গান্ধিজিকে অসম্মান! স্বঘোষিত ধর্মগুরু কালীচরণ মহারাজের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ

Home দেশের মাটি গান্ধিজিকে অসম্মান! স্বঘোষিত ধর্মগুরু কালীচরণ মহারাজের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ
গান্ধিজিকে অসম্মান! স্বঘোষিত ধর্মগুরু কালীচরণ মহারাজের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: পুলিসের চোখে ধুলো দিয়েও শেষরক্ষা হল না। মধ্যপ্রদেশের  খাজুরাহো থেকে গ্রেপ্তার স্বঘোষিত ধর্মগুরু কালীচরণ মহারাজ। সম্প্রতি ছত্তীসগড়ের রায়পুরে একটি ধর্ম সংসদে মহাত্মা গান্ধির বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্যই গ্রেপ্তার করা হল এই হিন্দু ধর্মগুরুকে। ধৃত ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ।

রায়পুরের এসএসপি প্রশান্ত আগরওয়ালও জানিয়েছে্ন, মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহোর বাগেশ্বরী ধামের কাছে কালীচরণ মহারাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। রবিবার রায়পুরের এক হিন্দু ধর্ম সংসদে মহাত্মা গান্ধি  সম্পর্কে অসম্মানজনক ও অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে রায়পুরের টিকরাপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

রায়পুরের এসপি প্রশান্ত আগরওয়াল বলেছেন, প্রথমে খাজুরাহোতে নিজের নামে একটি গেস্টহাউস ঘর নেন তিনি। কিন্তু পুলিসকে বিভ্রান্ত করতে সেখানে না থেকে, খাজুরাহো থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরের বাগেশ্বরী ধামে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকছিলেন কালীচরণ মহারাজ।এমনকী গুরুকে বাঁচাতে তাঁর শাগরেদরাও ফোন বন্ধ করে দেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার ভোর চারটে নাগাদ সেই ভাড়া বাড়ি থেকেই পুলিস তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। সন্ধের পর কালিচরণকে নিয়ে রায়পুর পুলিস মধ্যপ্রদেশ থেকে ছত্তিশগড় পৌঁছবে।যদিও মধ্যপ্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্র অভিযোগ তুলেছেন, রাজ্য পুলিসকে অন্ধকারে রেখেই, কালীচরণ মহারাজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি অভিযান চালিয়েছে ছত্তিশগড় পুলিস। যদিও  ছত্তিশগড়ের মুখ্য়মন্ত্রী ভূপেশ বাগেলের পাল্টা মন্তব্য, আগে এটা স্পষ্ট হওয়া উচিত, মহাত্মা গান্ধিকে প্রকাশ্যে অপমান করে যে  ব্যক্তি, তাঁর গ্রেপ্তারি কি নরোত্তম মিশ্রকে অখুশি করেছে।

বিতর্কের সূত্রপাত ছত্তিশগড়ে আয়োজিত এক ধর্মীয় সভায়। মহাত্মা গান্ধির হত্যার প্রসঙ্গ তুলে,নাথুরাম গডসের স্তূতি উঠে আসে কালীচরণ মহারাজের তাঁর গলায়। আর এই মন্তব্যের জেরেই স্বঘোষিত ধর্মগুরু বিতর্কের জড়িয়ে যান।রবিবারের ওই ধর্মসভায় শুধু গডসেকে মহান করাই নয়, গান্ধিকে অপমান করতে গিয়ে টেনে আনা হয় সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকেও। কালীচরণ মহারাজের অভিযোগ ছিল,‘স্বাধীনতার পর সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলকে প্রধানমন্ত্রী করা হলে, আজ ভারত আমেরিকার থেকেও শক্তিশালি রাষ্ট্রে পরিণত হত।কিন্তু গান্ধিজিই তা চাননি। গান্ধি শুধু চেয়েছিলেন স্বাধীন ভারতে নেহরু-গান্ধি সাম্রাজ্য চালাতে।’ এমনকী এও বলেন, রাজনীতিকে হাতিয়ার করে, ইসলাম গোটা ভারতকে করায়ত্ত করতে চাইছে। হিন্দু ধর্মের রক্ষায়, দেশবাসীর উচিত একজন কট্টর হিন্দুত্ববাদীকে নেতা নির্বাচন করা।বলা হয় এইভাবে ধর্মীয় উস্কানির পরই ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে রায়পুরের প্রাক্তন মেয়র তথা কংগ্রেস নেতা প্রমোদ দুবে এফআইআর দায়ের করেন।

কালিচরণের বিরুদ্ধে ছত্তিশগড় থেকে শুরু করে মহারাষ্ট্র পর্যন্ত একাধিক মামলা রয়েছে। মহারাষ্ট্র পুলিস বেশ কিছুদিন ধরেই কালীচরণের খোঁজ করছিল। পুলিস জানিয়েছে, রায়পুরে মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছিলেন কালীচরণ।

মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা জিতেন্দ্র আহওয়াড় কালীচরণের বিরুদ্ধে থানে পুলিসে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। নিজেকে কালীর পুত্র বলে দাবি করা কালীচরণ গান্ধিজী সম্পর্কে রায়পুরের ধর্ম সংসদে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন। এরপর গত ২৭ ডিসেম্বর নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি ৮.৫১ মিনিটের একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ওই ভিডিওতে তিনি বলেন, যে কথা তিনি বলেছেন, তা নিয়ে তাঁর কোনও অনুশোচনা নেই। এই মন্তব্যের কারণে তাঁকে ফাঁসিতে চড়ানো হলেও, তা মাথা পেতে নেবেন।

মহারাষ্ট্রের অকোলার বাসিন্দা কালীচরণ মহারাজ। মহারাষ্ট্রের সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী নবাব মালিক এই ধর্মগুরুকে ‘ফর্জিবাবা’ অর্থাৎ ভুয়ো ধর্মগুরু আখ্যা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন।

কালীচরণ মহারাজের পিতৃদত্ত নাম অভিজিৎ ধনঞ্জয় সারাং। অভিজিতের ধীরে ধীরে কালীচরণ হয়ে ওঠার নেপথ্যে রয়েছে তাঁর ধর্মাসক্তি। ইন্দোরের এক ধর্মগুরুর সান্নিধ্যে এসে তিনি নিজেকে ধর্মের পথে ঠেলে দেন বলে জানা যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.