Russia-Ukraine War: রাশিয়ার বিরুদ্ধে ন্যাটোর দেশগুলিকে এক করতে সক্রিয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পোল্যান্ড যাত্রা বাইডেনের

Home বিদেশ-বিভূঁই Russia-Ukraine War: রাশিয়ার বিরুদ্ধে ন্যাটোর দেশগুলিকে এক করতে সক্রিয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পোল্যান্ড যাত্রা বাইডেনের
Russia-Ukraine War: রাশিয়ার বিরুদ্ধে ন্যাটোর দেশগুলিকে এক করতে সক্রিয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পোল্যান্ড যাত্রা বাইডেনের

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: প্রায় একমাসের কাছাকাছি সময় ধরে চলছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ (Russia-Ukraine War)। এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার দুই দেশ শান্তি বৈঠকে বসলেও তা সফল হয়নি। এমতাবস্থায়, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসনের গতিপ্রকৃতি এবং এই যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া মানবাধিকার সঙ্কট নিয়ে কথা বলতে পোল্যান্ড যাওয়ার উদ্যোগ নিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন (Joe Biden)। জানা গিয়েছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পোল্যান্ডের (Poland) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ডুদার সঙ্গে দেখা করবেন তিনি।

হোয়াইট হাউস থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে বাইডেনের পোল্যান্ড যাওয়ার খবর জানানো হয়েছে। সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইউক্রেনের জনগণের পাশে থাকার উদ্দেশ্যে বিশ্বকে একজোট করতে তার এই সফর।’ এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, পোল্যান্ড ছাড়াও ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে তাঁর যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই বলেই জানানো হয়েছে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে।

চলতি মাসের গোড়ার দিকে পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। সেখানে গিয়ে তিনি ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা করেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ একটি টেলিভিশন বার্তায় ইউক্রেন আক্রমণ করার কথা (Russia-Ukraine War) ঘোষণা করেছিলেন রাশিয়ার (Russia) প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে অস্ত্র ছাড়ার আবেদনও করেছিলেন তিনি। পুতিন স্পষ্টতই জানিয়ে দিয়েছিলেন যদি কোনও রক্তক্ষয় হয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে ইউক্রেনকেই। পরে রাষ্ট্রপুঞ্জের জরুরি অধিবেশনে ইউক্রেনের প্রতিনিধি বলেন, এই পরিস্থিতিতে অস্ত্র সংবরণের কথা বলার সময় পেরিয়ে গিয়েছে। ইউক্রেনে বহু আগে থেকেই রাশিয়ার হামলা শুরু হয়ে গিয়েছে। তখন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পুতিনকে বাহিনী প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপুঞ্জের জরুরি অধিবেশনে মহাসচিব বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিন, আপনাকে অনুরোধ, দয়া করে আপনার বাহিনীকে আটকান। সেনা ফিরিয়ে নিন। দয়া করে শান্তি বজায় রাখুন।’ কিন্তু তাঁর কথায় কর্ণপাত করেননি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

পুতিনের এই ঘোষণার পরই ইউক্রেনে আক্রমণ শাণায় রাশিয়া (Russia-Ukraine War)। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ,ওডেসাসহ একাধিক জায়গায় শোনা যায় বিস্ফোরণের শব্দ। ওইদিন সকালেই কিয়েভের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর বরিস্পিলে গুলি চালানোর আওয়াজ পাওয়া গিয়েছিল। দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকেও আক্রমণের খবর আসছিল। তিনদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে ইউক্রেনের বায়ুঘাঁটি ও এয়ার ডিফেন্স গুঁড়িয়ে দেয় রুশ সেনাবাহিনী। বেলারুশ সীমান্তের দিক থেকে ইউক্রেনে লাগাতার আক্রমণ চালানো শুরু করে রাশিয়া। ইউক্রেনের ডোনেৎস্ক,লুহানস্ক, লিভিভসহ বহু অঞ্চল দখল করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত রুশ আক্রমণে দু’হাজারেরও বেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভেই মৃত্যু হয়েছে ২২৮ জন নাগরিকের।

পঁচিশ দিন পেরিয়ে গেলেও এই লড়াইয়ে পিছু হটতে রাজি নন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই দেখা গিয়েছিল, ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর পোষাক পরে যুদ্ধের ময়দানে নেমে পড়েছেন তিনি। রুশ বাহিনীর আক্রমণে ইউক্রেনের বহু শহর প্রায় ধ্বংস হয়ে গেলেও রাশিয়ার সামনে মাথা নোয়াননি জেলেনস্কি। বরং সীমিত ক্ষমতা নিয়ে রুশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর দিয়ে গিয়েছেন তিনি। নির্ভীকচিত্তে কয়েকদিন আগে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জে তিনি দাবি করেছিলেন, রাশিয়াকে ‘জঙ্গি দেশ’ হিসাবে ঘোষণা করা হোক।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia-Ukraine War) শুরু হওয়ার কয়েকদিন পরেই ইউক্রেনকে যুদ্ধে সাহায্য করার জন্য মিগ ২৯ যুদ্ধবিমান পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল পোল্যান্ড। তার জন্য আমেরিকার বিমানবন্দর ব্যবহার করার আবেদন জানিয়েছিল তারা। কিন্তু সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেয় আমেরিকা। এর যুক্তি হিসাবে তারা দাবি করে, পোল্যান্ডের এই প্রস্তাব সমগ্র ন্যাটো (NATO) জোটের কাছে ‘উদ্বেগের কারণ’ হতে পারে।

এখনও পর্যন্ত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia-Ukraine War) নিয়ে ন্যাটো কোনও সক্রিয় মনোভাব দেখায়নি। কিন্তু রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়াতে চাইছে ন্যাটোভুক্ত কয়েকটি দেশ। তাদের মধ্যে অন্যতম পোল্যান্ড। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে একজোট হোক ইউরোপের দেশগুলি। সে কারণেই ইউরোপ সফরে বেরোনোর উদ্যোগ নিয়েছেন জো বাইডেন। জানা গিয়েছে, পোল্যান্ডের পাশাপাশি বেলজিয়ামেও যাবেন তিনি। হোয়াইট হাউসের সংবাদমাধ্যমের সচিব জেন সাকি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার অযৌক্তিক এবং উস্কানিবিহীন যুদ্ধের ফলে কীভাবে মানবাধিকার সঙ্কটের সৃষ্টি হচ্ছে তা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ানের নেতাদের সঙ্গেও কথা বলবেন।’

প্রসঙ্গত, ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার আক্রমণ (Russia-Ukraine War) শুরু হওয়ার পরই রাশিয়ার বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি জানিয়েছিলেন, বিনা প্ররোচনায় এবং সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে এই হামলা চালানোর সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে রাশিয়াকে। এর পরিণতি রাশিয়ার জন্য ভয়ঙ্কর হবে, এমনটাই বলেছিলেন তিনি। কয়েকদিন আগে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গিয়েছে, ইউক্রেনের জন্য আরও ৮০ কোটি ডলারের সামরিক সাহায্য বরাদ্দের কথা ঘোষণা করতে চলেছেন জো বাইডেন। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনকে সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ কোটি ডলার সামরিক অনুদান দিতে চলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published.