Russia Ukraine War: ইউক্রেনে কানাডার ভয়ঙ্করতম স্নাইপার, কতটা খতরনাক ওয়ালি?

Home বিদেশ-বিভূঁই Russia Ukraine War: ইউক্রেনে কানাডার ভয়ঙ্করতম স্নাইপার, কতটা খতরনাক ওয়ালি?
Russia Ukraine War: ইউক্রেনে কানাডার ভয়ঙ্করতম স্নাইপার, কতটা খতরনাক ওয়ালি?

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের (Russia Ukraine war)  উত্তেজনা গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের বহু দেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে এই যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে উইক্রেনে পৌঁছে গিয়েছে কানাডায় ভয়ঙ্করতম স্নাইপার (sniper) । ‘ওয়ালি’ নামে যে বেশি পরিচিত। 

কানাডার Royal 22e Regiment-এর প্রাক্তন সদস্য ‘ওয়ালি’। এর আগে ২০১৫-তে আইএসের সঙ্গে লড়াই করতেও ইরাকে গিয়েছিলেন তিনি। ২০০৯ এবং ২০১১-তে কানাডিয়ান আর্মড ফোর্সের সঙ্গে আফগানিস্তানে লড়াই করেছেন তিনি। কানাডিয়ান আর্মড ফোর্সের সঙ্গে স্নাইপার হিসেবে আরও একাধিক অপারেশনে যোগ দিয়েছেন।

এবার ফের একবার ঘর ছেড়েছেন ‘ওয়ালি’। স্ত্রী-সন্তানকে রেখে ইউক্রেনে (Ukraine) গিয়েছেন তিনি। ইউক্রেনীয় সেনার (ukranian force) পাশে দাঁড়িয়ে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে রুশ সেনার বিরুদ্ধে লড়তে গিয়েছেন তিনি। 

তিনি জানিয়েছেন, ওখানকার সাধারণ মানুষ রাশিয়া নয়, ইউরোপের সঙ্গে থাকতে চান। সেজন্য তাঁদের মেরে ফেলা হচ্ছে। বিস্ফোরণে ঘর-বাড়ি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই এই লড়াইয়ে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ইউক্রেনীয়দের পাশে রয়েছি। ‘ওয়ালি’কে স্বাগত জানিয়েছেন ইউক্রেনীয়রাও।

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে (Russia Ukraine War)  বিধ্বস্ত ইউক্রেনে গিয়েও ‘ওয়ালি’র মনে একটা কষ্ট রয়ে গিয়েছে। একমাত্র ছেলের প্রথম জন্মদিনে তাঁর পাশে না থাকার দুঃখ। তবে ইউক্রেনের ধ্বংস স্তূপ চোখের সামনে ভেসে উঠলেই সমস্ত দুঃখ ভুলে যান ‘ওয়ালি’। তখন সেখানকার মানুষের চোখের জন মোছানোই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য হয়ে ওঠে। ‘ওয়ালি’ জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে আরও তিন কানাডিয়ান প্রাক্তন সেনাও ইউক্রেনে এসেছেন।     

ওয়ালি নামের প্রশিক্ষিত এই ঘাতক এর আগে আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ২০১৫ সালে ইরাকে গিয়েছিলেন। যুদ্ধ করেছেন সিরিয়া ও আফগানিস্তানে। এখন  তিনি রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে (Russia Ukraine war)।
কানাডার আরও তিন সাবেক সেনার সঙ্গে সম্প্রতি তিনি ইউক্রেন সীমান্তে পাড়ি জমান। তবে স্ত্রী ও সন্তানকে কানাডায় রেখে এসেছেন। ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে তাকে দুইবার আফগানিস্তানে মোতায়েন করা হয়েছিল। কানাডার সশস্ত্র বাহিনীর স্নাইপার হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।
সাড়ে তিন কিলোমিটার দূর থেকে গুলি করে তিনি মানুষ হত্যা করতে পারেন। এর আগে যেসব বিদেশি স্বেচ্ছায় ইউক্রেনের হয়ে লড়াই করতে চান, তাদের স্বাগত জানানোর কথা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
তিনি বলেন, রাশিয়ার দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাওয়া সব বিদেশিকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ওয়ালি বলেন, আমি কেবল তাঁদের সহায়তা করতে চেয়েছি। কারণ এখানে লোকজনের ওপর বোমা নিক্ষেপ করা হচ্ছে। তাঁরা রাশিয়ান না হয়ে ইউরোপীয় হতে চাওয়ার দায়ে তাঁদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেনে তাঁকে সবাই উষ্ণভাবেই স্বাগত জানিয়েছেন। রয়েল কানাডিয়ান ২২তম রেজিমেন্টের এই স্নাইপার বলেন, তাঁরা আমাকে পেয়ে খুবই খুশি। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁরা আমার বন্ধু হয়ে গেছেন।
৪০ বছর বয়সী ওয়ালি বর্তমানে বেসামরিক কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক কঠিন। ইউক্রেনে চলে আসায় সন্তানের প্রথম জন্মদিন তিনি উদযাপন করতে পারছেন না।
ওয়ালি আরও জানান, সপ্তাহখানেক আগে আমি ছিলাম একজন প্রোগ্রামিংকর্মী। কিন্তু এখন ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হাতে নিয়েছি মানুষ হত্যা করতে। এটিই বর্তমানের বাস্তবতা।
অনিচ্ছাকৃত হলেও তাঁর স্ত্রী তাঁকে ইউক্রেন যাওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁকে যেতে না দেওয়া হলে তিনি ভেঙে পড়বেন। দুনিয়াটা তাঁর কাছে তখন জেলখানার মতো মনে হবে।

এক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণত ‘ওয়ালি’ নামে পরিচিত এই প্রশিক্ষিত স্নাইপার (sniper) ২০১৫ সালে নিজে থেকেই আইএস’র বিরুদ্ধে লড়াই করতে ইরাক গিয়েছিলেন।

এরপর তিনি সিরিয়ায় কুর্দিদের সঙ্গে আইএস’র বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। এর আগে ৪০ বছর বয়সী এই স্নাইপার কানাডার সশস্ত্র বাহিনীর হয়ে ২০০৯ ও ২০১১ সালে আফগানিস্তানে গিয়েছিলেন।

ওয়ালি প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার দূরে থাকা মানুষকে হত্যা করে বিশ্বের অন্যতম ‘ভয়ঙ্কর’ স্নাইপার হয়ে ‍ওঠেছেন। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে (Russia Ukraine war) তিনি কী নজির তৈরি করেন তা দেখার।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ‘রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষায়’ ইচ্ছুক বিদেশিদের তার দেশে আমন্ত্রণ জানালে ওয়ালি তাতে সাড়া দেন।

ফ্রেঞ্চ-কানাডিয়ান সংবাদমাধ্যমে ওয়ালি বলেন, ‘তিনি আমাকে বলেছেন তাদের স্নাইপার প্রয়োজন। কোথাও আগুন লাগলে দমকল বাহিনীর সদস্যরা যেমন ছুটে যান, আমিও তেমনি ছুটেছি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁর স্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমি যদি তাঁকে না যেতে দিই তাহলে তিনি অনেক কষ্ট পাবেন। মনে হবে তাঁকে যেন জেলে পুরে রেখেছি।’

কানাডার সংবাদমাধ্যমকে ওয়ালি জানান, তার সঙ্গে কানাডার আরও ৩ সেনা আছেন। তারা এক সঙ্গে পোল্যান্ড হয়ে ইউক্রেনে প্রবেশ করেছেন। তিনি বলেন, আমরা এক সঙ্গে আছি, ভাবতে ভালো লাগছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.