফোরণের খবর মিলেছে বলে জানা গেছে। ফলে বহু মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা মোটেও অমূলক নয়। মুর্হুমুহু এয়ার স্ট্রাইকে ধ্বংস ইউক্রেনের এয়ারবেস। ধ্বংস একের পর এক সেনা ঘাঁটি। রুশ রকেট(Russian rocket) হানায় কিভ সংলগ্ন ভাসলকিভ শহরের একটি এয়ার বেস ধুলোয় মিশে গেছে। শহরের মেয়র নাতালিয়া বালাসিনোভিচের কথায়, তাঁদের একটি অস্ত্রভাণ্ডারকেও টার্গেট করেছে রুশ রকেট((Russian rocket)।

 কিভের উপর ক্রেমলিন আগ্রাসনের(RUSSIA-UKRAINE WAR) ১৭ দিনের মাথায় রাশিয়ার আগ্রাসী((Russian invaders) চেহারা থেকে এবার নথদাঁত বের করতে শুরু করেছে বলে মত আর্ন্তজাতিক মহলের একাংশের। এদিকে শুক্রবার দক্ষিণ ইউক্রেনের (Ukraine) মেলিটোপোল শহরের মেয়র ইভান ফেডোরোভকে অপহরণ করেছে রুশ সেনা। এমনই অভিযোগ খোদ প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির। জানা গিয়েছে, অপহরণের পরও তিনি মুখ খুলতে অস্বীকার করেছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় ত্রাণ দিতে গিয়েই তিনি অপহৃত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ইউক্রেনের পার্লামেন্টের ট্যুইট অনুযায়ী শত্রুপক্ষের কথা অমান্য করার শাস্তি হিসেবেই এই অপহরণ ।

রুশ হামলা শুরুর পর থেকে, এতদিন সবচেয়ে নিরাপদ শহর বলে পরিচিত ছিল মধ্য ইউক্রেনের ডিনিপ্রো। সেখানেও অসামরিক এলাকায় তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায়(Russian rocket)ধূলিসাৎ হয়েছে একটি জুতোর কারখানা, প্রাণ গিয়েছে এক নিরাপত্তারক্ষীর। খারকিভের কাছে বিশেষভাবে সক্ষমদের হোমেও বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। হামলার সময় সেখানে আবাসিক ছিলেন ৩৩০ জন। এঁদের যে কেউ বা অনেকেই মারা পড়তে পারতেন। ইউক্রেনের অভিযোগ, ইচ্ছে করেই জনবসতিকে টার্গেট করছে রুশ সেনা।

রাশিয়ার তরফে অবশ্য বলা হচ্ছে, মস্কো কখনওই যুদ্ধ চায়নি। তারা যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ শেষ করতে চায়। কিন্তু দুপক্ষ আলোচনার টেবিলে বসেও মীমাংসা খুঁজে না পাওয়ায় যুদ্ধ(RUSSIA-UKRAINE WAR) দীর্ঘদিন চলতে পারে, এই আশঙ্কা বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করে চলেছেন, ইউক্রেন এখন যুদ্ধের ‘মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মুহূর্তে’ এসে দাঁড়িয়েছে। যদিও মস্কো-কিভ সংঘাতের(RUSSIA-UKRAINE WAR) শুরু থেকেই নিজেদের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী জেলেনস্কি। কিভ দখল করতে সীমান্তের কাছে, রাশিয়া সেনা সমাবেশ বাড়াতেই, এই মন্তব্য করলেন জেলেনস্কি। দেশের মানুষের মনোবল বাড়াতে জেলেনস্কির ভোকাল টনিক, ‘ আর কতদিনের মধ্যে আমাদের ভূখণ্ডকে পুরোপুরি দখলমুক্ত করতে পারব, তা বলা অসম্ভব। শুধু এইটুকুই বলতে পারি, আমরা তাকরে দেখাবই। আমরা ইতিমধ্যেই নিজেদের জয়ের লক্ষ্যে অনেকটাই এগিয়েছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.