Punjab Assembly Election 2022 – জয়ের পর আপের(AAP)বিজয়োল্লাসে ফের দৃশ্যমান ‘বেবি কেজরিওয়াল’

Home দেশের মাটি Punjab Assembly Election 2022 – জয়ের পর আপের(AAP)বিজয়োল্লাসে ফের দৃশ্যমান ‘বেবি কেজরিওয়াল’
Punjab Assembly Election 2022 – জয়ের পর আপের(AAP)বিজয়োল্লাসে ফের দৃশ্যমান ‘বেবি কেজরিওয়াল’

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: আম আদমি পার্টির(AAP) বিশেষ বিশেষ দিনে তিনি দেখা দেন। যেমন দিলেন বৃহস্পতিবার। কেউ তাকে বলেন, ‘লিটল মাফলার ম্যান’ আবার কারও কাছে ‘ছোটু’ বা ‘বেবি কেজরিওয়াল’।

পঞ্জাবের(Punjab Assembly Election 2022) ক্ষমতায় আম আদমি পার্টি। পর পর তিনবার দিল্লির ক্ষমতায় বসার অভিজ্ঞতা সামলে এবার রাজধানীর বাইরে পা রাখল আম আদমি পার্টি(AAP)। বৃহস্পতিবার যখন নির্বাচনের ফলাফল আসতে শুরু করে তখন জয়ের উল্লাসে মেতে উঠেছিল পঞ্জাবের তখতে পরিবর্তনকামী হাজার হাজার মানুষ। সেই সময় সামাজিক মাধ্যমে নজর কাড়ল সেই খুদে। মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েও পড়ল সেই খুদে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের(Arvind Kejriwal) আবার প্রকাশ্যে দেখা দেওয়ার ছবি। শুধু কী তাই! মনে পড়ে দু’বছর আগে অর্থাৎ ২০২০ সালের আপেরই দিল্লি বিজয় এবং পরে শপথ গ্রহণের দিন।

তার ছবি প্রথম ভাইরাল হয়, দু’বছর আগে আপের(AAP) প্রধান কার্যালয়ের সামনে। আপের জেতার(Punjab Assembly Election 2022)খবর নিশ্চিত হতেই বাবার কাঁধে চেপে পোজ দিচ্ছিল ‘মিনি কেজরিওয়াল’ বা ‘মিনি মাফলার ম্যান।’ গলায় কালো মাফলার, পরিচিত মেরুন রঙের সোয়েটার আর নাকের তলায় গোঁফজোড়া। আপের হেড অফিসের বড়বাবুর হুবুহু সাজ। গোঁফ জোড়াটা না হয় নকলই হল। এই ছোট্ট কেজরিকে সংবাদ মাধ্যমে দেখা যেতেই মুহূর্তে ভাইরাল। সব টেলিভিশন চ্যানেল, সংবাদপত্র আর নিউজ পোর্টালে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের(Arvind Kejriwal) মতোই ঘুরছে তারও ছবি। যদিও তখনও তার প্রকৃত পরিচয় জানা যায়নি।

২০২০-র সোশ্যাল মিডিয়ায়, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মিনি ভার্সনকে নিয়ে তার দু’বছর পর ২০২২ সালের ১০ মার্চ সেই একই উন্মাদনা। এদিনও ‘লিটল মাফলার ম্যান’ দেখা দিলেন আম আদমি পার্টির(AAP)  দিল্লি অফিসে। দল যখন নিজেদের ঝাড়ুর দাপটে পঞ্জাব(Punjab Assembly Election 2022) থেকে কংগ্রেস বিদায় নিশ্চিত করেছে,তখনই বাবার সঙ্গে আবার দৃশ্যমান সে। এদিন অবশ্য তার সাজে সামান্য ফিউশন। কেজরি(Arvind Kejriwal) আর তাঁর দল মনোনীত, পঞ্জাবের নতুন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে মিলিয়ে দেওয়া হল তর সাজে। কেজরির গোঁফ জোড়া, চোখে চশমা, অতি চেনা মেরুন সোয়েটার আর গলায় কালো মাফলারের সঙ্গে জুড়ে যায়, মানের নামের সঙ্গে জুড়ে যাওয়া সেই হলুদ রঙের পাগড়ি। ভিকট্রি সাইন দেখিয়ে দলের একরত্তি ভক্তটি বারবার এসেছেন মিডিয়ার সামনে। যে যতবার চেয়েছেন দুহাত দিয়ে জয়ের আঙুল তুলে ক্যামেরার সামনে পোজ দিতে এতটুকু বিরক্ত হয়নি। আম আদমি পার্টির (AAP) কর্মী-সমর্থকরা তাদের খুদে এই ভক্তটির পরিচয় দেন দলের লিটলম্যান বলে এবং প্রায়শই আম আদমি পার্টি তার ছবি ট্যুইট করে।

আপের হর্তা-কর্তা-বিধাতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের(Arvind Kejriwal) ক্যারিশমায়, দেশের দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে দল যখন পঞ্জাবের ক্ষমতা(Punjab Assembly Election 2022) দখল করল তখন বিজয়োল্লাসে সেই বা না এসে কেমন করে পারে! আম আদমি পার্টির এই দারুণ জয়ের কৃতিত্ব যেমন আপামর অনুরাগীরা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে দিচ্ছেন, তার কিছুটা অবশ্য জুটছে বেবি কেজরিওয়ালের ভাগ্যেও। এদিন আপের অফিশিয়াল ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে পঞ্জাবের নতুন মুখ্যমন্ত্রী, ভগবন্ত মানের ছবির সামনে দুহাত তুলে দেওয়া খুদের ছবিটি এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুন ভাইরাল। ছবির সঙ্গে ক্যাপশনটাও দারুন মনকাড়া। ক্যাপশনটাও দারুন, যেখানে লেখা আছে বেবি ভগবন্ত মান। সঙ্গে মিষ্টি একটি ইমোজি। তার তলায় লেখা, ‘আমাদের ছোট্ট মিষ্টি মাস্কট হ্যাশট্যাগ বেবি মাফলার মান, এবার ভগবন্ত মানকে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসাতে চলেছে।

আর দু’বছর আগে অরবিন্দ কেজরিওয়াল যখন বিশাল সমারোহে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন সেদিনও সেই অনুষ্ঠানে হাজির থেকে সকলের আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল এই ক্ষুদেই। আপের (AAP) একাধিক নেতা, এমনকী পঞ্জাবের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হতে চলা ভগবন্ত মানকেও সেদিন তার সঙ্গে করমর্দন করতে দেখা যায়। তবে দু’বছর আগের মাফলার ম্যানের সঙ্গে আজকের মাফলার ম্যানের কিছুটা তফাৎ চোখে পড়ল বৈকি! সেই গোল গোল গালদুটো আর নেই। চোখেমুখে হালকা ভারিক্কি ছাপ। আর হবে নাই বা কেন, একটা গোটা দলকে, একটা রাজ্য থেকে জিতিয়ে আনার দায়িত্ব যে নিতে হয়! অনেক পরে জানা যায় একরত্তির নাম অভযান তোমর। যখন প্রথম সে ক্যামেরার সামনে আসে অর্থাৎ ২০২০ সালে তার বয়স ছিল মাত্রই ১বছর২ মাস। ওই বয়সেই উচ্চারণ করতে শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল আপ শব্দটি। অভযানের বাবা-মা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বড় ভক্ত। আম আদমি পার্টির নেতার সততায় মুগ্ধ এই দম্পতি। অভয়ানের মা তার জন্মের আগে দিদি ফেয়ারিকেই কেজরির বেশে সাজাত। তবে অভয়ানের জন্মের পর থেকে দিদির বদলে ভাই পাকাপাকিভাবে হয়ে যান ছোটু কেজরি।

দুবছর আগের কথা স্মরণ করে গর্বিত পিতা জানান, আপ কার্যালয়ের সামনে তাঁর ছেলেকে নিয়ে সকলের মাতামাতি আজও তিনি মনে রেখেছেন। এখনও সাজলে, তার সঙ্গে সেলফি তোলার হুজুগ শুরু করে দেয় দিল্লিবাসী। দিল্লির ফলাফলের দিন ছেলের জনপ্রিয়তার দরুনই, শপথ অনুষ্ঠানে কেজরি ভক্ত এক ‘আম’ দম্পতির জন্য বরাদ্দ থাকে সামনের দিকের আসন।

তবে অভযানের বাবার কথায় ছেলেকে একবার কেজরির মতো সাজিয়ে দিলে ওই একরত্তির ভাবভঙ্গী যেন কেমন পাল্টে যায়! নিজের দুটি হাত পিছনে জড়ো করে হাঁটতে থাকে, যেন একজন কত বড় মাপের জননেতা চলেছেন!

তবে অভয়ানের আরও একটি আচরণ সেদিনই বাবার চোখে ধরা পড়ে, অতি ছটফটে তাঁর ছেলেটি কিন্তু সেদিন জাতীয় সঙ্গীতের সময় একেবার স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। সব দুষ্টুমি যেন এই সময়টুকুর জন্য উধাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published.