জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যেন ক্যামেরার সামনে থাকতে পারি: সৌরভ (Sourav Das)

Home Uncategorized জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যেন ক্যামেরার সামনে থাকতে পারি: সৌরভ (Sourav Das)
জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যেন ক্যামেরার সামনে থাকতে পারি: সৌরভ (Sourav Das)

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ক্লিক (Klikk)-এ মুক্তি পেতে চলেছে রাজা চন্দ পরিচালিত ওয়েব সিরিজ (Web Series) ‘কাটাকুটি’। এই সিরিজের মাধ্যমেই ওয়েব দুনিয়ায় হাতেখড়ি বড় পর্দার পরিচালকের। গত শিবরাত্রির সন্ধ্যায় প্রকাশ্যে আসে ওয়েব সিরিজের (Web Series) পোস্টার।

এই ছবির মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সৌরভ দাস। তিনি এখন (Sourav Das) ব্যস্ত আছেন তাঁর আর এক চরিত্র ‘আদিত্য’ নিয়ে। কে আদিত্য? খুনিকে ধরার পাশাপাশি যে চরিত্র হবু স্ত্রীর খুনের বদলা নিতে বদ্ধপরিকর।

পরিচালক রাজা চন্দ
পরিচালক রাজা চন্দ


সেখানেই দেখা মেলে আদিত্য চরিত্রে অভিনয় করা সৌরভ দাস (Sourav Das) এবং বাকি অভিনেতাদের লুক। এই লুক এবং পোস্টার বলছে, ‘আদিত্য’ খুনির হদিশ পাওয়ার বদলে হবু বউয়ের খুনের বদলা নিতে উদগ্রীব। এই সিরিজে ‘আদিত্য’র ভূমিকায় সৌরভ দাসের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন ‘কী করে বলব তোমায়’ ধারাবাহিকের ‘পায়েল সেন’ নামক খলনায়িকার চরিত্রে অভিনয় করা মানসী সেনগুপ্ত। সৌরভের বিপরীতে দেখা যাবে তাঁকে।


ছবির প্রেক্ষাপট লাজুক আদিত্য আর স্পষ্টভাষী কৌশানিকে নিয়ে। দু’জনের বিয়ে ঠিক হয়। কিন্তু বিয়ের আগে হঠাৎই মর্মান্তিক ভাবে খুন হয় কৌশানি। পরে জানা যায় এটি একটি গণধর্ষণের ঘটনা। সাজানো স্বপ্ন নির্মম ভাবে চুরমার হতে দেখে ভেঙে পড়ে আদিত্য। কীভাবে খুন হল কৌশানি? পরবর্তীতে উঠে আসে তিনজনের নাম। ঘটনাচক্রে তাঁদের মধ্যে একজন কৌশানির পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য। হবু স্ত্রীর এমন নির্মম মৃত্যুতে বদলে যায় আদিত্য। কৌশানির মৃত্যুর বিচার তুলে নেয় সে নিজের হাতে। বেছে নেয় নির্মম প্রতিশোধের পথ। কাহিনির পরতে পরতে রয়েছে রোমহর্ষক চমক। এই সিরিজে সৌরভ দাস (Sourav Das), মানসী সেনগুপ্ত-এর পাশাপাশি অভিনয় করেছেন পিয়ান সরকার, দেবতনু। এছাড়াও রয়েছেন অভিজিৎ গুহ, বিপ্লব বন্দোপাধ্যায়, শীর্ষা রক্ষিত, জ্যামি বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আরও অনেকে।

সৌরভ দাস-মানসী সেনগুপ্ত
সৌরভ দাস এবং মানসী সেনগুপ্ত


ছ’টি পর্বে আসছে এই সম্পূর্ণ সিরিজটি। নিবেদনে রাজা চন্দ (Raja Chanda) ফিল্মস। সিরিজের কাহিনি-চিত্রনাট্যকার অর্ণব ভৌমিক। আবু ধাবির চাকরি ছেড়ে লেখালেখির জন্য কলকাতার মাটিতে ফিরেই অর্ণবের ঝুলিতে এক এর পর এক সাফল্য। রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘পরিণীতা’ ছবির চিত্রনাট্যকার হিসেবে ইতিমধ্যেই বেশ জনপ্রিয় অর্ণব ভৌমিক। আগামী মার্চে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ক্লিক (Klikk)-এ মুক্তি প্রাপ্ত এই ওয়েবসিরিজে (Web Series) অভিনেত্রী পিয়ান সরকারকে মানসীর বোন এবং দেবতনুকে দেখা যাবে তার স্বামীর চরিত্রে ।
শনিবার সন্ধ্যায় মুক্তি পেল কাটাকুটির টিজার।

উপস্থিত ছিলেন আদিত্যর চরিত্রে অভিনয় করা স্বয়ং সৌরভ দাস, দেবতনু এবং আরও অনেকে। সিরিজের টিজার দেখে উচ্ছ্বসিত সৌরভ (Sourav Das)। স্টেজে উঠে পা মেলালেন অনুরাগীদের সঙ্গে। খুনির হদিশ পাওয়ার বদলে হবু বউয়ের খুনের বদলা নিতে উদগ্রীব সৌরভ, থুরি ‘আদিত্য’ (সৌরভ ভুলে গেছিলেন তাঁর চরিত্রের নাম) কী বলছেন? চরিত্রের নাম মনে করিয়ে দিয়ে খোঁজ নিল বঙ্গভূমি লাইভ।
সৌরভের কথায়, ‘ঠিক যেমন এই ওয়েব সিরিজে (Web Series) আমি প্রতিশোধ নিতে ভালবাসি, তেমনই বাস্তবের সৌরভও তাই। হঠাৎ করে রেগে যাই আমি, যেটা একদম উচিত নয় অভিনেতাদের জন্য। কিন্তু যত তাড়াতাড়ি আমি রেগে যাই ঠিক তত তাড়াতাড়ি আমার রাগ নেমেও যায়। তবে জীবনে এমন অনেক ঘটনা এখনও আছে যার থেকে আমি বেরিয়ে আসতে পারিনি। ঠিক তখনই আমার বদলা নেওয়ার ইচ্ছে হয়। প্রতিশোধ নিতে ইচ্ছে হয়। এমনিই আমি মারপিঠ করতে ভালবাসি, তাই এই সিরিজে আদিত্যর চরিত্র আমার বেশ ভাল লেগেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘মন্টু পাইলট’ (Montu Pailot) বা ‘চরিত্রহীন’ সিরিজে আমার চরিত্র যথেষ্ট সাহসী ছিল। কিন্তু ‘কাটাকুটি’-তে সেই সৌরভ খুব লাজুক এবং মিতভাষী। নিজেকে ঠিক ভাবে সবার সামনে প্রকাশ করতে পারে না।’

টিজারে আদিত্যের চরিত্র এতটা ধূসর কেন? এই প্রশ্নে সৌরভ (Sourav Das) বলেন, ‘একদমই তাই, গল্পই আমায় লাজুক, মিতভাষী থেকে প্রতিশোধপরায়ণ আদিত্য করে তুলেছে। এক এক সময় নিজেকেই ছাপিয়ে যাচ্ছিলাম। লোকে বলে আমি নাকি বরাবর স্টেজ হোক বা শুটিং ফ্লোর দুই মাতিয়ে রাখি। রাজাদা ফ্লোরে আমার এই অভিনয় দেখে বলেই দিলেন আমি আমার সব অভিনয়কে ছাপিয়ে গিয়েছি।

সৌরভ (Sourav Das) যে তাঁর অভিনয়কে ছাপিয়ে যান, চরিত্রের মধ্যে ঢুকে পড়েন তার প্রমাণ মিলেছিল চরিত্রহীন ৩-এ নিজের পিঠে মেরে যখন তিনি জ্বলন্ত মোমবাতি নিভিয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, ‘কাটাকুটি’তেও এমন অনেক কিছুই আছে, আবার মন্টু ২ তেও আছে। আমায় সব সময় পরিচালকেরা বলেন, ‘ডোন্ট গো ওভার বোর্ড’। আসলে দিনের শেষে আমি একজন পারফর্মার, আয়নায় মুখ দেখাতে হয়। আমি চাই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যেন ক্যামেরার সামনে থাকতে পারি। তাই ওই জায়গাটায় আমায় পৌঁছতেই হয় এবং ভবিষ্যতেও পৌঁছতে চাই। ঘরে ঝোলানো খেলনা বিমান জানান দিত মন্টুর পাইলট (Montu Pailot) হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু নীলকুঠির রাজকুমার মন্টু বুকভরা আকাশ নিয়ে ঈশ্বরের শরীর বিক্রি করত। মন্টুর পাইলট হওয়ার স্বপ্ন সফল হয় কি না তা সময়ের অপেক্ষা। আপাতত ‘আদিত্য’ তাঁর হবু স্ত্রীর খুনির খোঁজেই ব্যস্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.