‘মহারাষ্ট্রে জোট সরকার গড়তে মোদির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিই!’ বিস্ফোরক দাবি শরদ পাওয়ারের

Home দেশের মাটি ‘মহারাষ্ট্রে জোট সরকার গড়তে মোদির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিই!’ বিস্ফোরক দাবি শরদ পাওয়ারের
‘মহারাষ্ট্রে জোট সরকার গড়তে মোদির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিই!’ বিস্ফোরক দাবি শরদ পাওয়ারের

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন করতে তাঁর সাহায্য চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বছর শেষে এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন  প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির প্রধান শরদ পাওয়ার। পাওয়ারের দাবি, ২০১৯ সালে মহারাষ্ট্রে এনসিপি-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে জোট সরকার গঠন করতে আগ্রহী ছিল বিজেপি। আর এই প্রস্তাব এসেছিল স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকে। পাওয়ার দাবি করেন, তিনি মোদির পাঠানো প্রস্তাব সরাসরি ফিরিয়ে দেন। পাওয়ারের আজকের বয়ান অনুযায়ী, তিনি সেদিন বলেছিলেন, ‘এই প্রস্তাব মানা সম্ভব নয়।’ দেশের অন্যতম প্রবীণ রাজনীতিকের এই দাবি, নিঃসন্দেহে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।

এক মরাঠি সংবাদপত্রের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার। সেখানেই ২০১৯ বিধানসভা নির্বাচন ও সরকার গঠন প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে এনসিপি প্রধান জানান, ২০১৯ সালের ২০ নভেম্বর তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই বৈঠকেই মোদি কেবল তাঁকে সরকার গড়ার জন্য এনসিপি-বিজেপি জোট গড়ার আহ্বানই দেননি। সেই সঙ্গে পওয়ারকন্যা বারামাটির সাংসদ সুপ্রিয়া সুলেকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এমনই দাবি শরদ পওয়ারের। পাওয়ার বলেন, ‘এটা প্রধানমন্ত্রী মোদির ইচ্ছে ছিল বিজেপি ও এনসিপির একসঙ্গে আসা উচিৎ। যদিও আমি তাঁর দপ্তরে গিয়ে তাঁকে জানিয়ে এসেছিলাম, এটা সম্ভব নয়। আমি তাঁকে বলেছিলাম, আমি আপনাকে অন্ধকারে রাখতে চাই না। আমাদের অবস্থান ভিন্ন।’এরপরেই প্রবীণ মরাঠি নেতার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তার জবাব শুনে প্রধানমন্ত্রী কি প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন? পাওয়ার বলেন, তিনি বলেনছিলেন, ‘ভাল করে ভেবে দেখুন।’

২০১৯ সালে মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে জোটবদ্ধ হয়েই লড়েছিল বিজেপি ও শিবসেনা। যদিও নির্বাচনের ফলাফল অনুসারে শিবসেনা-বিজেপি জোটেরই সরকার গড়ার কথা ছিল। কিন্তু শিবসেনার প্রস্তাব ছিল, পাঁচ বছরের সময়কালের অর্ধেক সময় তাঁদের দলীয় সদস্যকে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী করতে হবে। এই প্রস্তাব মানেনি বিজেপি। ফলে চিড় ধরে তাদের সম্পর্কে। আর সেই সময়ই সরকার কারা গড়বে তা নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়।

ওই বছরের ৮ নভেম্বর মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারি বিজেপি একক বৃহত্তম দল হিসেবে সরকার গড়ার ডাক দেন। বিজেপি সরকার গঠন করলেও ১০ নভেম্বর সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারেনি। একই ভাবে সরকার গড়তে ব্যর্থ হয় এনসিপিও। রাজ্যে জারি হয় রাষ্ট্রপতি শাসন। যদিও শেষ পর্যন্ত ২৩ নভেম্বর জট কাটে। শিবসেনা, এনসিপি কংগ্রেস মিলে মহারাষ্ট্রে সরকার গড়ে ‘মহা বিকাশ আগারি’ জোটের মাধ্যমে। মুখ্যমন্তী পদে শপথ নেন বালাসাহেব ঠাকরের পুত্র উদ্ধব।

পাওয়ারের দাবি, এর ঠিক আগে যখন সরকার গড়া নিয়ে টালবাহানা চরমে সেই সময়ই সদ্য প্রাক্তন জোটসঙ্গী শিবসেনাকে হারিয়ে এনসিপির দিকেই বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল বিজেপি। বিজেপি যে এমন প্রস্তাব দিয়েছিল তা সত্যি বলে দাবি করেছেন শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউতও। সঞ্জয় রাউত জানিয়েছেন, ২০১৯ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল আসার পর বিজেপি মহারাষ্ট্রের ক্ষমতা দখলে এতটাই মরিয়া হয়ে উঠেছিল যে, কট্টর বিরোধী বা বিপরীত মেরুর যে কোনও দলের হাত ধরতে রাজি ছিল। তাই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকেই সেই সময় গেরুয়া শিবিরে পাশে থাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

পাওয়ার জানিয়েছেন, নির্বাচনের ফল বেরোনোর ৯০ দিন পরেও মহারাষ্ট্র সরকার গঠন করা সম্ভব হয়নি। প্রধানমন্ত্রী হয়ত ভেবেছিলেন এনসিপির সঙ্গে জোট করলেই হয়ত রাজ্য স্থায়ী সরকার গঠন করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.