লক্ষ্য সংগঠন বৃদ্ধি, পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে ৫ হাজার করে শাখা খুলছে আরএসএস (RSS)

Home দেশের মাটি লক্ষ্য সংগঠন বৃদ্ধি, পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে ৫ হাজার করে শাখা খুলছে আরএসএস (RSS)
লক্ষ্য সংগঠন বৃদ্ধি, পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে ৫ হাজার করে শাখা খুলছে আরএসএস (RSS)

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: মাত্র কয়েক মাস আগেই পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) বিধানসভা ভোটে ভরাডুবি হয়েছে বিজেপির। ৭৭টি আসন পেলেও পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) দখলের স্বপ্ন পূরণ হয়নি তাদের। এবার বিজেপির পাখির চোখ ২০২৪। আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগেই উত্তর-পূর্ব ভারতে সংগঠন বৃদ্ধি করতে মরিয়া বিজেপি। এমতাবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের উত্তর-পূর্বের অন্যান্য রাজ্যগুলিতে নতুন শাখা খোলার পরিকল্পনা করছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস (RSS)।

পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তরপূর্ব ভারতের প্রতিটি রাজ্যে পাঁচ হাজার করে নতুন শাখা খুলে জনসংযোগে জোর দিতে চাইছে তারা। বাংলা, অসম, ত্রিপুরা, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মিজোরাম ও নাগাল্যান্ডে সংগঠন বৃদ্ধিতে নতুন পদক্ষেপ করছে আরএসএস। ইতিমধ্যেই কলকাতার কেশব ভবনকে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রধান শাখা অফিসে পরিণত করা হয়েছে । আর পশ্চিমবঙ্গ থেকেই উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে সংগঠন বৃদ্ধির কাজ শুরু হবে, এমনটাই জানিয়েছেন আরএসএসের নেতারা।

মূলত এই নতুন শাখাগুলি থেকে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে আরএসএসের। কোভিডের জন্য উত্তর-পূর্ব ভারতের এই রাজ্যগুলিতে আরএসএসের শাখা অফিসে কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল । তারপর সূর্য নমস্কার-সহ একাধিক কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ।

আরএসএস সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনের আগে বাংলা ও গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতে সংগঠনকে শক্তিশালী করাই মূল লক্ষ্য তাদের । নির্বাচনের আগে আরএসএসের সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবতের (Mohon Bhagawat) পাখির চোখ বাংলা ও উত্তর-পূর্ব ভারত ৷ সেখানে সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে চাইছেন তিনি। সেই বিষয়ে একাধিক পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। নিজেদের ঘর গোছাতে ঢালাও সমাজসেবা মূলক কর্মসূচি করার লক্ষ্যমাত্রাও নিয়েছে আরএসএস । এজন্য ২ বছর সময় দেওয়া হয়েছে আরএসএস-এর প্রচারকদের এবং এই সমস্ত সামাজিক কাজকর্মই চলবে এই শাখাগুলির মাধ্যমে ।

আরএসএস-এর একজন প্রবীণ সদস্য বলেছেন, ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) তৃতীয়বারের জন্য দিল্লির কুর্সিতে বসবেন । তার জন্য আরএসএস এখন থেকেই আদাজল খেয়ে ময়দানে নামতে চলেছে । সেজন্যই উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে দু বছরের জন্য সংগঠনের বিশেষ মহড়া চলবে। নতুন নতুন শাখার মাধ্যমে ঢালাও সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ করে মানুষের মন জয় করাই তাদের আসল উদ্দেশ্য। অন্য সব জায়গা ছেড়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস (RSS) এখন পাখির চোখ করেছে পশ্চিমবঙ্গকে (West Bengal)। বাংলায় বিরাট করে শাখা প্রশাখা বিস্তার করার পরিকল্পনা করেছে তারা। সময় সীমা ২০২৪ সালে, অর্থাৎ ২ বছর। এই ২ বছরের মধ্যেই বাংলাকে প্রায় আরএসএস ঘাঁটিতে বদলে ফেলার পরিকল্পনা নিয়েছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনটি। প্রসঙ্গত, গত অক্টোবর মাসে কর্নাটকের ধারওয়াড়ে (Dharwad, Karnataka) অনুষ্ঠিত আরএসএস-এর গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকেই এর ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে।

আরএসএস-এর প্রথম লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গে ধারে ও ভারে সংগঠনকে যথা সম্ভব বাড়ানো। পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের মোট ১,৯০০ টি শাখা রয়েছে। আগামী ২ বছরে অন্তত ৭০০ নতুন শাখা যোগ করার লক্ষ্য নিয়েছে সংঘ। আর তারই প্রাথমিক ধাঁচা তৈরি করতে, পশ্চিমবঙ্গে ঘুরে গেছেন সংঘচালক মোহন ভগবত। দক্ষিণবঙ্গের আরএসএসের এক কার্যকর্তা জানিয়েছেন, সংঘ তাদের শাখাগুলিকে গ্রামাঞ্চলে মন্ডল স্তরে এবং শহরাঞ্চলে ওয়ার্ড স্তরে উন্নীত করতে চাইছে। বর্তমানে, মণ্ডল এবং ওয়ার্ডে প্রায় ৩০ শতাংশ উপস্থিতি রয়েছে।

এর আগে পশ্চিমবঙ্গে, সঙ্ঘ পরিচালিত হত দু’টি অঞ্চলে ভাগ করে। গত বছরের মার্চ মাসে আরএসএস তা ভেঙে নতুন আরেকটি অঞ্চল তৈরি করেছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গে এখন আরএসএস-এর সংগঠন পরিচালিত হচ্ছে তিনটি অঞ্চলভাগে। সংগঠন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ২০২৪ সালের মধ্যেই কার্যকর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছ। এর অন্যতম কারণ হল, ২০২৫ সালে সংঘের প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ। তার আগেই বাংলায় জাঁকিয়ে বসতে চাইছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনটি।

সংগঠন সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে আপাতত অল্পবয়সী সদস্যদের দুই বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। প্রবীণরা প্রচারের কাজের জন্য সংঘের নিয়মিত কাজ থেকে কয়েকদিন ছুটিও নিতে পারে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংঘ কর্তারা বলছেন, তাঁদের সংগঠন সমাজ থেকে আলাদা নয়। দুটিকে আরও কাছাকাছি আনার লক্ষ্যেই সংগঠন সম্প্রসারণ পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলা নিয়ে বিভিন্নরকম পরিকল্পনা রয়েছে আরএসএসের। তাদের ভাবনায় রয়েছে সারা বাংলায় ছড়িয়ে থাকা স্বাধীনতা সংগ্রামের অখ্যাত বা স্বল্পখ্যাত বীর নায়কদের ভূমিকা ও তাদের বিভিন্নরকম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার তুলে ধরা। এছাড়াও, স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থানগুলিকেও জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। এর সঙ্গে সঙ্গে সঙ্ঘের সকল সদস্যদের বলা হয়েছে, স্থানীয় মানুষদেরএমন কিছুর প্রশিক্ষণ দিতে বা এমন কিছুতে উৎসাহিত করতে যা তাদের জীবিকা অর্জনে সহায়তা করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সঙ্ঘ সম্প্রসারণের এই কর্মসূচি আসলে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির জন্য সমর্থন সংগ্রহের লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। বিজেপি ও আরএসএস-এর ঘনিষ্ঠতা কারোরই অজানা নয়। বস্তুত আরএসএস থেকেই অনেক বিজেপি নেতারা উঠে আসেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি থেকে বাংলার দিলীপ ঘোষ – প্রত্যেকেই সঙ্ঘ থেকেই উঠে আসা। তবে সংঘের নেতারা অবশ্য এই ধারণা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করছেন। তাঁদের দাবি, বাংলায় সব কিছুই আসলে রাজনৈতিক চশমা দিয়ে দেখা হয়। সংগঠন বৃদ্ধি একান্তই আরএসএস-এর নিজস্ব কর্মসূচি, তার সঙ্গে বিজেপি বা নির্বাচনের যোগ নেই বলেই দাবি করছেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার মোহন ভাগবতের ওড়িশার সম্বলপুরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.