Russia – Ukraine war: চেরনোবিলের স্মৃতি, ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা রাশিয়ার

Home বিদেশ-বিভূঁই Russia – Ukraine war: চেরনোবিলের স্মৃতি, ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা রাশিয়ার
Russia – Ukraine war: চেরনোবিলের স্মৃতি, ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা রাশিয়ার

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে (Russia Ukraine war) ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালালো রাশিয়া। রুশ হামলার জেরে জাপোরিঝঝিয়ার ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন ধরে যায়৷ রাশিয়ার একটানা গোলাগুলি বর্ষণের জেরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (nuclear plant) ছ’টি চুল্লিতে আগুন ধরে যায়৷ যার জেরে প্রাথমিক ভাবে ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের (Russia Ukraine war) জেরে পারমাণবিক কেন্দ্র (nuclear plant) থেকে তেজষ্ক্রিয় রশ্মি ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও উদ্বেগ বাড়তে থাকে৷ যদিও সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ওই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের থেকে তেজষ্ক্রিয় বিকিরণের স্তর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই রয়েছে৷

ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সির তরফে টুইট করে একই কথা জানানো হয়েছে৷ পাশাপাশি, ওই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রুশ গোলাবর্ষণ বন্ধ হয়েছে বলেও খবর৷

পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রুশ হামলা শুরু হওয়ার পরই তা বন্ধ করার আর্জি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা৷ রাশিয়াকে সতর্ক করে তিনি জানান, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গোলাবর্ষণ বন্ধ না হলে চেরনোবিলের (Chernobyl), থেকে দশগুণ বড় বিপর্যয় ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে৷

জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (nuclear power station) মুখপাত্র জানিয়েছেন, রুশ বোমারু বিমানের হামলায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রায় সবকিছুই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে৷ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ জাপোরিঝঝিয়ায় রুশ হামলার পরেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন৷ রাশিয়া পরমাণু যুদ্ধ শুরু করতে চাইছে বলেও ইউক্রেনের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে৷

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি এজেন্সির তরফেও রাশিয়ার কাছে ইউক্রেনের সমস্ত পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালানো বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে৷ প্রসঙ্গত, জাপোরঝঝিয়ার এই কেন্দ্র থেকেই ইউক্রেনের চল্লিশ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়৷

শোনা গিয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে (russia- ukraine war) রুশ সেনারা চেষ্টা করছে যাতে বিপদ বেশি না ছড়ায়। কিন্তু ইউক্রেনে রুশ হামলার জেরে ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক চুল্লিতে যে মাত্রার আগুন ছড়িয়েছে তার বিপদ কাটেনি; এবং শুধু তাই নয়, তার জেরে আগামি দিনে যে ক্ষয়ক্ষতি ঘটতে চলেছে তা চেরনোবিল-কাণ্ডের চেয়েও বহুগুণ বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা।   

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছ’টি চুল্লির একটিতে এখনও আগুন জ্বলছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির এক মুখপাত্র বলেন, ওই এলাকায় রাশিয়ার হামলা অব্যাহত থাকায় আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করতে পারছেন না। বিশেষজ্ঞেরা বলেছেন, এভাবে আগুন জ্বলতে থাকলে ওই এলাকায় ভয়াবহ বিপর্যয় তৈরি হতে পারে। তবে রাশিয়ার সেনাবাহিনী (Russian force) আশপাশের এলাকা বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন করতে ওই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করে দিতে পারে বলেও মনে করছেন তিনি। জাপোরিঝঝিয়া ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ইউক্রেনের এক-চতুর্থাংশ বিদ্যুৎ এখান থেকেই সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

শুক্রবার ভোরে জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে বলে জানান ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধকালীন (Russia Ukraine war) সময়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরিস্থিতি নিয়ে ইউক্রেন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ও মার্কিন সরকার।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেন, এভাবে আগুন জ্বলতে থাকলে পারমাণবিক চুল্লিটি গলে যাবে এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে। বছরের পর বছর ধরে এর প্রভাব থাকবে। ১৯৮৬ সালে চেরনোবিল পারমাণবিক কেন্দ্রে যে বিপর্যয় ঘটেছিল, এ ক্ষেত্রে তার চেয়েও বহুগুণ বেশি কিছু ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর। কত গুণ? প্রায় ১০ গুণ!

এই পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, যে পারমাণবিক চুল্লিতে আগুন লেগেছে, সেটিতে সংস্কারকাজ চলছিল। সে কারণে ওই চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানির পরিমাণ কম ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia Ukraine war) উস্কে দিয়েছে চেরনোবিলের স্মৃতি। চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট পারমাণবিক চুল্লির সংখ্যা ছিল ৪টি। ১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল স্থানীয় সময় অনুযায়ী রাত ১টা ২৩ মিনিটে ইউক্রেন ও বেলারুশ সীমান্তে অবস্থিত পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির চতুর্থ পারমাণবিক চুল্লি থেকেই দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়। দুর্ঘটনাটি মূলত ঘটেছিল নিরাপদ শীতলীকরণের ওপর একটি পরীক্ষা চালানোর সময়। রাতের শিফটে দায়িত্বরত কর্মীরা ভুল করে পারমাণবিক চুল্লিটির টার্বাইনে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শীতল জল প্রবাহিত করেন। ফলে সেখানে বাষ্প কম উৎপাদিত হয়। এতে করে পারমাণবিক চুল্লিটি উত্তপ্ত হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে।দুর্ঘটনার জন্য কর্তব্যরত কর্মীদেরই দায়ী করা হয়ে থাকে। কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা বন্ধ করা ছিল এবং পারমাণবিক চুল্লিটি অনুপযুক্ত অবস্থায় চালানো হচ্ছিলো, যার ফলে শক্তি নির্গমন অতিরিক্ত হয়ে গিয়েছিল। আবার, একটি গবেষণায় বলা হয়েছে কর্মীদের রাতের শিফটে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এ দৃষ্টিকোণ থেকে সার্বিক ব্যবস্থাপনাও দায়ী। একারণে ৩ জনকে ১০ বছরের শাস্তি প্রদান করা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.