যুদ্ধক্ষেত্রে ইলন মাস্ক(Elon Musk)! ইউক্রেনের( Ukraine) অনুরোধে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করল স্টারলিঙ্ক(Starlink)

Home বিদেশ-বিভূঁই যুদ্ধক্ষেত্রে ইলন মাস্ক(Elon Musk)! ইউক্রেনের( Ukraine) অনুরোধে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করল স্টারলিঙ্ক(Starlink)
যুদ্ধক্ষেত্রে ইলন মাস্ক(Elon Musk)! ইউক্রেনের( Ukraine) অনুরোধে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করল স্টারলিঙ্ক(Starlink)

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: সুপরিকল্পিতভাবেই ইউক্রেন দখল করতে এগিয়েছে রাশিয়া। শুধু সেনা অভিযানই নয়, সাইবার হানাও ছিল আগ্রাসনের একটা বড় কৌশল। আর তারপরেই ইউক্রেনকে( Ukraine) সাইবার দুনিয়ায় সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন ইলন মাস্ক(Elon Musk)। বিশ্বের অন্যতম ধনী মানুষটি জানিয়ে দিলেন, তাঁর সংস্থা স্পেস এক্স-এর স্টারলিঙ্ক(Starlink) স্যাটেলাইট যুদ্ধ বিধ্বস্ত এই দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদান করবে।

যদিও নিজে থেকে এই ট্যুইট করেননি ইলন মাস্ক। যুদ্ধ ঘোষণার পরপরই ইউক্রেন সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট অকেজো করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন সাইবার সিকিউরিটি সংস্থার দৃঢ় বিশ্বাস, এর পিছনে রাশিয়ারই হাত রয়েছে। একইসঙ্গে ইউক্রেনের একাধিক এলাকার ইন্টারনেট পরিষেবাও স্তব্ধ হয়ে যায়। এই প্রেক্ষিতেই ২৬ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন সরকারের তরফে সরাসরি ইলন মাস্ককে ট্যাগ করে একটি টুইট করা হয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, ইউক্রেনবাসীর জন্য স্টারলিঙ্ক স্টেশন তৈরি করে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করা দরকার। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে এবার ইউক্রেনের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন ধনকুবের ইলন মাস্ক।

শনিবারই ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী মিখাইলো ফেডোরভ(Mykhailo Fedorov) এলন মাস্ককে ট্যাগ করে ট্যুইটারে লিখেছিলেন, ‘আপনি যখন মঙ্গল গ্রহে উপনিবেশ স্থাপনের চেষ্টা করছেন, তখন রাশিয়া ইউক্রেন দখল করার চেষ্টা করছে! আপনার রকেটগুলি সফলভাবে মহাকাশ থেকে অবতরণ করছে-রাশিয়ান রকেটগুলি ইউক্রেনের নাগরিকদের আক্রমণ করছে! আমরা আপনার কাছে আবেদন জানাচ্ছি যাতে স্টারলিঙ্ক স্টেশনের মাধ্যমে ইউক্রেনকে সাহায্য করা হয়। এবং সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন রাশিয়ানদেরও আমাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আবেদন করছি।’

ফেডোরভের এই ট্যুইটের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইলন মাস্কের(Elon Musk) কাছ থেকে জবাব আসে। পরিষেবা চালুর কথা ঘোষণা করে তিনি লেখেন, ‘ইউক্রেনে এখন স্টারলিঙ্ক((Starlink)) অ্যাক্টিভ। অনেক টার্মিনালস এনরুট করা হচ্ছে।’ অর্থাৎ আরও টার্মিনাল শীঘ্রই কাজ করা শুরু করবে ইউক্রেনে। সাইবার দুনিয়ায় মাস্কের কাছে সাহায্য চাওয়ার প্রধান কারণ, স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট সব দুর্গম জায়গাতেও ইন্টারনেট পরিষেবা দিতে সক্ষম।

ইউক্রেনে হামলার দিন থেকেই প্রযুক্তিগত দিক থেকে একের পর এক হামলা করে চলেছে রাশিয়া। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার তরফে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বিভিন্ন মোবাইল টাওয়ার সহ ইফক্রেনের পরিকাঠামো ধ্বংসপ্রাপ্ত। এর ফলে দ্রুত যোগাযোগের নিরিখে ইউক্রেনের প্রত্যন্ত এলাকাগুলির বাসিন্দারা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছেন। তাঁদের পক্ষে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকী, ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় ফাইবার অপটিকস দিয়ে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু না হওয়ায় সেই সেই সব এলাকাগুলির কোনও ছবি সামনে আসছে না। আর সেকারণেই স্টারলিঙ্কের স্যাটেলাইট পরিষেবা চালুর অনুরোধ করা হয়।

যত সময় এগোচ্ছে,ততই ভয়াবহ হচ্ছে ইউক্রেনের পরিস্থিতি। সেনা অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে এখনও কোনও পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি রাশিয়ার তরফে। এদিকে রুশ হামলায় ইউক্রেনে ইতিমধ্যেই তিন শিশু সহ ২০০-র কাছাকাছি মানুষ নিহত হয়েছেন। পূর্ব ইউক্রেনে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে। সেদেশে শুধুমাত্র ইন্টারনেট পরিষেবাই বন্ধ হয়নি বরং জল, বিদ্যুতের মতো প্রয়োজনীয় পরিষেবাও স্তব্ধ। ইউক্রেনের তরফে একটি টুইট করে দাবি তোলা হয়েছে, দ্রুত টুইটার থেকে নিষিদ্ধ করা হোক রাশিয়ার অ্যাকাউন্ট।

এদিকে যুদ্ধের জন্য পুতিনের দেওয়া সবুজ সঙ্কেতের পরই আন্তর্জাতিক বিশ্বকে এ ব্যাপারে অবহিত করতে পাল্টা সোশ্যাল মিডিয়াকে বেছে নেয় ইউক্রেন। সেনা অভিযানের পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে তোপ দেগে ইউক্রেনের তরফে একের পর এক ট্যুইট করা হয়। দাবি ওঠে ‘রাশিয়াকে ব্লক করুন!’। অর্থাৎ  ইউক্রেনে ধ্বংসলীলার যে ছবি রাশিয়ার ট্যুইটার হ্যান্ডেলের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সেই ছবিও ব্লক করার দাবি তোলা হয়। ট্যুইটে ইউক্রেনের তরফে লেখা হয়,‘মানুষের কাছে আমার অনুরোধ আপনারা এই প্ল্যাটফর্ম থেকে এবার রাশিয়াকে বাতিল করার জন্য দাবি তুলুন। রাশিয়ার মতো কোনও দেশের পশ্চিমি কোনও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে থাকা উচিত নয়।’

একই সঙ্গে লেখা হয়, ‘ইউক্রেনের বাসিন্দাদের নির্মমভাবে খুন করে সেই ছবি আপলোড করছে রাশিয়া। ওই ছবিগুলি যেন আপলোড করতে না দেওয়া হয়।’ ট্যুইটার কর্তৃপক্ষের কাছে ইউক্রেনের এই দাবির সঙ্গে ট্যুইটারের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট ( @Twitter) এবং ট্যুইটার সাপোর্ট অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টটিকেও (@Official Support) ট্যাগ করা হয়। আরও বেশি লক্ষণীয় এই বিশেষ ট্যুইটে রাশিয়াকেও ট্যাগ করে ইউক্রেন।

এছাড়াও ট্যুইটেই সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াও জানতে চেয়ে ইউক্রেনের আরও একটি আবেদন, ‘রাশিয়া-কে (@Russia) ট্যাগ করে জানান আপনারা এবিষয়ে কী ভাবছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.