ওমিক্রন আতঙ্কেই ২০২২! ২৩ রাজ্যে নতুন স্ট্রেনের দৌরাত্ম্য, দৈনিক করোনা আক্রান্ত ২২ হাজার

Home দেশের মাটি ওমিক্রন আতঙ্কেই ২০২২! ২৩ রাজ্যে নতুন স্ট্রেনের দৌরাত্ম্য, দৈনিক করোনা আক্রান্ত ২২ হাজার
ওমিক্রন আতঙ্কেই ২০২২! ২৩ রাজ্যে নতুন স্ট্রেনের দৌরাত্ম্য, দৈনিক করোনা আক্রান্ত ২২ হাজার

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: একরাশ আতঙ্ক আর আশঙ্কা নিয়ে ২০২২-কে স্বাগত জানাল দেশবাসী। আর সেই আতঙ্কের নতুন নাম ওমিক্রন। এ যাবত দেশের ২৩টি রাজ্যে ছড়িয়েছে কোভিডের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৬১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এই নিয়ে দেশে ওমিক্রন সংক্রমিত ১ হাজার ৪৩১ জন। যার মধ্যে মহারাষ্ট্রে ওমিক্রন আক্রান্ত সর্বাধিক। সংখ্যা ৪৫৪। এরপরই  আছে দিল্লি। দিল্লিতে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫১। মহারাষ্ট্রে ১০ জন মন্ত্রী ও ২০ জনেরও বেশি বিধায়ক করোনা আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার।

নতুন বছরের শুরুতেই রীতিমতো ভয় দেখাতে শুরু করল ওমিক্রন। সম্ভবত করোনার নতুন স্ট্রেনের দাপটেই নতুন বছরের প্রথমদিন একলাফে অনেকটা বেড়ে গেল করোনায় দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা। গত সপ্তাহের শেষদিকে দেশের করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজারের আশপাশেই ছিল। কিন্তু হাতেগোনা কয়েকদিনের মধ্যেই পুরোপুরি বদলে গেল ছবিটা। বর্তমানে দেশে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ২২ হাজারের বেশি। অ্যাকটিভ কেস গড়ে ৭০ হাজার থেকে এক লাফে এক লাখ পেরিয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২২ হাজার ৭৭৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৪৩১ জন। শুধু দিল্লিতে ওমিক্রন আক্রান্ত ৩৫১ জন। মহারাষ্ট্রে করোনার নয়া স্ট্রেনে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫৪ জন। করোনায় মৃত্যুর সংখ্যাও গত ২৪ ঘণ্টার তুলনায় বেড়েছে। মারণ ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রাণ হারিয়েছেন ৪০৬ জন।

ওমিক্রন তথা দেশের করোনা গ্রাফ দ্রুত উপরে উঠতে থাকায় আবার সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেন্দ্র জোর দিচ্ছে সার্বিক টিকাকরণে। আগামী সোমবার থেকে দেশজুড়ে শুরু হবে ১৫ ঊর্ধ্বদের টিকাকরণ। ইতিমধ্যেই কো-উইন অ্যাপে শুরু হচ্ছে রেজিস্ট্রেশন।

ওমিক্রনের দাপটে সবচেয়ে কাবু মহারাষ্ট্র। শনিবার মন্ত্রী ও বিধায়কদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর জানানোর পাশাপাশি মহারাষ্ট্র বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনের সময় কমানো হচ্ছে বলেও জানিয়ে দেন উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে বুঝতে হবে যে রাজ্যে দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনা। এই কারণেই বিধানসভার অধিবেশন কমিয়ে ৫ দিন করা হয়েছে। আমাদের ১০ জন মন্ত্রী ও ২০ জন বিধায়ক ইতিমধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।’

এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে লকডাউন হতে পারে কিনা জানতে চাওয়া হলে পাওয়ারের উত্তর, ‘লকডাউন জারি করার আগে আমরা দেখে নিতে চাইছি দিন প্রতি কী হারে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। যদি দ্রুত হারে করোনা সংক্রমণ বাড়তেই থাকে তবে বাধ্য হয়ে কড়া বিধিনিষেধ জারি করতে হবে। আশা করি সেই পরিস্থিতি তৈরি হবে না।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যবাসীর কোভিড বিধি মানতেই হবে, বলে কড়া গলায় জানিয়ে দেন তিনি।বলেন, ‘ভিড় কমাতে হবে, করোনা নতুন স্ট্রেন দ্রুত গতিতে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। করোনা দ্বিতীয় ঢেউয়ে আমরা অনেকেই প্রিয়জনকে হারিয়েছি। প্রত্যেক মানুষের জীবন আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, সকলে সুস্থ থাকুন, ভাল থাকুন।’ প্রসঙ্গত, মহারাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। এদিন অজিত পাওয়ার জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন মুম্বই ও পুনেতে। দুই ব্যস্ত শহর থেকেই রাজ্যের অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে মহামারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.