Russia Ukraine war: রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হোক, বাইডেনের সঙ্গে কথা জেলনস্কির

Home বিদেশ-বিভূঁই Russia Ukraine war: রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হোক, বাইডেনের সঙ্গে কথা জেলনস্কির
Russia Ukraine war: রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হোক, বাইডেনের সঙ্গে কথা জেলনস্কির

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia Ukraine war) অব্যাহত। ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি ঘোষণা করেছেন যে তিনি মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের (Joe Biden) সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এই কথোপকথনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আর্থিক সহায়তা এবং নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। 

টানা কথোপকথনের অংশ হিসাবে, @POTUS এর সঙ্গে আমার আরেকটি কথোপকথন হয়েছে, জেলেনস্কি টুইট করেছেন। এজেন্ডায় নিরাপত্তা, ইউক্রেনের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখার বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এর কয়েক ঘন্টা আগে, ইউক্রেনের (Ukraine) নেতা মার্কিন আইন প্রণেতাদের সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে কথা বলেন। তার দেশকে আরও সহায়তা এবং রাশিয়ান তেল আমদানিকে কালো তালিকাভুক্ত করার অনুরোধ করেছিলেন তিনি।

আমেরিকান নেতারা অতিরিক্ত দশ বিলিয়ন ডলার সাহায্য প্যাকেজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু হোয়াইট হাউস (white house) এখনও পর্যন্ত তেলের আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এরফলে মূল্যবৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও এই রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের (Russia ukraine war) জেরে এই বর্ধিত দাম ইতিমধ্যে রেকর্ড মুদ্রাস্ফীতির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন গ্রাহকদের আরও বেশি ক্ষতি করবে।

পশ্চিমী মিত্রদের কাছ থেকে ইউক্রেনকে (Ukraine) অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং প্রচুর অর্থসাহায্য করা হয়েছে। ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মস্কোর আক্রমণের বিরুদ্ধে কিয়েভকে শক্তিশালী করার জন্য ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে রাশিয়ার উপরে।

ওয়াশিংটন গত সপ্তাহে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম অনুমোদন করেছে। মার্কিন ইতিহাসে এই ধরনের সবচেয়ে বড় প্যাকেজ এটি।

দেখতে দেখতে এগারো দিনে পা দিল ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ (Russia-Ukraine War)। যদিও শনিবারের পর রবিবারও কিছু সময়ের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে রাশিয়া।  তবুও রুশ সেনার আগ্রাসন থেমে নেই। এই পরিস্থিতিতে ‘বন্ধু’ আমেরিকা সেনা না পাঠালেও ইউক্রেনের পাশে দাঁড়াতে বদ্ধপরিকর। রবিবারও ফোনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে কথা হল মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের। এদিকে ইতিমধ্যেই ইউরোপীয় দেশগুলির কাছে যুদ্ধবিমানের আবেদন করেছে ইউক্রেন। সেই আবেদনে সাড়াও দিয়েছে আমেরিকা। ইতিমধ্যেই তদ্বিরও করেছে পোল্যান্ডকে।

শক্তিশালী রুশ বাহিনীকে রুখতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন। কিন্তু আগামিদিনে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে (Russia Ukraine war)আরও সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছতে হলে আরও যুদ্ধবিমান চাই। সমস্ত দেশকে তাই পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জেলেনস্কির। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে পোল্যান্ডকে অনুরোধ করেছেন বাইডেন। এপ্রসঙ্গে হোয়াইট হাউস জানাচ্ছে, পোল্যান্ড ইউক্রেনকে যুদ্ধজাহাজ দিয়ে সাহায্য করলে তাদের যা ক্ষতি হবে সেই ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেবে আমেরিকা। পাশাপাশি সেই বিমানের জ্বালানি-সহ অন্যান্য খরচও আমেরিকা দেবে বলেই জানিয়েছে ওয়াশিংটন। এখানেই শেষ নয়, ইউক্রেনের অন্যান্য বন্ধু দেশের কাছেও যুদ্ধজাহাজের জন্য তদ্বির শুরু করেছে আমেরিকা। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, পোল্যান্ড রাজিও হয়ে গিয়েছে এই প্রস্তাবে।

আরও জানতে পড়ুন – ইউক্রেনে ভারতীয়দের গাড়িতে তিরঙ্গা লাগানোর কোনও পরামর্শই দেয়নি রাশিয়া

এরই মধ্যে আজ, রবিবার রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের (Russia Ukraine war) বিষয়ে ফের ফোনে কথা হয়েছে জেলেনস্কি ও বাইডেনের। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট টুইট করে এই কথোপকথনের বিষয়ে জানিয়েছেন। তিনি জানাচ্ছেন ইউক্রেনের সুরক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সাহায্যের বিষয়েও তাঁদের কথা হয়েছে। কথা হয়েছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষোধাজ্ঞা অব্যাহত রাখার বিষয়েও। সব মিলিয়ে প্রায় আধঘণ্টা কথা হয়েছে দুই নেতার।

এদিকে যুদ্ধের মাঝেই মস্কো পৌঁছেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। সূত্রের খবর, তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে দেখা করে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন দীর্ঘক্ষণ। পরে তিনি ভলোদিমির জেলেনস্কির (Volodymyr Zelensky) সঙ্গেও আলোচনা করেছেন বলে খবর। এরপর বেনেট জার্মানির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। চ্যান্সেলর ওলাফ স্কোলজের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করার সম্ভাবনা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বললেন ফোনে। হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁরা ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। হোয়াইট হাউসের তরফে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জেলেনস্কির সাথে একটি ফোন কলে বাইডেন মস্কোর আগ্রাসনকে প্রতিহত করার জন্য আমেরিকা ও মিত্র রাষ্ট্রগুলি যেভাবে ‘খরচ’ বাড়িয়েছে, সেই বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নেওয়া অন্যান্য পদক্ষেপগুলিও তুলে ধরেন বাইডেন।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতি বাইডেন উল্লেখ করেছেন যে তাঁর প্রশাসন ইউক্রেনের নিরাপত্তা, মানবিক এবং অর্থনৈতিক সহায়তা বাড়াচ্ছে এবং অতিরিক্ত তহবিল সুনিশ্চিত করতে কংগ্রেসের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।’ এদিকে ইউক্রেনিয়ান পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রাশিয়ার হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি ইউক্রেনের অপারেশনের ‘দক্ষতা এবং সাহসিকতার’ প্রশংসা করেন তিনি।

এদিকে এই রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে (Russia Ukraine war) বিধ্বস্ত ইউক্রেন চাইছে ভারত যাতে পুতিনকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বলে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন দফা নিষেধাজ্ঞার দাবি করে, ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা শনিবার ভারত সহ বেশ কয়েকটি দেশের সরকারকে রাশিয়ার কাছে যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছেন।

একটি টেলিভিশন ভাষণে, কুলেবা রাশিয়াকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করে এবং বিদেশী ছাত্র সহ সাধারণ নাগরিকদের সংঘর্ষের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.