সরকারিভাবে পুতিনের (putin) যুদ্ধ ঘোষণার দিন ২৪ ফেব্রুয়ারি, মেটাডেটা (metadata) বলছে অন্য কথা

Home বিদেশ-বিভূঁই সরকারিভাবে পুতিনের (putin) যুদ্ধ ঘোষণার দিন ২৪ ফেব্রুয়ারি, মেটাডেটা (metadata) বলছে অন্য কথা
সরকারিভাবে পুতিনের (putin) যুদ্ধ ঘোষণার দিন ২৪ ফেব্রুয়ারি, মেটাডেটা (metadata) বলছে অন্য কথা

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সরকারি যুদ্ধ ঘোষণার দিন ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২। সম্প্রতি যে ভিডিও সামনে এসেছে, তা বলছে অন্য কথা। মেটাডেটা বলছে, পুতিনের ইউক্রেন আগ্রাসনের ঘোষণা করা হয়েছিল ৩ দিন আগেই। মানে ২১ ফেব্রুয়ারি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বোরিস জনসন বলেছেন, ১৯৪৫ এর পর এটা ইউরোপের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ।অবশেষে বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ‘সামরিক অভিযানের’ ঘোষণা করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ‘শত্রু’ ইউক্রেনের সেনাকে আত্মসমপর্ণের বার্তাও দেন তিনি। তার জেরে স্বভাবতই ইউরোপের আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ আরও গভীর হয়ে গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল!

কিছুটা চমক দিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ছ’টার কিছুটা আগে (স্থানীয় সময়) টেলিভিশন বার্তায় পুতিন বলেন, ‘আমি সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ ইউক্রেনের বাহিনীকে অস্ত্র ছাড়ার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি আমেরিকা-সহ পশ্চিমী দুনিয়াকে পুতিন হুঁশিয়ারি দেন, যে দেশ সেই ‘সামরিক অভিযানে’ হস্তক্ষেপ করবে, তাদের ফল ভুগতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ইউক্রেনকে ন্যাটোয় যোগদান থেকে বিরত করার যে দাবি করছিল ক্রেমলিন, তাতে কোনও ভ্রূক্ষেপ করেনি আমেরিকা এবং বন্ধু রাষ্ট্রগুলি। সেই পরিস্থিতিতে ‘সামরিক অভিযানের’ ঘোষণা করলেও ইউক্রেন দখলের কোনও অভিপ্রায় নেই বলে দাবি করেছেন পুতিন।রাশিযার প্রেসিডেন্টের সেই ঘোষণার আগেই ক্রেমলিনের তরফে দাবি করা হয়, কিয়েভের বিরুদ্ধে সামরিক সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন পূর্ব ইউক্রেনের ‘বিদ্রোহী’ নেতারা। প্রত্যুত্তরে রাতের দিকে আবেগময় বার্তায় রাশিয়ার মানুষকে ‘ইউরোপে বড়সড় যুদ্ধকে’ সমর্থন না করার আর্জি জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়ান ভাষায় জেলেনস্কি অভিযোগ করেন যে কিয়েভের বিষয়ে রাশিয়ার মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন পুতিনরা। ইতিমধ্যে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে দু’লাখ ফৌজি মোতায়েন করেছে মস্কো। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, কারা (যুদ্ধ) রুখতে পারবেন? মানুষ। আপনারাই হলেন সেই মানুষ। আমি সে বিষয়ে নিশ্চিত। সেইসঙ্গে জেলেনস্কি দাবি করেন, পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনও উত্তর মেলেনি।তারইমধ্যে বুধবার রাতে ইউক্রেন সংকট নিয়ে আরও একটি জরুরি বৈঠক করেছে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তাতে রাশিয়াকে ‘শান্তি রক্ষার’ আর্জি জানানো হয়। রাষ্ট্রসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্টনিও গুতেরেজ বলেন, ‘যদি সত্যিই কোনও অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়, তাহলে আমি হৃদয় থেকে একটা কথাই বলতে চাই, প্রেসিডেন্ট পুতিন, আপনার লোকেদের ইউক্রেনে আক্রমণ চালানো থেকে বিরত রাখুন। শান্তির একটা সুযোগ দিন। প্রচুর মানুষ ইতিমধ্যে জীবন হারিয়েছেন।এদিকে ইউক্রেন বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা বসে নেই। টুইট করেন ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইউক্রেনও বসে নেই। ভয় তাঁরা পান না। তিনি লেখেন, পুতিন ইউক্রেনে হামলা শুরু করেছে। ইউক্রেনের শান্তিপূর্ণ শহরগুলোতে এখন হামলা চলছে। এটা আগ্রাসনের যুদ্ধ। ইউক্রেন আত্মরক্ষা করবে এবং জিতবে। দুনিয়া পারে এবং তাদের উচিতও পুতিনকে থামানো। এখনই পদক্ষেপ করার সময় এসেছে।’

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি দেশবাসীকে আতঙ্কিত হতে বারণ করেছেন। জানিয়েছেন, রুশ হামলার পর দেশে মার্শাল আইন মোতায়েন হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘ভয় পাবেন না। আমরা শক্তিশালী। আমরা প্রস্তুত রয়েছি। আমরা সবাইকে হারাব। কারণ আমরা ইউক্রেন।কয়েক দিন আগেও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইউক্রেনে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সবসময় তারা আলোচনায় প্রস্তুত। তার মধ্যে বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে চাপানউতর। অবশেষে ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সঙ্গে সঙ্গে মস্কোর সঙ্গেও আলোচনার দরজা বন্ধ করে দিল হোয়াইট হাউস। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস থেকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়ে দিলেন, পুতিনের সঙ্গে আর আর কোনও আলোচনার পরিকল্পনার পরিসর নেই। একই সঙ্গে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক নিষেধাজ্ঞাও ঘোষণা করেন তিনি।যুদ্ধের আবহে আমেরিকা-সহ পশ্চিমের দেশগুলি রাশিয়ার বিরুদ্ধে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা এনেছিল। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের দিনই যুক্ত হল আরও কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা। বাইডেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন যে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছেন, তাতে রয়েছে চারটি বড় ব্যাঙ্কের সম্পত্তি ‘ব্লক’ করা, রফতানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা এবং গোষ্ঠীশাসনে অনুমোদন দেওয়া। বাইডেনের তীব্র কটাক্ষ, ‘‘ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে ‘জাতিচ্যুত’ হবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট।’’ তার পর তাঁর সংযোজন, ‘‘রাশিয়ার সঙ্গে আর কোনও আলোচনা নেই।’শুধু রাশিয়া নয়, তাদের ইউক্রেন আগ্রাসনে যে দেশ সায় দেবে, পাশে থাকবে, তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আনবে আমেরিকা। এমনই হুঁশিয়ারি দেন বাইডেন। হোয়াইট হাউস থেকে ভাষণে তিনি বলেন, যে দেশ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার এই নগ্ন আগ্রাসনকে নৈতিক সমর্থন জানাবে, তাদেরও চিহ্নিত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.