প্রথমবার নিজের স্কুলে আয়োজিত হচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা (HS Exam), প্রস্তুতিতে ত্রুটি রাখতে নারাজ সংসদ

প্রথমবার নিজের স্কুলে আয়োজিত হচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা (HS Exam), প্রস্তুতিতে ত্রুটি রাখতে নারাজ সংসদ

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: আগামী ২ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এই বছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা (HS Exam)। প্রায় ৮ লক্ষ পরীক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় বসতে চলেছেন। বেনজিরভাবে এবার পরীক্ষা চলবে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত। এর আগে উচ্চমাধ্যমিকের ক্ষেত্রে এত দীর্ঘ রুটিন লক্ষ্য করা যায়নি। পাশাপাশি সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই বছর প্রথম উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নিজের স্কুলেই দিতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা। প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে একজন করে স্পেশাল অবজারভার বা সরকারি আধিকারিক থাকবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী সিসিটিভি সার্ভেলেন্সের (CCTV Surveillance) ব্যবস্থাও থাকছে। রাজ্যে মোট ৬৭২৭টি পরীক্ষাকেন্দ্র রাখা হয়েছে। ২৫ মার্চ থেকে স্কুলগুলিতে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের অ্যাডমিট কার্ড দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি ওই দিন থেকেই দেওয়া হচ্ছে একাদশ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট। এবছর উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু হয়েছে প্রশ্নপত্র বিতরণের কাজ। গত বুধবার মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর হলে পর্ষদের তরফে এক প্রস্তুতি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের (West Bengal Council Of Higher Secondary Education) সভাপতি ড. চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য সহ মেদিনীপুর আঞ্চলিক বিভাগের বিভিন্ন আধিকারিক ও শিক্ষকরা।

কেন নিজের স্কুলে পরীক্ষাকেন্দ্র? এই প্রশ্নের উত্তরে সংসদ সভাপতি ড. চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, ‘এই প্রথম নিজের স্কুলে পরীক্ষাকেন্দ্র হচ্ছে উচ্চমাধ্যমিকের (HS Exam)। দু’বছর স্কুলে পড়াশোনা বন্ধ থাকায় পড়ুয়ারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তারা যাতে পরীক্ষা চলাকালীন চাপমুক্ত থাকে তার জন্যই নিজের স্কুলে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে’। তবে বীরভূমের বগটুইকাণ্ডের পর ওই এলাকার ছাত্রছাত্রীদের মানসিক পরিস্থিতি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। আলোচনার পর অন্য কোনও পদ্ধতি অবলম্বন করা যায় কিনা সেবিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন সংসদ সভাপতি।

উল্লেখ্য, করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা সামলে ফেব্রুয়ারি মাসে খুলেছে স্কুল। গত বছর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কার কথা শুনিয়েছিল স্বাস্থ্য দফতর। সেই আশঙ্কা থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। পরবর্তীকালে দৈনিক সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতেই স্কুল খোলার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় এক মাস পর পড়ুয়াদের কোলাহলে মুখরিত হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্বাভাবিকভাবে কোভিড সংক্রমণের কথা মাথায় রেখেই এবার বাড়ানো হয়েছে উচ্চমাধ্যমিকের (HS Exam) পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা। শিক্ষা সংসদ সূত্রে খবর, রাজ্য জুড়ে মোট ৬৭২৭টি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষাগ্রহণ চলবে। এর পাশাপাশি অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসছে শিক্ষকনেতাদের একাংশের তরফ থেকে। তাঁদের বক্তব্য, পরীক্ষাকেন্দ্র বেড়েছে ঠিকই কিন্তু রাজ্যে বাড়েনি শিক্ষকদের সংখ্যা। ফলে এই সমস্ত পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা পরিচালনা করার মতো পর্যাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা পাওয়া যাবে কিনা তাই নিয়েই দেখা দিয়েছে সংশয়!

সরকারী সূত্রে খবর, রাজ্য সরকারের ‘উৎসশ্রী’ (Utsashree) প্রকল্পের মাধ্যমে নিজেদের জেলার স্কুলেই বদলি করা হয়েছে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। এই নয়া প্রকল্পের আওতায় এখনও অবধি ১০,০০০ শিক্ষক-শিক্ষিকার বদলি হয়েছে। গ্রামের সরকারি স্কুলগুলিতে এমনিতেই পড়ুয়ার অনুপাতে শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা কম। তার ওপর এই বদলির ফলে বিশেষ করে গ্রামের স্কুলগুলি সমস্যায় পড়েছে। এমনও বহু স্কুল রয়েছে যেখানে শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা কমতে কমতে তিন বা চারে এসে ঠেকেছে! সুতরাং প্রশ্ন উঠছে, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার (HS Exam) পরিদর্শনের জন্য যথেষ্ট সংখ্যায় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাওয়া আদৌ সম্ভবপর হবে তো?

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা (HS Exam) শুরু হওয়ার আগে সমস্ত সরকারি স্কুলে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা গ্রহণের সঙ্গে জড়িত শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা কত তা জানতে চেয়েছিল উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE)। সরকারি স্কুলগুলি শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছে , এই অভিযোগে শিক্ষক সংগঠনগুলি একাধিকবার সরব হয়েছে। শিক্ষকদের একাংশের দাবি, ‘উৎসশ্রী’ প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলির কারণে বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকদের ঘাটতি উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ছে। এই মুহূর্তে শিক্ষকদের শূন্যপদও বিস্তর। শিক্ষাবিদদের অনেকেই বলছেন, অবিলম্বে এই শূন্যপদ পূরণ না করা হলে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা আয়োজন করার ক্ষেত্রে ভুগতে হবে রাজ্য সরকারকে।

প্রসঙ্গত, এই নিয়ে দ্বিতীয়বার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার (HS Exam) সময়সূচি পরিবর্তন করা হল। একদিকে আসানসোল লোকসভা কেন্দ্র ও বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন রয়েছে। অন্যদিকে, উচ্চমাধ্যমিক ও জয়েন্ট এন্ট্রান্স (JEE Main) পরীক্ষা একই দিনে পড়ে যাওয়ায় পরীক্ষার সূচিতে বেশ কিছু বদল আনা হয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী ২ এপ্রিল থেকে পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। ৫ এপ্রিল পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। এরপর ১৬ এপ্রিল থেকে ফের পরীক্ষা শুরু হবে। জয়েন্ট এন্ট্রান্সের (JEE Main) জন্য ২১, ২৪ ও ২৫ তারিখ কোনও বিষয়ের পরীক্ষা রাখা হচ্ছে না। তার বদলে আগামী ২২ ও ২৩ তারিখ রাখা হয়েছে পরীক্ষা। ২৭ এপ্রিল শেষ হবে এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.