জেলা জজ পৌঁছানোর পরই কবর থেকে তোলা হল আনিসের দেহ, হবে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত

Home রাজ্য জেলা জজ পৌঁছানোর পরই কবর থেকে তোলা হল আনিসের দেহ, হবে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত
জেলা জজ পৌঁছানোর পরই কবর থেকে তোলা হল আনিসের দেহ, হবে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: অবশেষে আনিসের বাবার দাবি মতো আমতায় কবরস্থলে এসে পৌঁছালেন বারাসত জেলা জজ। আর তারপরই কবর থেকে তোলা হল আনিসের দেহ। আজই আনিসের দেহের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। এসএসকেএমে হবে ময়নাতদন্ত। বারাসত জেলা জজের উপস্থিতিতে এই ময়নাতদন্ত হবে। আদালতের নির্দেশ মেনে দেহ তোলা ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ ভিডিওগ্রাফি করা হবে।

মৃত ছাত্রনেতা আনিস খানের দেহের (anis khan murder case) দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করার জন্য কবর থেকে তাঁর দেহ তোলার নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। সেই মতো এদিন সকালে আমতায় (amta) পৌঁছান সিটের সদস্যরা। ৩ সদস্যের ওই দলে ছিলেন হাওড়ার বিএমওএইচ এবং এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটও। তাঁরা আমতায় পৌঁছেই প্রথমে কথা বলেন আনিসের বাবার সঙ্গে। তারপরই শুরু করেন কবর থেকে আনিসের দেহ তোলার প্রস্তুতি। কিন্তু তখনও পর্যন্ত এসে পৌঁছাননি জেলা জজ। আর তাতেই বেঁকে বসেন আনিসের বাবা ও তাঁর পরিবার। আনিসের বাবা সাফ জানিয়ে দেন, জেলা জজ এসে না পৌঁছানো পর্যন্ত তিনি আনিসের দেহ কবর থেকে তুলতে দেবেন না। তাঁকে কর্তারা বহু বোঝালেও নিজের কথায় অনড় থাকেন আনিসের বাবা সালেম খান। শেষ পর্যন্ত জেলা জজ এসে হাজির হলে তিনি মৃত সন্তানের দেহ কবর থেকে তোলার অনুমতি দেন। বেলা গড়াতেই শুরু হয় আনিসের দেহ তোলার প্রক্রিয়া।

প্রসঙ্গত, এদিন সকালে আমতায় পৌঁছে আনিসের বাবাকে ছেলের মৃতদেহ শনাক্ত করার জন্য তাঁদের সঙ্গে যেতে বলেন সিট সদস্যরা। কিন্তু আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি জানান, তিনি সিটের সদস্যদের সঙ্গে যেতে পারবেন না। তাঁর বদলে সিটের সঙ্গে যাবেন তাঁর বড়ছেলে এবং আনিসের খুড়তুতো ভাই। এছাড়াও তাঁদের সঙ্গে থাকবেন গ্রামের ১০ থেকে ১২ জন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলে বাড়তি কোনও পুলিস বাহিনী ছিল না।

উল্লেখ্য, এর আগেই কলকাতা হাইকোর্ট আনিসের দেহ কবর থেকে তুলে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, শুক্রবার রাতেই আনিসের পরিবারকে নোটিস পাঠায় সিট। তাতে সিট জানায় যে, শনিবার ভোরে আনিসের দেহ কবর থেকে তোলা হবে। সেই মতো শনিবার ভোরেই আনিসের গ্রামে পৌঁছে যায় পুলিস বাহিনী। কিন্তু সেখানে গিয়ে গ্রামবাসীদের কোনও সাহায্য তো তাঁরা পানইনি, বরং গ্রামবাসীদের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাদের। ফলে আনিসের দেহ তুলতে অক্ষম হয় পুলিস। কবর থেকে দেহ না তুলেই ফিরে যেতে বাধ্য হয় পুলিস।

উল্লেখ্য, হাইকোর্টের তরফে সোমবার আনিসের দেহ কবর থেকে তোলার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু তার আগেই শনিবার ভোররাতে সিট সদস্যরা আমতায় পৌঁছে কবরস্থল থেকে আনিসের দেহ তোলার কাজ শুরু করে দেন। আর তাতেই পুলিসকে ঘিরে রীতিমতো বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন গ্রামবাসী ও আনিসে পরিবারের লোকজন। য়ানিসের বাবা সরাসরি অভিযোগ করেন যে, তাঁর ছেলের মৃতদেহ চুরি করার উদ্দেশ্যেই ভোরের আলো-অন্ধকারে কবরস্থানে পৌঁছায় পুলিস ও আধিকারিকরা। বাধা পেয়ে সেদিনও আনিসের দেহ (Anish Khan Murder) না তুলেই ফিরে যেতে বাধ্য হয় পুলিস। এই ঘটনার পর রাজ্য পুলিসের তরফে এই বিষয় নিয়ে টুইট করা হয়। সেই টুইটে পুলিসের তরফে লেখা হয় যে, আমতার ঘটনায় আদালতের নির্দেশকে অমান্য করা হয়েছে। সেখানে আমতাবাসী ও আনিসের পরিবারের বিরুদ্ধেই পাল্টা অভিযোগ তোলা হয়।

কবর থেকে আনিসের দেহ (Anish Khan Murder) তোলার প্রক্রিয়া দেখার সাক্ষী থাকতে ইতিমধ্যেই ইদগায় ভিড় জমিয়েছেন বহু মানুষ। এমনকী তা দেখতে আশপাশের গাছেও উঠে পড়েছেন লোকজন। দেখা যায়, অনেকে আবার প্রার্থনাও করছেন।

আনিসের দেহের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে করতে ইতিমধ্যেই ৩ জন অটোপসি সার্জেনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে বিশেষ টিম। এসএসকেএম হাসপাতালে আনিসের দেহের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের সময় উপস্থিত থাকবেন বাড়ির লোক, বারাসতের জেলা জজ সকলেই। সেই রাতে ছাত্রনেতা আনিস খানকে হত্যা করা হয়েছিল নাকী পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনাবশতই তাঁর মৃত্যু হয়, সেসব কিছুর উত্তর মিলবে এই দ্বিতীয় ময়নাতদন্তেই! এমনটাই মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। পাশাপাশি, আনিসের শরীরে কী ধরনের আঘাত ছিল, সেই বিষয়েও জানতে চায় সিট। তার জন্য ভিসেরাও সংগ্রহ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

এদিন, দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে আনিসের দেহ তোলা নিয়ে মুখ খোলেন মৃতের বাবা সালেম খান। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের রায় আমরা অমান্য করতে পারি না। তাই অনুমতি দিয়েছি। দেখি কী হয়। যদিও আমার আস্থা নেই। এখনও আমি চাই আদালতের নজরদারিতে সিবিআই তদন্ত হোক।’

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.