Russia-Ukraine War: যুদ্ধে নিহত ইউক্রেনের শিশুদের স্মরণে ফাঁকা প্যারাম্বুলেটর লিভিভের সিটি হলে

Home বিদেশ-বিভূঁই Russia-Ukraine War: যুদ্ধে নিহত ইউক্রেনের শিশুদের স্মরণে ফাঁকা প্যারাম্বুলেটর লিভিভের সিটি হলে
Russia-Ukraine War: যুদ্ধে নিহত ইউক্রেনের শিশুদের স্মরণে ফাঁকা প্যারাম্বুলেটর লিভিভের সিটি হলে

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের (Russia-Ukraine War) পঁচিশ দিন অতিক্রান্ত। পুতিন-জেলেনস্কির দু’বার শান্তি বৈঠকও প্রায় নিষ্ফলা। এমতাবস্থায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ইউক্রেনের একটি শহর লিভিভের একটি দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে, যা চোখ ভিজিয়েছে গোটা বিশ্ববাসীর। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা গিয়েছে, পশ্চিম ইউক্রেনের লিভিভ (Lyviv) শহরের সিটি হলে দাঁড় করানো রয়েছে সারি সারি প্যারাম্বুলেটর (Stroller)। যুদ্ধে নিহত ইউক্রেনের শিশুদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে প্যারাম্বুলেটরগুলিকে রাখা হয়েছে, এমনটাই জানা গিয়েছে। প্যারাম্বুলেটরগুলির পাশে রাখা রয়েছে দু’টি টেডি বিয়ার এবং একটি ছোট ইউক্রেনের পতাকা।

এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে রুশ কামান আর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ২৮ জন শিশু (Children killed in war)। আহত হয়েছে প্রায় ৮৪০ জন শিশু। এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই বিবৃতি দিয়েছে ইউক্রেন সরকার। সেই সঙ্গে দাবি করা হয়েছে, কিয়েভে প্রায় ৩০ লক্ষ সাধারণ মানুষ যুদ্ধে আতঙ্কের পরিবেশে বাস করছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ একটি টেলিভিশন বার্তায় ইউক্রেন আক্রমণ করার কথা (Russia-Ukraine War) ঘোষণা করেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে অস্ত্র ছাড়ার আবেদনও করেছিলেন তিনি। পুতিন স্পষ্টতই জানিয়ে দিয়েছিলেন যদি কোনও রক্তক্ষয় হয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে ইউক্রেনকেই। পরে রাষ্ট্রপুঞ্জের জরুরি অধিবেশনে ইউক্রেনের প্রতিনিধি বলেন, এই পরিস্থিতিতে অস্ত্র সংবরণের কথা বলার সময় পেরিয়ে গিয়েছে। ইউক্রেনে বহু আগে থেকেই রাশিয়ার হামলা শুরু হয়ে গিয়েছে। তখন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পুতিনকে বাহিনী প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপুঞ্জের জরুরি অধিবেশনে মহাসচিব বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিন, আপনাকে অনুরোধ, দয়া করে আপনার বাহিনীকে আটকান। সেনা ফিরিয়ে নিন। দয়া করে শান্তি বজায় রাখুন।’ কিন্তু তাঁর কথায় কর্ণপাত করেননি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

পুতিনের এই ঘোষণার পরই ইউক্রেনে আক্রমণ শাণায় রাশিয়া (Russia-Ukraine War)। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ,ওডেসাসহ একাধিক জায়গায় শোনা যায় বিস্ফোরণের শব্দ। ওইদিন সকালেই কিয়েভের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর বরিস্পিলে গুলি চালানোর আওয়াজ পাওয়া গিয়েছিল। দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকেও আক্রমণের খবর আসছিল। তিনদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে ইউক্রেনের বায়ুঘাঁটি ও এয়ার ডিফেন্স গুঁড়িয়ে দেয় রুশ সেনাবাহিনী। বেলারুশ সীমান্তের দিক থেকে ইউক্রেনে লাগাতার আক্রমণ চালানো শুরু করে রাশিয়া। ইউক্রেনের ডোনেৎস্ক,লুহানস্ক, লিভিভসহ বহু অঞ্চল দখল করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত যুদ্ধে (Russia-Ukraine War) দু’হাজারেরও বেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভেই মৃত্যু হয়েছে ২২৮ জন নাগরিকের।

পঁচিশ দিন পেরিয়ে গেলেও এই লড়াইয়ে (Russia-Ukraine War) পিছু হটতে রাজি নন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই দেখা গিয়েছিল, ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর পোষাক পরে যুদ্ধের ময়দানে নেমে পড়েছেন তিনি। রুশ বাহিনীর আক্রমণে ইউক্রেনের বহু শহর প্রায় ধ্বংস হয়ে গেলেও রাশিয়ার সামনে মাথা নোয়াননি জেলেনস্কি। বরং সীমিত ক্ষমতা নিয়ে রুশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর দিয়ে গিয়েছেন তিনি। নির্ভীকচিত্তে কয়েকদিন আগে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জে তিনি দাবি করেছিলেন, রাশিয়াকে ‘জঙ্গি দেশ’ হিসাবে ঘোষণা করা হোক।

ইউক্রেনের এই সঙ্কটে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও। ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার আক্রমণ (Russia-Ukraine War) শুরু হওয়ার পরই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি জানিয়েছিলেন, বিনা প্ররোচনায় এবং সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে এই হামলা চালানোর সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে রাশিয়াকে। এর পরিণতি রাশিয়ার জন্য ভয়ঙ্কর হবে, এমনটাই বলেছিলেন তিনি। কয়েকদিন আগে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গিয়েছে, ইউক্রেনের জন্য আরও ৮০ কোটি ডলারের সামরিক সাহায্য বরাদ্দের কথা ঘোষণা করতে চলেছেন জো বাইডেন। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনকে সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ কোটি ডলার সামরিক অনুদান দিতে চলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

লিভিভে সারি সারি ফাঁকা প্যারাম্বুলেটর দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি অনেকেই।ইউক্রেনে বসবাসকারী একজন কানাডার নাগরিক নাতালিয়া টোঙ্কভোট বলেছেন, এই দৃশ্য অনেক সন্তানহারা বাবা-মায়ের বেদনাকে উস্কে দেবে। ‘ভাবুন, আপনার প্রাণপ্রিয় সন্তান ওই প্যারাম্বুলেটরে বসে খেলা করে। আপনি সারাদিন তাকে দেখেন। কিন্তু এই প্যারাম্বুলেটরগুলি ফাঁকা। কারণ, যাদের আজকে এই প্যারাম্বুলেটরগুলিতে ঘোরার কথা ছিল, তারা সকলেই ভাগ্যের পরিহাসে মৃত’, বলছেন তিনি। খালি প্যারাম্বুলেটর চোখে দেখা যায় না’, মন্তব্য নাতালিয়ার।

যুদ্ধে শুধুমাত্র দু’দেশের সৈনিকদেরই মৃত্যু ঘটে না কিংবা নাগরিকরাই নিহত হন না। যুদ্ধের বলি হয় হাজার হাজার নিষ্পাপ শিশুও। চারপাশে গুলি-বারুদের স্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন যেন বিষণ্ণচিত্তে সেই বার্তাই দিয়ে গেলো গোটা পৃথিবীকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.