Russia-Ukraine War: এবার প্রত্যাঘাত ইউক্রেনের! তিনটি রুশ হেলিকপ্টার ধ্বংস জেলেনস্কির সেনাবাহিনীর

Home বিদেশ-বিভূঁই Russia-Ukraine War: এবার প্রত্যাঘাত ইউক্রেনের! তিনটি রুশ হেলিকপ্টার ধ্বংস জেলেনস্কির সেনাবাহিনীর
Russia-Ukraine War: এবার প্রত্যাঘাত ইউক্রেনের! তিনটি রুশ হেলিকপ্টার ধ্বংস জেলেনস্কির সেনাবাহিনীর

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: গত কয়েক দিন ধরে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার আক্রমণ নিয়ে তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি। ইউক্রেনে ঢুকে একের পর এক অংশ দখল করতে শুরু করেছে রাশিয়া (Russia-Ukraine War)। ক্রমশ কঠিন হচ্ছে ইউক্রেনের পরিস্থিতি। এমতাবস্থায়, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থায় পাল্টা আঘাত হানলো ইউক্রেন। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, খেরসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত তিনটি রুশ সামরিক হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ একটি টেলিভিশন বার্তায় ইউক্রেন আক্রমণ করার কথা (Russia-Ukraine War) ঘোষণা করেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে অস্ত্র ছাড়ার আবেদনও করেছিলেন তিনি। পুতিন স্পষ্টতই জানিয়ে দিয়েছিলেন যদি কোনও রক্তক্ষয় হয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে ইউক্রেনকেই। পরে রাষ্ট্রপুঞ্জের জরুরি অধিবেশনে ইউক্রেনের প্রতিনিধি বলেন, এই পরিস্থিতিতে অস্ত্র সংবরণের কথা বলার সময় পেরিয়ে গিয়েছে। ইউক্রেনে বহু আগে থেকেই রাশিয়ার হামলা শুরু হয়ে গিয়েছে। তখন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পুতিনকে বাহিনী প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপুঞ্জের জরুরি অধিবেশনে মহাসচিব বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিন, আপনাকে অনুরোধ, দয়া করে আপনার বাহিনীকে আটকান। সেনা ফিরিয়ে নিন। দয়া করে শান্তি বজায় রাখুন।’ কিন্তু তাঁর কথায় কর্ণপাত করেননি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

ভ্লাদিমির পুতিনের এই ঘোষণার পরই ইউক্রেনে আক্রমণ শাণায় রাশিয়া (Russia-Ukraine War)। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ,ওডেসাসহ একাধিক জায়গায় শোনা যায় বিস্ফোরণের শব্দ। ওইদিন সকালেই কিয়েভের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর বরিস্পিলে গুলি চালানোর আওয়াজ পাওয়া গিয়েছিল। দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকেও আক্রমণের খবর আসছিল। তিনদিক থেকে ঘিরে ফেলে ইউক্রেনের বায়ুঘাঁটি ও এয়ার ডিফেন্স গুঁড়িয়ে দেয় রুশ সেনাবাহিনী। বেলারুশ সীমান্তের দিক থেকে ইউক্রেনে লাগাতার আক্রমণ চালানো শুরু করে রাশিয়ার সেনাবাহিনী। ইউক্রেনের ডোনেৎস্ক,লুহানস্ক, লিভিভসহ বহু অঞ্চল দখল করেছে রাশিয়া।

ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার আক্রমণ (Russia-Ukraine War) শুরু হলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদোমির জেলেনস্কি (Volodimir Zelensky) লড়াইয়ের বার্তাই দিয়েছিলেন দেশবাসীকে। এমনকি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরের দিনই জেলেনস্কিকে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর পোশাক পরে লড়াইতে নামতে দেখা গিয়েছিল। রাশিয়ার সঙ্গে লড়াইয়ে পিছু হঠতে কোনওদিনই রাজি ছিলেন না তিনি। সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের কাছে তিনি প্রস্তাবও করেছিলেন রাশিয়াকে ‘জঙ্গি দেশ’ ঘোষণা করার। প্রসঙ্গত, ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার আক্রমণের আজ বাইশতম দিন। আর আজই রাশিয়ার ওপর সবথেকে বড় প্রত্যাঘাত হানলো ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাশিয়ার অন্তত তিনটি সামরিক হেলিকপ্টারে আঘাত হেনেছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ার চিত্রও। শুধু রুশ সেনার সামরিক হেলিকপ্টার ধ্বংস করেই ক্ষান্ত হয়নি ইউক্রেনের সেনাবাহিনী, খেরসন বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা রুশ সামরিক বাহিনীর গাড়ির ওপরও আঘাত হেনেছে তারা।

রাশিয়ার ওপর ইউক্রেনের এই প্রতিআক্রমণের (Russia-Ukraine War) চিত্র ধরা পড়েছে নাসার ‘ফায়ার ইনফরমেশন ফর রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ফার্মস)’-এর ক্যামেরাতেও। সাধারণত বিশ্বের বৃহৎ কোনও অগ্নিকাণ্ডের ছবি এই ক্যামেরার মধ্যে ধরা থাকে। আজ সেই ক্যামেরায় ধরা পড়লো রুশ সামরিক হেলিকপ্টার ধ্বংসের দৃশ্য। জানা গিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টা নাগাদ ইউক্রেনের সেনাবাহিনী খেরসন বিমানবন্দরে প্রত্যাঘাত চালায়। ধ্বংসলীলার সামান্য সময় পূর্বে তোলা ম্যাক্সারের উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, খেরসন বিমানবন্দরের টারম্যাকে দাঁড়িয়ে রয়েছে।সারি সারি রুশ সামরিক হেলিকপ্টার। রয়েছে বহু সামরিক সাঁজোয়া গাড়িও। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর আক্রমণের পর ওই অংশ থেকেই কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ধরা পড়ে ক্যামেরায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অন্তত তিনটি রুশ সামরিক হেলিকপ্টার ও একাধিক সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ইউক্রেনের বাহিনীর হামলায়।

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলার (Russia-Ukraine War) পরিপ্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি জানিয়েছিলেন, বিনা প্ররোচনায় এবং সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে এই হামলা চালানোর সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে রাশিয়াকে। এর পরিণতি রাশিয়ার জন্য ভয়ঙ্কর হবে, এমনটাই বলেছিলেন তিনি। এদিন হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গিয়েছে, ইউক্রেনের জন্য আরও ৮০ কোটি ডলারের সামরিক সাহায্য বরাদ্দের কথা ঘোষণা করতে চলেছেন জো বাইডেন। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনকে সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ কোটি ডলার সামরিক অনুদান দিতে চলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

বাইশদিন অতিক্রান্ত হলেও এখনও পর্যন্ত রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতির কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যদিও দুই দেশের তরফ থেকেই জানানো হয়েছে, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মিটিয়ে ফেলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। বুধবারও দু’পক্ষের বৈঠকের কথা রয়েছে, এমনটাই জানা গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.