Russia-ukraine war: ভারতীয়দের বন্দি করেছে ইউক্রেন, রাশিয়ার দাবি, অভিযোগ ওড়াল নয়াদিল্লি

Home বিদেশ-বিভূঁই Russia-ukraine war: ভারতীয়দের বন্দি করেছে ইউক্রেন, রাশিয়ার দাবি, অভিযোগ ওড়াল নয়াদিল্লি
Russia-ukraine war: ভারতীয়দের বন্দি করেছে ইউক্রেন, রাশিয়ার দাবি, অভিযোগ ওড়াল নয়াদিল্লি

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: গতকালই ভারত দাবি করে, ইউক্রেন থেকে সব নাগরিককে ফিরিয়ে আনা সম্ভব (evacuation process) হয়েছে। আজ রাশিয়া চাঞ্চল্যকর দাবি করল। ইউক্রেনে ভারতীয় পড়ুয়াদের নাকি পণবন্দি (Indian students hostage) করে রাখা হয়েছে। যদিও সেই দাবি ওড়াল নয়াদিল্লি। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের (Russia-ukraine war) প্রভাব মারাত্মক।

বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইউক্রনের ভারতীয় দূতাবাস সেখানকার ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রেখে চলেছে। গতকাল (বুধবার) অনেক ভারতীয় পড়ুয়া খারকিভ (kharkiv) শহর ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তবে কাউকে বন্দি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’ ভায়তীয় পড়ুয়াদের দেশে ফেরানোর বিষয়ে ইউক্রেন সরকারের উদ্যোগের প্রশংসাও করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।

ইউক্রেনের ভারতীয় দূতাবাস কর্তৃপক্ষের তরফে পড়ুয়াদের পণবন্দি করার খবরের সত্যতা যাচাই করে কোনও তথ্যপ্রমাণ মেলেনি বলেও ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী ওই বিবৃতি তাঁর সরকারি টুইটারে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘ইউক্রেনে ভারতীয় পড়ুয়াদের পণবন্দি (Indian students hostage) করার খবর নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে আমাদের প্রতিক্রিয়া।’

বুধবার রাতে রাশিয়ার তরফে ইউক্রেন (Ukraine) সেনার বিরুদ্ধে ভারতীয় পড়ুয়াদের পণবন্দি করার অভিযোগ তোলা হয়। দিল্লির রুশ দূতাবাসের টুইটারে লেখা হয়, ‘সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের নিরাপত্তা বাহিনী এই ছাত্রছাত্রীদের পণবন্দি করেছে এবং তাঁদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। যে কোনও উপায়ে তাঁদের রাশিয়া যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর সম্পূর্ণ দায় কিভের।’

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দাবি করে, যে সব ভারতীয় পড়ুয়া ইউক্রেন ছেড়ে রাশিয়ায় যেতে চাইছেন, তাঁদের খারকিভে আটকে রাখা হয়েছে। রাশিয়ায় পৌঁছতে পারলেই তাঁদের বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানায় ভ্লাদিমির পুতিন সরকার। বৃহস্পতিবার ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ইউক্রেনে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আটকে পড়া ভারতীয়দের ফেরাতে রাশিয়া, রোমানিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া এবং মলডোভার সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

রাশিয়ার (Russia) তরফে আরও বলা হয়েছে যে এই ছাত্রছাত্রীদের মানব ঢাল হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং রাশিয়া এই ছাত্রছাত্রীদের ‘জরুরী ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়া’ কাজ সংগঠিত করার চেষ্টা করছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে একটি টেলিফোন কথোপকথনের পর জারি করা এক রিডআউটে রাশিয়ার তরফে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

রিডআউট অনুসারে, পুতিন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত নির্দেশ দিয়েছেন। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের (Russia-ukraaine war) জল কতদূর গড়াবে জানে না কেউ।

রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধে (Russia-ukraine war) আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিক এবং ছাত্রদের ফিরিয়ে আনতে ভারত ইতিমধ্যেই ‘অপারেশন গঙ্গা’ শুরু করেছে। বুধবার ইউক্রেনে ভারতীয় দূতাবাস নাগরিকদের জন্য একটি নির্দেশ জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে যে তাদেরকে অবিলম্বে খারকিভ ছেড়ে যেতে হবে কারণ খারকিভ রুশ বাহিনীর আক্রমণ করেছে।

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে (russia-ukraine war) খারাকিভে রাশিয়ার চালানো গোলাগুলিতে মারা গিয়েছে এক ভারতীয় ছাত্র৷ তারপরই পুরো ইউক্রেনে (Ukraine) থাকা সমস্ত ভারতীয়দের সরিয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করেছে কেন্দ্র। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশের বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধণ শ্রিংলা জানিয়েছেন ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আর কোনও ভারতীয় আটকে নেই৷ গতকালই ১২ হাজার ভারতীয়কে দ্রুত ইউক্রেন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশের বিদেশ সচিব। কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুসারে ইউক্রেনে প্রায় ২০ হাজার ভারতীয় আটকে রয়েছে৷ যার বড় অংশকে গতকালই সেফ জায়গাতে সরিয়ে নিয়ে আসতে পেরেছে দেশ। প্রসঙ্গত গতকালই ভারতীয় বায়ু সেনা ও তাদের বিশেষ পরিবহণ বিমানকে ইউক্রেন থেকে ভারতীয়দের উদ্ধারকার্যে নামতে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরপরই উদ্ধার কার্য গতি পায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷
যদিও হর্ষবর্ধণ জানিয়েছেন এখনও পর্যন্ত বেশ কিছু ভারতীয় খারকিভে আটকে রয়েছেন যাদের দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা চলছে৷ এবং এ বিষয়ে তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের সরকারের সঙ্গে কথা বলছেন যাতে ভারতীয়দের উদ্ধারের জন্য সেফ রাস্তা দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত রাশিয়ার বারুদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্যবস্তু হয়েছে ইউক্রেনের কিয়েভ ও খারকিভ৷ মঙ্গলবার এই ২টি জায়গাতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘ক্লাস্টার বোমা’ ব্যবহারেরও অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন ১৯৪১ এ হিটলারের আক্রমণের পর এত বড় ধ্বংস ও ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন আর হতে হয়নি।

বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, ২০ হাজার ভারতীয়ের মধ্যে ১৩ হাজার ভারতীয় ইউক্রেন ছেড়েছেন। হর্ষবর্ধন শ্রীংলার মতে, বাকি ৪০ শতাংশ ভারতীয় এখনও ইউক্রেনে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অর্ধেক খারকিভ এবং বাকি অর্ধেক হয় ইউক্রেনের পশ্চিম সীমান্তে পৌঁছেছেন অথবা পশ্চিম সীমান্তে রওনা দিয়েছেন। সম্মেলনে বিদেশ সচিব বলেন, আমাদের সমস্ত নাগরিক কিয়েভ ছেড়েছেন। কিয়েভে আমাদের আর কোনও নাগরিক নেই।

এদিকে ওই দেশ থেকে যাতে সমস্ত পড়ুয়াদের ফিরিয়ে আনা যায় সেজন্য বন্দে ভারত মিশন বিমান ইউক্রেনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত। কিন্তু, এদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় একটি বিমানকে কিয়েভে নামতে দেওয়া হয়নি। UNSC বৈঠকে দেশের তরফে টি এস তিরুমূর্তি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক স্তরে শান্তি এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য যা করণীয় সেটা করার দিকে জোর দেওয়ার পক্ষপাতী আমরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.