যুদ্ধ নিয়ে ‘ভুয়ো’ খবর মনে হলেই ১৫ বছর পচতে হবে রাশিয়ার(Russia) জেলে, কঠোর আইন আনছেন পুতিন

Home বিদেশ-বিভূঁই যুদ্ধ নিয়ে ‘ভুয়ো’ খবর মনে হলেই ১৫ বছর পচতে হবে রাশিয়ার(Russia) জেলে, কঠোর আইন আনছেন পুতিন
যুদ্ধ নিয়ে ‘ভুয়ো’ খবর মনে হলেই ১৫ বছর পচতে হবে রাশিয়ার(Russia) জেলে, কঠোর আইন আনছেন পুতিন

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: এবার সংবাদমাধ্যমের উপর দমনপীড়ন নীতি নিল রাশিয়া(Russia) ।‘মিথ্যা’ খবর করলেই ১৫ বছরের জেলে ভরার হুঁশিয়ারি প্রসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের। ফলে যুদ্ধের(Russia and Ukraine conflict) সত্যনিষ্ঠ খবর করা সাংবাদিকদের জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ল।

এবার থেকে ইউক্রেনে(Ukraine)রাশিয়ার আগ্রাসন বা সামরিক অভিযান সংক্রান্ত কোনও খবর ‘ভুয়ো’(fake news) বা ‘অপপ্রচার’ মনে হলেই, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বা মিডিয়া হাউজের বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ করবে ক্রেমলিন৷ রাশিয়ার সংসদে এই সংক্রান্ত একটি আইন পাসের প্রথম ধাপ পার করিয়ে নেওয়া হয়েছে৷ এই আইন অনুযায়ী ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ রাশিয়ার সামরিক বাহিনী, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে কোনও ‘ভুয়ো’ খবর ছড়ালেই, সংবাদিকদের জন্য অপেক্ষা করছে দীর্ঘ কারাবাস। ১৫ বছরের রাশিয়ার জেলে পচতে হবে সংবাদকর্মীদের।

আরও জানতে পড়ুন – ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে প্রেসিডেন্ট পালিয়েছেন? রাশিয়ার দাবি ঘিরে জল্পনা

এই আইনটি বলবৎ করানোর পিছনে পুতিনের যুক্তি, বরাবরের যুক্তি, রাশিয়াকে(Russia) আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় কোণঠাসা করতে আমেরিকা ও তার সহযোগী পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলি একযোগে যুদ্ধের বীভৎসতা নিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। যা সরাসরি প্রভাবিত করছে রুশ নাগরিকদের। নিজের রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সুকৌশলে দেশের মানুষের মন বিষিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এই আইন পাস করিয়ে রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ, সে দেশের দণ্ডবিধি সংশোধনে সবুজ সঙ্কেত দিল। ফলে এবার যুদ্ধ সংক্রান্ত এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধাচারণকারী কোনও ‘ভুয়ো’ সংবাদ (fake news) প্রকাশকে অপরাধের তালিকায় যুক্ত করা হল। যার শাস্তি হিসেবে সংস্থান রাখা হল ১৫ বছরের জেল আর মোটা জরিমানার। একইসঙ্গে রাশিয়ার(Russia)  বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় সমর্থনের পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, শাস্তি হিসেবে মোটা অঙ্কের জরিমানা আদায়ে আইনি ছাড়পত্র দিয়ে। রুশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ডুমা ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাশিয়ার ক্রিমিনাল কোড সংশোধনী আইন পাস করিয়েছে। যাতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ‘যদি দেখা যায় যে এমন মিথ্যা খবর ছড়ানো হচ্ছে,যার সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে চলেছে, সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ বছর কারাবাসের বিধান রাখা হল।’

যুদ্ধরত রুশ সেনার(military) বিরুদ্ধে অপপ্রচার, ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা খবর রটানো বা যুদ্ধকালীন অবস্থায় দেশের বিরোধিতা করা- এইসব বিভিন্ন আচরণের জন্য কী কী শাস্তি হওয়া উচিত তা নির্দারণ করে রুশ আইনসভার সদস্যরাই। ডুমার ওয়েবসাইটে এইসব নতুন শাস্তির উল্লেখ না থাকলেও, স্পষ্ট যে মিডিয়ার বিরুদ্ধে দমনপীড়নের জন্য সরকারের হাত আরও শক্ত করলেন রুশ(Russia) আইনসভার সদস্যরা। ডুমার চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, ‘সম্ভবত আর দেরি না করে কাল থেকেই, মিথ্যে খবর প্রচার, আর সেনাবাহিনীর(military)  মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়, এমন প্রচার করলেই অপরাধীকে কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির মুখে পড়তে হবে। ’  

অন্যদিকে ইউক্রেনে(Ukraine)রাশিয়ার আগ্রাসনকে(Russia and Ukraine conflict), বিশেষ সামরিক অভিযান হিসেবে ব্যাখা করে পুতিনের মন্তব্য তাঁদের সীমান্তে আমেরিকার উদ্যোগে যখন ন্যাটো সামরিক বাহিনী নিজেদের বহরকে আরও শক্তিশালী করছে, তখন দেশের সুরক্ষার প্রশ্ন অগ্রাধিকার পেয়েছে। সেই কথা ভেবেই তাঁর এই সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত। একইসঙ্গে অভিযোগের আঙুল তুলে বলেছেন, ‘পশ্চিমী দুনিয়া নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া তাদের প্রচারে ইউক্রেনে ‘গণহত্যা’ হচ্ছে এমন ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করলেও, সেই দাবির স্বপক্ষে সত্যনিষ্ঠ কোনও রিপোর্ট প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়েছে।’ আপাতত সংশ্লিষ্ট আইনটি ডুমা-র সবুজসঙ্কেত পাওয়ার পর রুশ পার্লামেন্টে পেশ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সেখানে পাস হলেই প্রসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের স্বাক্ষরটুকু শুধু সময়ের অপেক্ষা।

এর ফলে আন্তর্জাতিক একাধিক সংবাদ মাধ্যম, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলি রাশিয়ায়(Russia) কোনও খবর প্রচার করতে পারবে না ৷ ইতিমধ্যে ফেসবুক এবং ট্যুইটারকে ব্লক করেছে ক্রেমলিন ৷ বিবিসি, আমেরিকা সরকারের ‘ভয়েস অফ আমেরিকা’ এবং রেডিয়ো ফ্রি ইউরোপ, রেডিয়ো লিবার্টি, জার্মান মিডিয়া ডয়েস ভেল এবং লাতভিয়ার ওয়েবসাইট মেডুজাও রাশিয়ায় সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে৷ বিবিসি জানিয়েছে, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ, অপরাধের নামে  সাংবাদিকের স্বাধীনতাকে হরণের সমান। ফলে সম্প্রচার বন্ধ করা ছাড়া আর কোনও পথ নেই।

রাশিয়ার জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা রসকোমনাদজোর জানিয়েছে, রাশিয়ায় কেউ ট্যুইটার এবং ফেসবুক ব্যবহার করতে পারবে না ৷ এর আগে ট্যুইটারের বিরুদ্ধে রাশিয়ার নিষিদ্ধ খবর মুছে না ফেলার অভিযোগ এনেছিল ক্রেমলিন ৷

অন্য দিকে প্রতিবাদ জানিয়েছে রাশিয়ার(Russia) মিডিয়া ৷ ‘টিভি রেন’ নামক মিডিয়া কোম্পানি, লাইভ সম্প্রচার বন্ধ রেখেছে ৷ ‘নো টু ওয়ার’ ছিল তাদের শেষ সম্প্রচার ৷ এই সংস্থার কর্মীরা একসঙ্গে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৷

ওই চ্যানেলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নাতালিয়া সিনদেইয়েভা জানিয়েছেন, ‘নো টু ওয়ার’ (যুদ্ধ নয়) তাদের শেষ সম্প্রচার ৷ তারপর তাঁরা সবাই স্টুডিও থেকে ওয়াক আউট করেন৷ এখন অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের সম্প্রচার বন্ধ থাকবে৷ এই মিডিয়ার মতো আরও অনেকগুলি সংস্থা নতুন আইনের হুমকিতে এবং ইউক্রেন হামলার প্রতিবাদে সম্প্রচার বন্ধ করেছে ৷

উল্লেখ্য একই রকম ঘটনা ঘটেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের সময় ৷ ১৯৯১ সালে এই চ্যানেলটি ‘সোয়ান লেক’ ব্যালেট ভিডিও দেখিয়েছিল৷ সেটি রাশিয়ার নিজস্ব টিভি চ্যানেলেও সম্প্রচারিত হয়৷ এখনও ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ৷

Leave a Reply

Your email address will not be published.