চেন্নাইয়ের (Chennai) সর্বকনিষ্ঠ কাউন্সিলর (Youngest Councillor) হিসেবে নির্বাচিত হলেন রিক্সা চালকের কন্যা

Home দেশের মাটি চেন্নাইয়ের (Chennai) সর্বকনিষ্ঠ কাউন্সিলর (Youngest Councillor) হিসেবে নির্বাচিত হলেন রিক্সা চালকের কন্যা
চেন্নাইয়ের (Chennai) সর্বকনিষ্ঠ কাউন্সিলর (Youngest Councillor) হিসেবে নির্বাচিত হলেন রিক্সা চালকের কন্যা

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক:  বয়সে তিনি সবথেকে ছোটো। কিন্তু ভোটের ময়দানে তাঁর জয়লাভের দৃষ্টান্ত পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদকেও অবাক করে দিতে পারে। এই তরুণী চেন্নাই পৌরসভা (Chennai Corporation) নির্বাচনে সর্বকনিষ্ঠ কাউন্সিলর (Youngest Councillor) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর জয়ের ব্যবধান ৮,৬৯৫। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (Communist Party Of India) মার্কসবাদী (Marxist) এই প্রার্থীর পরিচয়, তিনি আদতে একজন রিক্সা চালকের কন্যা।

সর্বকনিষ্ঠ কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হওয়া এই প্রার্থীর নাম প্রিয়দর্শিনী। ২১ বছর বয়সী এই তরুণী চেন্নাইয়ের ভিল্লিভাক্কাম অঞ্চলের বাসিন্দা। তিনি যে ওয়ার্ডের (Ward) প্রার্থী হয়েছিলেন সেই আসনটি মধ্য চেন্নাই পৌরসভার অধীনস্থ। এছাড়াও চেন্নাই কর্পোরেশনে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত যে ৫০ টি আসন রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হল এটি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সর্বভারতীয় আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজহাগাম পার্টি যেটি এআইএডিএমকে (AIADMK) নামেই বেশি পরিচিত সেই দলের প্রার্থীকে তিনি হারিয়েছেন ৮,৬৯৫ ভোটে। যেখানে বিপক্ষ দলের প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ৩,৪০৮ ভোট। এর আগে চেন্নাইয়ের নির্বাচনে সিপিআই(এম) (CPIM) কে বেশ কয়েকবার ডিএমকে (DMK), ডিএমডিকে (DMDK), ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (IUML) ও কংগ্রেসের (Congress) সঙ্গে জোট করতে এবং যৌথ ভাবে ভোটে লড়তে দেখা গিয়েছিল। তবে এবারের পৌর নির্বাচনে সিপিআই(এম) একাই প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে এবং ঈর্ষণীয় ব্যবধানে জিতেছেন কমিউনিস্ট পার্টির এই সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী।

প্রিয়দর্শিনীর রাজনীতিতে হাতেখড়ি একেবারে ছোটোবেলা থেকেই। পেশায় রিক্সা চালক প্রিয়দর্শিনীর বাবা নিজেও একজন কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য। প্রায় ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁর এই দলের সদস্য পদ রয়েছে এবং সেই সঙ্গে তিনি একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন। প্রিয়দর্শিনীর রাজনৈতিক কর্মজীবনের শুরু কলেজে পড়াকালীন। চেন্নাইয়ের স্টেল্লা মারিস কলেজ (Stella Maris College) থেকে সমাজতত্ত্ব (Sociology) বিষয়ে স্নাতক পাস করেন তিনি। তারপর যোগ দেন ছাত্র রাজনীতিতে। রাজনীতির শুরুতে স্টুডেন্ট ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার (SFI) ছাত্র পরিষদের সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে সিপিআই(এম) এর ডিওয়াইএফআই (DYFI) শাখার সদস্য হন প্রিয়দর্শিনী।

জয়লাভের পর প্রিয়দর্শিনী জানিয়েছেন, তাঁর দায়িত্বে থাকা ৯৮ নং ওয়ার্ডটিকে মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলবেন তিনি। তাঁর কথায়, এই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা যাতে সমস্ত রকম সামাজিক ও নাগরিক সুযোগ সুবিধা পেতে পারেন, সেটাই হবে তাঁর প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য। এই ওয়ার্ডের অন্যতম একটি সমস্যা হল দীর্ঘদিনের জল যন্ত্রনা। সেই বিষয়ে নজর দেবেন বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি পরিষেবাগত দিক থেকে আরও যা যা সমস্যা রয়েছে তার সবটাই দ্রুত গতিতে সমাধান করা হবে বলে প্রিয়দর্শিনী আশ্বাস দিয়েছেন।

তাঁর এই জয় প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চেন্নাই সিপিআই(এম) এর জেলা সেক্রেটারি (District Secretary) জি সেলভা (G Selva)। তাঁর মন্তব্য, মধ্য চেন্নাইয়ের সর্বকনিষ্ঠ কাউন্সিলর হিসেবে প্রিয়দর্শিনীর এই কৃতিত্ব অন্যদের কাছে একটা উদাহরণ। এখনকার নতুন প্রজন্ম যাঁরা রাজনীতিতে আসতে সঙ্কোচ বোধ করেন বা কোনও কারণে উৎসাহ পান না, প্রিয়দর্শিনী তাঁদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারেন। মাত্র ২১ বছর বয়সেই মানুষের সেবা করার এই দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া মোটেই খুব সহজ কাজ নয়। তাঁর প্রত্যাশা, প্রিয়দর্শিনীর মতোই যুব প্রজন্মের আরও অনেকে এই ভাবে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে এগিয়ে আসুক।

তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) নির্বাচনের দিকে যদি আমরা নজর রাখি তাহলে দেখা যাবে এই বছর অর্থাৎ ২০২২ সালের পৌরসভা নির্বাচনে বিজয়ীদের একটা বড়ো অংশই হলেন নতুন প্রজন্মের প্রার্থী এবং যুব সম্প্রদায়ের সদস্য। এই প্রবণতা রাজনীতিতে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দেবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি যুবক-যুবতীদের উৎসাহকে কাজে লাগিয়ে দলকেও নতুন উদ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে, এমনটাই মত দলের শীর্ষ নেতৃত্বদের।

প্রিয়দর্শিনীর মতোই তরুণ প্রজন্মের আরও এক প্রতিনিধি যিনি এবছর চেন্নাইয়ের পৌরসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন, তিনি হলেন ২২ বছর বয়সী ডি নিলাভারাশী (D Nilavarasi)। ১৩৬ নং ওয়ার্ড থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি এবং সুনিশ্চিত ভাবে জয়লাভ করেছেন। তাঁর প্রতিপক্ষ হিসেবে এবার ভোটে লড়েছিলেন ওই ওয়ার্ডের বেশ কয়েক বছরের জয়ী প্রার্থী ও কাউন্সিলর গুনাসেকরণের (Gunasekaran) স্ত্রী। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন নিলাভারাশী।

এর আগে এমবিএর (MBA) জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নিলাভারাশী। সাংবাদিকদের তিনি জানান, ‘আমি রাজনীতিতে আসা অথবা ভোটের প্রার্থী হওয়ার জন্য কোনও ভাবেই প্রস্তুত ছিলাম না। আমার বাবা প্রায় ৩০ বছর ধরে বিভিন্ন সামাজিক কাজের (Social Service) সঙ্গে যুক্ত আছেন। উঁনি সমাজসেবামূলক একটি সংস্থার (Trust) দায়িত্বেও রয়েছেন। এই সংস্থা প্রধানত ক্রীড়াক্ষেত্রে কৃতী অথচ আর্থিকভাবে অক্ষম ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য করে থাকে। এখন থেকে কাউন্সিলর হিসেবে আমিও এই সংস্থার পাশে দাঁড়াতে পারবো’। এছাড়াও এই অঞ্চলের মানুষদের স্বাস্থ্যবিধি ও সুরক্ষার দিকেও বিশেষ জোর দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

Leave a Reply

Your email address will not be published.