পরীক্ষাকেন্দ্রে বিভ্রাট ! বারান্দায় বসে, গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়ে বোর্ডের পরীক্ষা বিহারে

Home দেশের মাটি পরীক্ষাকেন্দ্রে বিভ্রাট ! বারান্দায় বসে, গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়ে বোর্ডের পরীক্ষা বিহারে
পরীক্ষাকেন্দ্রে বিভ্রাট ! বারান্দায় বসে, গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়ে বোর্ডের পরীক্ষা বিহারে

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: এক আজব কাণ্ডের সাক্ষী রইল বিহারের মতিহারি। স্থানীয় একটি স্কুলের পরীক্ষাকেন্দ্রে ছাত্ররা হেডলাইটের আলোতেই লিখতে বাধ্য হল। প্রায় ৫০০ জন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এভাবেই নিজেদের পরীক্ষা বা বলা ভালো ভাগ্যপরীক্ষা দিলেন।

দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা দিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হল একদল পড়ুয়া। গত ১লা ফেব্রুয়ারি ছিল বিহার স্কুল এক্স্যামিনেশন বোর্ডের পরীক্ষা। বিষয় ছিল হিন্দি। মতিহারিতে মহারাজা হরেন্দ্র কিশোর কলেজে ছিল সেন্টার। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা গেল অব্যবস্থার চূড়ান্ত। একটি ক্লাসেও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। এদিকে পরীক্ষা শেষ হতে লেগে গেল বিকেল গড়িয়ে রাত। অগত্যা গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়েই লেখা শেষ করতে বাধ্য হল পরীক্ষার্থীরা।

জানা গিয়েছে সে দিন দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে থেকে ৫টা পর্যন্ত পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষা শুরু হয় সাড়ে ৪টে থেকে। কারণ তার আগে পরীক্ষার্থীরা উত্তরপত্র হাতে পায়নি। প্রথমে পরীক্ষার্থীদের বসা নিয়ে বিভ্রান্তি চরমে পৌঁছয়। ১০০ জনের মতো পড়ুয়ার বসার কোনও ব্যবস্থাই করে উঠতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। শুরু হয় বিক্ষোভ। শেষমেশ বিশাল পুলিসবাহিনী এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসানোর ব্যবস্থা হয়। এরপর শুরু হয় পরীক্ষা। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই দিনের আলো ফুরোতে, অন্ধকারে ডুবে যায় ক্লাসরুম, বারান্দা সবই। আবার পরীক্ষা বন্ধ। নতুন করে শুরু হয় ঝামেলা। এরপর জেনারেটর ভাড়া করার জন্য ছোটাছুটি শুরু হয়। কিন্তু আর সময় নষ্ট না করে, ছেলেমেয়েরা ক্লাসরুমের বাইরে, স্কুল চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির হেডলাইটের আলোয় লিখতে শুরু করে। পরে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় স্থানীয় ছাতউনি থানার পুলিস জেনারেটরের ব্যবস্থাও করে দেয়।

পরীক্ষাশেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাত্র ভোগান্তির এই ভিডিও ভাইরাল হয়। যাতে দেখা গিয়েছে, ক্লাসরুমের বাইরে টেবিল চেয়ারে বসে গাড়ির হেডলাইট জ্বেলে লিখে যাচ্ছেন পরীক্ষার্থীরা। এরপরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, কেন এই অব্যবস্থা? পরীক্ষা হবে জেনেও কার গাফিলতিতে ঠিকঠাক আলোর ব্যবস্থা হল না, জিজ্ঞাস্য সব মহলের।

মতিহারির মহকুমা শাসক সুমন সৌরভ যাদব এই অব্যবস্থার জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রের সুপারিনটেনডেন্ট নবীন কুমার ঝা’কে দায়ী করেছেন। আপাতত তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করে শোকজ নোটিশ ধরানো হয়েছে। বিহারের শিক্ষামন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী এই ঘটনার রিপোর্ট চেয়ে পাঠানোর পর নড়েচড়ে বসেছে পূর্ব চম্পারনের জেলা শিক্ষা দপ্তর। সংশ্লিষ্ট অধিকর্তার তরফে জানানো হয়েছে পরীক্ষাগ্রহণে দেরি এবং চরম অব্যবস্থার প্রকৃত কারণ খুঁজে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.