বিজেপিতে পদ হারানো সায়ন্তনের বাড়িতে তৃণমূলের সমীর!

Home কলকাতা বিজেপিতে পদ হারানো সায়ন্তনের বাড়িতে তৃণমূলের সমীর!
বিজেপিতে পদ হারানো সায়ন্তনের বাড়িতে তৃণমূলের সমীর!

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: কলকাতা পুরভোটে বিজেপির ফল ২০১৫-র থেকেও খারাপ হয়েছে।তাই ফল ঘোষণার পরদিনই, রাজ্য বিজেপিতে ব্যাপক রদবদল হয়েছে। একাধিক পুরনো ও পরিচিত নেতাদের বাদ দিয়ে নয়া রাজ্য কমিটি ঘোষণা করেছে বঙ্গ বিজেপি।যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাধারণ সম্পাদকের তালিকা থেকে বাদ পড়া সায়ন্তন বসু। পাশাপাশি বদলানো হয়েছে সবক’টি মোর্চার মুখ।  এই রদবদলের অভিঘাত কী হতে চলেছে, তা নিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে কৌতূহল জিইয়ে রয়েছে। আর তারপর থেকেই পদ খোয়ানো নেতারা ক্ষোভে ফুঁসছেন। কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন, কেউ আবার ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন।

এরই মধ্যে জল্পনা বাড়াল আরও একটি ঘটনা। বিজেপির মিডিয়া সেলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছাড়লেন ঠোঁটকাটা এই বিজেপি নেতা।
এরপরই আদি বিজেপি নেতাদের সারিতে থাকা সায়ন্তন বসুর ভবিষ্যত রাজনৈতিক কেরিয়ার ঠিক কোন খাতে বইতে চলেছে, তা নিয়ে জল্পনা চরমে ওঠে। রাজ্য কমিটি থেকে বাদ পড়ার পরেই সায়ন্তন বসুর বাড়িতে হাজির হল তৃণমূল নেতৃত্ব। পুরভোটে ভরাডুবির পর বঙ্গ বিজেপির খোলনলচে রাতারাতি বদলে ফেলে বুধবার বিজেপির নতুন রাজ্য কমিটি গঠিত হয়। নতুন কমিটি থেকে বাদ পড়েন সায়ন্তন বসু। এরপর রাতে তাঁর বাড়িতে যান তৃণমূল নেতা সমীর চক্রবর্তী। এই নিয়ে শুরু হয় গুঞ্জন। যদিও সায়ন্তনের দাবি, সমীর চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। মাঝেমধ্যেই তিনি বিজেপি নেতার বাড়িতে আসেন।এই বিষয়ে এখনও তৃণমূল শিবিরের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

উল্লেখ করা যেতে পারে,সুকান্ত মজুমদার রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর বুধবার নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণা হয়। আর সেই কমিটি থেকে পুরোপুরি বাদ পড়েন সায়ন্তন বসু, প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরী, রাজকমল পাঠকদের মতো দলের পুরনো সৈনিকরা। যা নিয়ে বিস্মিত অনেকেই। আবার যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি থেকে বাদ পড়েছেন সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। একাধিকবার বিতর্কে জড়ানো সৌমিত্রর বাদ পড়াটা ছিল অবশ্য সময়ের অপেক্ষা। অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদ পার্টির অন্যতম সহ-সভাপতি করা হয়েছে তাঁকে।

বাদ পড়া ক্ষুব্ধ এক নেতার কথায়, নতুন রাজ্য সভাপতি বলেছিলেন পুরনো-নতুন মিলিয়ে কমিটি হবে। সেটা তো হয়নি। দক্ষ সংগঠক এবং পরিশ্রমী নেতা সায়ন্তন বসুকে কমিটিতে না রাখা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে দলে। সদ্য প্রাক্তন সহসভাপতি রাজকমল পাঠক তো প্রকাশ্যেই বলেছেন, পুরনোদের প্রয়োজন বোধহয় ফুরিয়ে গিয়েছে দলে।

সম্প্রতি হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের দূরত্ব নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। এই আবহে লকেট আগের মতোই রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রয়ে গেলেন।

দলের নতুনদের প্রাধান্য দিয়ে নয়া টিম সাজানো হলেও ভবিষ্যতে দলের বেসামাল অবস্থা কতটা কাটিয়ে তুলতে পারবে এই রাজ্য নেতারা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সামনেই রাজ্যে একাধিক পুরসভার ভোটও দরজায় কড়া নাড়ছে। একের পর এক ভোটে বিপর্যয়ের পর নিজের নতুন টিম দিয়ে রাজ্যে দলকে ঘুরে দাঁড় করানোটা এই মুহূর্তে রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

একনজরে রাজ্য বিজেপির রদবদল

  • যুব মোর্চার সভাপতির পদ থেকে সরানো হল সৌমিত্র খাঁ-কে। তাঁর জায়গায় আনা হয়েছে ইন্দ্রনীল খাঁকে।
  • সৌমিত্র খাঁ-কে রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি করা হয়েছে।
  • মহিলা মোর্চার সভাপতি পদেও অগ্নিমিত্রা পালের জায়গায় আনা হল তনুজা চক্রবর্তীকে।
  • সাধারণ সম্পাদকের তালিকা থেকে বাদ গেলেন সায়ন্তন বসু।
  • সহ সভাপতির তালিকা থেকে বাদ পড়লেন বিজেপির পুরনো মুখ প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • বাদ পড়লেন কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া জয়প্রকাশ মজুমদার।সহ সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে তাঁকে মুখপাত্র করা হয়েছে।
  • বিজেপির মুখপাত্রর তালিকায় জায়গা পেয়েছেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ।
  • সাংসদ খগেন মুর্মুর জায়গায় উপজাতি মোর্চার প্রধান করা হয়েছে বিধায়ক জোয়েল মুর্মুকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.