বেসরকারিকরণের প্রতিবাদ! ১৬-১৭ ডিসেম্বর দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট

Home দেশের মাটি বেসরকারিকরণের প্রতিবাদ! ১৬-১৭ ডিসেম্বর দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট
বেসরকারিকরণের প্রতিবাদ! ১৬-১৭ ডিসেম্বর দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে আগামী দু‘দিন দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্ক আধিকারিক ও কর্মচারীদের যৌথ সংগঠনের ডাকা এই ধর্মঘটে, সারা দেশের পাশাপাশি এরাজ্যেও ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর অর্থাৎ বৃহস্পতি ও শুক্রবার, সকল ব্যাঙ্ক ও এটিএম পরিষেবা বন্ধ থাকবে। শনিবার সকাল থেকে ফের স্বাভাবিক হবে পরিষেবা।

যদিও দু‘দিন ধর্মঘট চলাকালীন ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং ও হাসপাতাল এলাকায় এটিএম পরিষেবা সচল থাকবে বলে জানা গিয়েছে। ব্যাঙ্ক কর্মীদের মিলিত সংগঠন ইউনাইটেড ফেডারেশন অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নের তরফে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে ধর্মঘটের কথা ঘোষণা করা হয়। এই ধর্মঘট সফল করার জন্য সাধারণ মানুষের সহযোগিতার অনুরোধ জানান তাঁরা।

সংগঠনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বৃহস্পতি ও শুক্রবার গোটা দেশের মতোই এরাজ্যেও সমস্ত সরকারি, বেসরকারি ব্যাঙ্কের প্রায় ৬ হাজার শাখা ও ১২ হাজার এটিএম বন্ধ থাকবে। ধর্মঘটের কারণ হিসেবে এদিন তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের জনস্বার্থ বিরোধী নীতিকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন । তাঁদের অভিযোগ, দু‘টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ককে বেসরকারিকরণ করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে কেন্দ্র সরকার ।

আগামী দিনে এই বেসরকারিকরণ চূড়ান্ত করলে শুধুমাত্র ব্যাঙ্ক কর্মচারী অথবা আধিকারিকদের ক্ষতি হবে না, আরও বেশি লোকসানের মুখে পড়বেন সাধারণ মানুষ। গরিব মানুষ থেকে শুরু করে কৃষকদের, স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ার আশা ছাড়তে হবে। পড়ুয়ারাও উচ্চশিক্ষার জন্য অল্প সুদে আর ঋণ পাবেন না। অন্যান্য যে সমস্ত কল্যাণমূলক পরিষেবা মানুষের কাছে পৌঁছয় সেগুলিতেও ব্যাঘাত ঘটবে বলে দাবি ব্যাঙ্ক সংগঠনের কর্তাদের। সংগঠনের কর্তারা জানান, ব্যাঙ্কে মানুষের কষ্টার্জিত আমানত আর সুরক্ষিত থাকবে না। তাই আমজনতার স্বার্থ সুরক্ষিত করতেই এই দু‘দিনব্যাপী ধর্মঘট।

যদি এই ধর্মঘট হওয়ার পরেও সরকারের হুঁশ না ফেরে তাহলে লাগাতার আন্দোলনের পথে যাওয়া হবে বলে হুমকি দিয়ে রেখেছে সংগঠন। তাঁদের অভিযোগ, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বিপুল শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও কর্মী নিয়োগ করছে না। ফলে যতই আধুনিকীকরণ হোক না কেন ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় খামতি থেকে যাচ্ছে। যার জেরে অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাহক পরিষেবা বিঘ্নিত হয়ে, সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করছে। এই অসন্তোষ তৈরি করাই কেন্দ্রীয় সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তাঁদের দাবি। এই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে সরকারি ব্যাঙ্কের ওপর থেকে ক্রমশ আস্থা ও বিশ্বাস কমানোর চেষ্টা করছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.