Russia Ukraine war: যুদ্ধ পাগলামি, ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার আবেদন পোপ ফ্রান্সিসের

Home বিদেশ-বিভূঁই Russia Ukraine war: যুদ্ধ পাগলামি, ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার আবেদন পোপ ফ্রান্সিসের
Russia Ukraine war: যুদ্ধ পাগলামি, ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার আবেদন পোপ ফ্রান্সিসের

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia Ukraine war) নিয়ে সারা বিশ্ব উদ্বিগ্ন। ভ্যাটিকান সিটি থেকে এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পোপ ফ্রান্সিস (pope Francis)। পোপ ফ্রান্সিস রবিবার ইউক্রেনে (Ukraine) চলতে থাকা রুশ আক্রমণের বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছেন। এই অভিযানকে বোঝানোর জন্য রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের ( Vladamir Putin) ব্যবহার করা বিশেষ সামরিক অভিযান শব্দটি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি এবং তাকে যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভ্যাটিকান সিটির (Vatican City) সেন্ট পিটার্স স্কোয়ারে (St Peter’s Square) সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে তাঁর সাপ্তাহিক ভাষণে পোপ বলেন যে এটি কেবল একটি সামরিক অভিযান নয় বরং একটি যুদ্ধ যা মৃত্যু, ধ্বংস এবং দুর্দশার বীজ বপন করে।

তিনি বলেন, ইউক্রেনে (Ukraine) রক্ত ​​ও অশ্রুর নদী প্রবাহিত হচ্ছে। এটি শুধু একটি সামরিক অভিযান নয় বরং একটি যুদ্ধ যা মৃত্যু, ধ্বংস এবং দুর্দশার বীজ বপন করে।

পোপ আরও বলেন, সেই শহীদ দেশে প্রতি ঘন্টায় মানবিক সহায়তার প্রয়োজন বাড়ছে। যুদ্ধ হল পাগলামি! থামুন, দয়া করে! তিনি যোগ করেছেন।

পোপ বলেন, হলি সি শান্তির (peace) সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার জন্য সবকিছু করতে ইচ্ছুক। তিনি আরও বলেন যে দুইজন রোমান ক্যাথলিক কার্ডিনাল অভাবীদের সাহায্য করার জন্য ইউক্রেনে গিয়েছিলেন।

পোপ ফ্রান্সিস সাংবাদিকদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন যাঁরা বিপদ সত্ত্বেও রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের (Russia Ukraine war) খবর দেখাচ্ছেন। নিষ্ঠুরতা এবং কষ্টের অভিজ্ঞতার বিষয়ে জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁদের। তিনি বলেন, আমি সেই সাংবাদিকদেরও ধন্যবাদ জানাতে চাই যাঁরা তথ্য প্রদানের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন। ধন্যবাদ, ভাই ও বোনেরা, এই পরিষেবার জন্য যা আমাদের সেই মানুষের দুর্দশার কাছাকাছি থাকতে দেয় এবং আমাদেরকে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের (Russia Ukraine war) নির্মমতার মূল্যায়ন করতে সক্ষম করে।

এই মন্তব্যগুলি, এখনও পর্যন্ত এই হিংসার বিষয়ে করা তাঁর সবচেয়ে শক্তিশালী মন্তব্য। তিনি অবশ্য রাশিয়ার নাম নিয়ে নিন্দা করেননি এবং পরিবর্তে, শান্তি, মানবিক করিডোর তৈরি এবং আলোচনায় ফিরে আসার জন্য তার আবেদনের কথা জানিয়েছিলেন।

এটি লক্ষণীয় যে পুতিন বলেছেন যে রাশিয়ার সামরিক অভিযানটি ইউক্রেন দখল করার জন্য নয় বরং ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার জন্য। এখনও পর্যন্ত ইউক্রেনে ৩৬০ জনেরও বেশি সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। আক্রমণের পর থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসা শরণার্থীর সংখ্যাও ১০ লাখ ছাড়িয়েছে।

একই সঙ্গে সেদেশে শরণার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন পোপ।  পোপের বক্তব্য, এটা শুধু একটা সামরিক যুদ্ধ নয়, এটা এমন একটা যুদ্ধ যেখানে মৃত্যু, ধ্বংস এবং দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সেট পির্টাস স্কোয়ারে ভাষণ দেওয়ার সময় এমনই বক্তব্য রাখেন তিনি। দ্রুত রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia Ukraine war) বন্ধ হওয়ার আবেদনও করেছেন তিনি। বারবার শান্তির পক্ষে, মানবাধিকারের পক্ষে সওয়াল করেছেন। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেও, তাঁর বক্তব্যে কোথাও রাশিয়ার নাম ছিল না।     

সোমবার বারো দিনে পড়েছে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ (Russia Ukraine war)। গোড়া থেকেই রাশিয়া দাবি করে এসেছে যে ইউক্রেনের জমি দখল করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং হামলার জন্য রাশিয়া তাদের নিরাপত্তা জনিত কারণকেই প্রথম থেকে সামনে রেখে এসেছে। ইউক্রেনের সামরিক শক্তি ধ্বংস করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছে পুতিন প্রশাসন। তিনদিক থেকে ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর থেকে দুই তরফেই বহু সম্পদ নষ্ট হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বহু নাগরিক শরণার্থী হয়েছেন। ইউক্রেন ছেড়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন পড়শি দেশগুলিতে। ইউক্রেনে আটকে পড়েছেন বহু বিদেশি নাগরিক। তাঁদের মধ্যে রয়েছে বহু ভারতীয় পড়ুয়াও। সব মিলিয়ে প্রবল ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি, রাশিয়ার বিরুদ্ধে জনবহুল শহরে, ঘনবসতি এলাকায় বোমা নিক্ষেপের অভিযোগ এনেছে ইউক্রেন।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে ক্লাস্টার বোমা ছোড়ার অভিযোগও করেছে একাধিক মানবাধিকার সংগঠন। যদিও গোড়া থেকেই সেই অভিযোগ উড়িয়ে এসেছে রাশিয়া। পাল্টা পশ্চিমী দেশগুলির বিরদ্ধে ইউক্রেনে লাগাতার উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পরিস্থিতি আরও ঘোরালো করতেই আমেরিকা, ফ্রান্স-সহ একাধিক দেশ সেখানে ভাড়াটে সৈন্য পাঠাচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে রাশিয়ার তরফে।

যুদ্ধ ও ধ্বংসের কারণে বহু মানুষের যে সমস্যা হচ্ছে তা বারবার তুলে ধরেছে একাধিক মানবাধিকার সংগঠনও। সেই কথাই এদিন বলেছেন পোপ ফ্রান্সিস। 

পোল্যান্ডের আর্চবিশপের সুরটি তাৎপর্যপূর্ণ ছিল কারণ এটি এক সময়ে ক্যাথলিক চার্চের অবস্থানের সঙ্গে তীব্রভাবে বিপরীত ছিল। অন্যদিকে ‘হোলি সি’ সাধারণ নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি যুদ্ধবিরতি এবং করিডোর তৈরির করার আহ্বান জানিয়েছে কিন্তু পোপ এখনও প্রকাশ্যে মস্কোকে যুদ্ধ নিয়ে কিছু বলেননি, যা রাশিয়াকে বিশ্ব মঞ্চে ক্রমবর্ধমানভাবে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। ভ্যাটিকান শুক্রবার ইউক্রেনের একটি কার্যকরী পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে একটি রাশিয়ান সামরিক হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি ভ্যাটিকান, যা আগুন এবং চেরনোবিলের মতো বিপর্যয় ডেকে আনতে পারত৷

Leave a Reply

Your email address will not be published.