Russia-Ukraine War: টিভিতে লাইভ অনুষ্ঠানে যুদ্ধবিরোধী প্ল্যাকার্ড! গ্রেফতার রাশিয়ার সংবাদ সংস্থার কর্মী

Home বিদেশ-বিভূঁই Russia-Ukraine War: টিভিতে লাইভ অনুষ্ঠানে যুদ্ধবিরোধী প্ল্যাকার্ড! গ্রেফতার রাশিয়ার সংবাদ সংস্থার কর্মী
Russia-Ukraine War: টিভিতে লাইভ অনুষ্ঠানে যুদ্ধবিরোধী প্ল্যাকার্ড! গ্রেফতার রাশিয়ার সংবাদ সংস্থার কর্মী

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: গত কয়েকধরে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার (Russia) আক্রমণ নিয়ে তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি। ইউক্রেনে ঢুকে একের পর এক অংশ দখল করতে শুরু করেছে রাশিয়া (Russia-Ukraine War)। ক্রমশ কঠিন হচ্ছে ইউক্রেনের পরিস্থিতি। এমতাবস্থায়, টিভিতে লাইভ অনুষ্ঠান চলাকালীন যুদ্ধবিরোধী (Anti war) প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে রাশিয়ায় গ্রেফতার হলেন রাশিয়ারই সংবাদ সংস্থার একজন কর্মী।

সোমবার সন্ধ্যাবেলা মস্কোতে ঘটেছে এমনই বিরল ঘটনা। জানা গিয়েছে, রাশিয়ার একটি টিভি চ্যানেলে সান্ধ্যকালীন খবর পড়ছিলেন একজন সঞ্চালক। হঠাৎই সেই সঞ্চালকের পিছনে প্ল্যাকার্ড হাতে একজন মহিলাকে এসে দাঁড়াতে দেখা যায়। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘যুদ্ধ নয়, যুদ্ধ (Russia-Ukraine War) বন্ধ করুন। এদের প্রচারে বিশ্বাস করবেন না। এরা এখানে আপনাকে মিথ্যা কথা বলছে।’

সঞ্চালক যখন খবর পড়ছিলেন, তখন বেশ কয়েক মিনিট প্ল্যাকার্ড হাতে সঞ্চালকের পিছনে দাঁড়িয়ে থাকেন ওই মহিলা। কিছুক্ষণ পরেই টনক নড়ে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের। সঙ্গে সঙ্গে চ্যানেলের তরফ থেকে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করা হয়। তবে জানা গিয়েছে, অনুষ্ঠান বন্ধ করার আগেও ওই মহিলার গলায় শোনা যাচ্ছিল ‘যুদ্ধ (Russia-Ukraine War) বন্ধ করুন’ রব।

রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ওই মহিলার নাম মেরিনা ওভস্যানিকোভা। তিনি ওই টিভি চ্যানেলেরই সম্পাদক হিসাবে কাজ করছিলেন। এই ঘটনার পরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, পুলিসি হেফাজতেই রয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ একটি টেলিভিশন বার্তায় ইউক্রেন আক্রমণ করার কথা (Russia-Ukraine War) ঘোষণা করেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে অস্ত্র ছাড়ার আবেদনও করেছিলেন তিনি। পুতিন স্পষ্টতই জানিয়ে দিয়েছিলেন যদি কোনও রক্তক্ষয় হয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে ইউক্রেনকেই। পরে রাষ্ট্রপুঞ্জের জরুরি অধিবেশনে ইউক্রেনের প্রতিনিধি বলেন, এই পরিস্থিতিতে অস্ত্র সংবরণের কথা বলার সময় পেরিয়ে গিয়েছে। ইউক্রেনে বহু আগে থেকেই রাশিয়ার হামলা শুরু হয়ে গিয়েছে। তখন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পুতিনকে বাহিনী প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপুঞ্জের জরুরি অধিবেশনে মহাসচিব বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিন, আপনাকে অনুরোধ, দয়া করে আপনার বাহিনীকে আটকান। সেনা ফিরিয়ে নিন। দয়া করে শান্তি বজায় রাখুন।’ কিন্তু তাঁর কথায় কর্ণপাত করেননি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

পুতিনের এই ঘোষণার পরই ইউক্রেনে আক্রমণ শাণায় রাশিয়া (Russia-Ukraine War)। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ,ওডেসাসহ একাধিক জায়গায় শোনা যায় বিস্ফোরণের শব্দ। ওইদিন সকালেই কিয়েভের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর বরিস্পিলে গুলি চালানোর আওয়াজ পাওয়া গিয়েছিল। দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকেও আক্রমণের খবর আসছিল। তিনদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে ইউক্রেনের বায়ুঘাঁটি ও এয়ার ডিফেন্স গুঁড়িয়ে দেয় রুশ সেনাবাহিনী। বেলারুশ সীমান্তের দিক থেকে ইউক্রেনে লাগাতার আক্রমণ চালানো শুরু করে রাশিয়া। ইউক্রেনের ডোনেৎস্ক,লুহানস্ক, লিভিভসহ বহু অঞ্চল দখল করেছে রাশিয়া।

রাশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি জানিয়েছেন বিনা প্ররোচনায় এবং সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে এই হামলা চালানোর সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে রাশিয়াকে। এর পরিণতি রাশিয়ার জন্য ভয়ঙ্কর হবে, এমনটাই বলেছেন জো বাইডেন।

জানা গিয়েছে, এর আগেও একবার তিনি নিজের ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন। এই ভিডিয়োতে ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার আক্রমণকে (Russia-Ukraine War) ‘অপরাধ’ হিসাবে উল্লেখ করেন তিনি। এর পাশাপাশি ওই ভিডিয়োতে তিনি বলেন, ক্রেমলিনের হয়ে কাজ করার জন্য তিনি যারপরনাই লজ্জিত। ‘আমি লজ্জিত যে আমি নিজেকে টেলিভিশনের পর্দা থেকে মিথ্যা বলার অনুমতি দিয়েছি। লজ্জিত যে আমি রাশিয়ার হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছি।’, বক্তব্য মেরিনার। এই ভিডিওতে তিনি রাশিয়ার জনগণের উদ্দেশে যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার বার্তা দেন এবং ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার এই আক্রমণের তীব্র প্রতিবাদও করেন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র রাশিয়ার জনগণই রাশিয়ার এই ‘পাগলামি’ থামাতে পারে।

মেরিনার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট হওয়ার কিছুক্ষণ পরই তাঁকে ধন্যবাদ জানান অসংখ্য নেটনাগরিক। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কিও একটি ভিডিও বার্তায় তাঁকে ধন্যবাদ জানান। তিনি জানিয়েছেন, যেভাবে রাশিয়ার মানুষরাই রাশিয়ার এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন তাতে এটা পরিষ্কার গোটা বিশ্বের মানুষ ইউক্রেনের সঙ্গে আছে। সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের কাছে জেলেনস্কি দাবিও জানিয়েছিলেন অবিলম্বে রাশিয়াকে ‘জঙ্গি দেশ’ ঘোষণা করার।

প্রসঙ্গত, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘর্ষের আজ একুশতম দিন। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়ার নেটমাধ্যম এবং সংবাদ সংস্থাগুলিকে ইচ্ছেমতো পরিচালনা করার অভিযোগ উঠেছিল ক্রেমলিনের (Kremlin) বিরুদ্ধে (Propaganda)। মেরিনার গ্রেফতারি সেই অভিযোগকেই আরও জোরালো করলো, এমনটাই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.