হায়দরাবাদের রেস্তোরাঁয় (Restaurant) বিশেষ ‘সৌজন্যমূলক ছাড়’, পেতে গেলে বিনম্র হতে হবে ক্রেতাকে

হায়দরাবাদের রেস্তোরাঁয় (Restaurant) বিশেষ ‘সৌজন্যমূলক ছাড়’, পেতে গেলে বিনম্র হতে হবে ক্রেতাকে

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়ার চল আমাদের সকলেরই আছে। আট থেকে আশি কম-বেশি সকলেই নানা উপাদেয় খাবারের রসাস্বাদন করতে রেস্তোরাঁমুখী (Restaurant) হতে ভালোবাসেন। দেশ বিদেশের বিভিন্ন নামকরা রেস্তোরাঁয় মেনু হিসেবে কখনও থাকে চাইনিজ, কখনও কন্টিনেন্টাল তো আবার কখনও থাই খাবারের আধিক্য। সে তো নয় হলো, কিন্তু কোনও বিশেষ পার্বণ ছাড়াই রেস্তোরাঁর মেনুতে ছাড় পাওয়া যায় এমন ঘটনা দেখেছেন কখনও? হ্যাঁ, এমনটাই ঘটছে এই ভূ-ভারতে। হায়দরাবাদের (Hyderabad) এক রেস্তোরাঁ, যেখানে মানবিক আচরণের ভিত্তিতে মধ্যাহ্নভোজ ও নৈশভোজের ক্ষেত্রে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ ছাড় (discount)। অর্থাৎ আপনি যত বিনীতভাবে ওয়েটারের সঙ্গে ব্যবহার করতে পারবেন, খাবার অর্ডার করার সময় যত বেশি বিনম্র হতে পারবেন, সেই অনুযায়ী খাবারের দামেও ছাড় পেয়ে যাবেন। হায়দরাবাদের তেলেঙ্গানা অঞ্চলের ‘দক্ষিণ ৫’ নামের রেস্তোরাঁটি এরকমই এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।

এই রেস্তোরাঁয় (Restaurant) রসনাতৃপ্তির খোঁজে আসা ব্যক্তিরা পেয়ে থাকেন বিশেষ ‘সৌজন্যমূলক ছাড়’ (Courtesy discount)। ভাবছেন কীভাবে? তাঁর জন্য খাবার অর্ডার দেওয়ার সময় কয়েকটি শব্দবন্ধ বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহার করতে হয়। যেমন, ‘শুভ সন্ধ্যা’, ‘অনুগ্রহ করে’, ‘ধন্যবাদ’ ইত্যাদি। এই শব্দবন্ধের বিনিময়েই রেস্তোরাঁর তরফ থেকে আপনি পেয়ে যেতে পারেন সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা পর্যন্ত ছাড়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে রেস্তোরাঁর মালিকবর্গ এক অসাধারণ বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন তা স্বীকার করতেই হয়। সাধারণ ভাবে রেস্তোরাঁর ওয়েটার বা যাঁরা খাবার পরিবেশনের দায়িত্বে থাকেন তাঁদেরকে এক দিক থেকে খাটো চোখেই দেখা হয়। কোথাও না কোথাও বিত্তশালী ব্যক্তিরা ভুলে যায় যে সম্পূর্ণ রেস্তোরাঁর আতিথেয়তার দায়িত্ব এই মানুষগুলোর কাঁধেই থাকে। খাবারের মাধ্যমে তাঁরা আমাদের মনোরঞ্জন করেন, কিন্তু আমরা তাঁদের ন্যুনতম সম্মানটুকু দিতেই ভুলে যাই। ওয়েটারদের সম্বোধন করার ক্ষেত্রেও একপ্রকার অসম্মানজনক ইঙ্গিত বা অশ্লীলতা লক্ষ্য করা যায়। এই মানসিকতার বদল ঘটাতেই অভিনব এই উদ্যোগ নিয়েছে হায়দরাবাদের এই রেস্তোরাঁটি (Restaurant)।

এই রেস্তোরাঁর (Restaurant) পক্ষ থেকে যে অভিনব ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে সেই সংক্রান্ত একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই ট্যুইটারে শেয়ার করা হয়েছে। যা দেখে নেট নাগরিকরা রীতিমতো উছ্বসিত এবং প্রত্যেককেই ইতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে। হায়দরাবাদ শহরে জন সংযোগমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ডি. রামচন্দ্রম নামে এক ব্যক্তি এই ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন এই ধরণের উদ্যোগ ভূ-ভারতে এই প্রথম। আক্ষরিক অর্থেই ‘দক্ষিণ ৫’ রেস্তোরাঁর এই প্রয়াস এক অনন্য উদাহরণ।

ধরুন এই রেস্তোরাঁয় (Restaurant) মধ্যাহ্নভোজ বা নৈশভোজের জন্য কোনও থালি আপনি অর্ডার করেছেন, সাধারণ ভাবে যার দাম ১৬৫ টাকা। তবে এই থালিটিই আপনি পেয়ে যেতে পারেন মাত্র ১৫০ টাকায়, যদি অর্ডার দেওয়ার সময় আপনি সামান্য সৌজন্যের পরিচয় দেন। সৌজন্যের ওপর ভিত্তি করে এখানে বিভিন্ন রকম ছাড়ের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ কোনও ক্রেতা অর্ডার করার সময় ওয়েটারদের যদি আলাদা করে অভিবাদন জানান, তাঁদের ‘সুপ্রভাত’ বা ‘শুভ রাত্রি’ ইত্যাদি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সেক্ষেত্রে সুস্বাদু বিভিন্ন খাবারের দামে অতিরিক্ত ২০ থেকে ৩০ টাকা ছাড় পেয়ে যাবেন তাঁরা।

‘দক্ষিণ ৫’ রেস্তোরাঁর (Restaurant in Hyderabad) এই ব্যবসা যৌথভাবে সামলাচ্ছেন যে দুই ব্যক্তি তাঁরা হলেন এ. কে. সোলাঙ্কি এবং তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার সঞ্জীব কুমার ব্লেক। এক সাক্ষাৎকারে তাঁরা বলছিলেন, পাশ্চাত্য দেশের ক্যাফেটেরিয়াগুলিতে এই ধরণের চল রয়েছে। যেখানে ওয়েটারদের পেশাকে যথেষ্ট মর্যাদা ও স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আমাদের দেশে এখনও এই রকম চিন্তা-ভাবনা ও মানসিকতার অভাব রয়েছে। এই গণ্ডি ছেড়েই আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। অনেক সময়ই দেখা যায় ওয়েটারদের কোনও দোষ না থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বিভিন্ন ভাবে ক্রেতার সামনে হেনস্থা হতে হয়। নানা কারণে তাঁদের অপমান করা হয়। অথচ ‘অতিথিই নারায়ণ’ এই বেদবাক্যকে মান্যতা দিয়ে কোনও রকম প্রতিবাদ ছাড়াই ক্রেতাদের থেকে পাওয়া অসম্মান হাসি মুখে সহ্য করেন খাবার সরবরাহকারীরা। একবারের জন্যেও তাঁরা মনে রাখেন না যে তাঁরাও মানুষ, তাঁদেরও নুন্যতম সম্মান পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সার্বিকভাবে রেস্তোরাঁ (Restaurant) কর্মীদের এই সামাজিক অবস্থানের পরিবর্তন হোক, ব্যবসায়ী হিসেবে এই দুই রেস্তোরাঁ মালিকের এটাই এখন প্রধান উদ্দেশ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published.