‘রাজার উচিৎ সর্বাধিক মানুষের স্বার্থ দেখা, তাঁবেদারদের কথা শোনা নয়’, মন্তব্য দেশের প্রধান বিচারপতির

Home দেশের মাটি ‘রাজার উচিৎ সর্বাধিক মানুষের স্বার্থ দেখা, তাঁবেদারদের কথা শোনা নয়’, মন্তব্য দেশের প্রধান বিচারপতির
‘রাজার উচিৎ সর্বাধিক মানুষের স্বার্থ দেখা, তাঁবেদারদের কথা শোনা নয়’, মন্তব্য দেশের প্রধান বিচারপতির

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: শাসকদের উচিত রোজ আত্মানুসন্ধান করা। তাঁরা যে সিদ্ধান্ত নিলেন তা সর্বাধিক মানুষের ভালো করবে কি না, বারবার তা নিয়ে নিজের মনকে প্রশ্ন করা উচিত। বারবার ভাবতে হবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোথাও কোনও গলদ রয়ে গেল কিনা। মন্তব্য ভারতের প্রধান বিচারপতি এন ভি রমন্নার।

অন্ধ্রপ্রদেশের পুত্তাপুর্তিতে শ্রী সত্য সাই ইনস্টিটিউট অব হায়ার লার্নিং-এর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণ প্রসঙ্গে রমান্না রামায়ণ ও মহাভারতের নানা কাহিনী উদ্ধৃত করেন। বলেন শাসকরা ১৪টি খারাপ গুণ আয়ত্ত করেন যা তাঁদের এড়িয়ে চলা উচিত। তুলে ধরেন মহাভারতের থেকে নারদ এবং ধর্মরাজের মধ্যে কথোপকথনের একাংশ। যেখানে নারদ ধর্মরাজকে প্রশ্ন করছেন, একজন রাজার আচরণ কেমন হওয়া উচিৎ? তখন ধর্মরাজের উত্তর ছিল,একজন শাসক সেভাবেই শাসনকাজ পরিচালনা করবেন, যাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের স্বার্থসিদ্ধি হয় এবং একজন রাজা কখনও সেই সব অকিঞ্চিৎকর মানুষের কথা কানে তুলবেন না, যা সুচিন্তিত নয় বা চিন্তার গভীরতাকে স্পর্শ করে না।

রমান্নার কথায়, ‘গণতান্ত্রিক কাঠামোয় সব শাসকেরই উচিত, তাঁদের রুটিন কাজ শুরু করার আগে অন্তর্দর্শন করা। ভাবা উচিত তাঁর মধ্যে কোনও খারাপ প্রবণতা কাজ করছে কিনা। প্রয়োজন শুধু প্রশাসন ঠিকমতো চালানো এবং যা শুধুমাত্র মানুষের প্রয়োজনমতোই পরিচালিত হওয়া উচিত। এখানে অনেক জ্ঞানী মানুষ আছেন এবং বিশ্ব জুড়ে ও দেশ জুড়ে যে সব ঘটনা ঘটছে তা আপনারা লক্ষ করছেন।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, জনগণই গণতন্ত্রের সর্বশেষ প্রভু এবং প্রশাসন যা-ই সিদ্ধান্ত নিক না কেন, তাতে তাদের উপকার হওয়া বাঞ্ছনীয়। বর্তমান শাসকদলকে মহিলা ও শিশুদের সুরক্ষিত রাখার ভার এবং দুঃস্থ ও অসহায়দের সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়াও অবশ্য কর্তব্য। যা প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতি ও রাজ ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে।

বিচারপতি রমন্নার আক্ষেপ, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্যের নিরিখে আধ্যাত্মিক বা নৈতিক উন্নতি সাধন পিছনের সারিতে চলে গেছে। ছাত্রদের চরিত্র গঠন এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা ও দায়িত্ব পালনের মনোভাব তৈরির কোনো দিশা আজকের শিক্ষা ব্যবস্থা দেখাতে পারে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.