রাজ্যে ওমিক্রনের হানা! কালিয়াচকে প্রথম আক্রান্তের খোঁজ, সংক্রমিত আবুধাবি ফেরত ৭ বছরের বালক

Home রাজ্য রাজ্যে ওমিক্রনের হানা! কালিয়াচকে প্রথম আক্রান্তের খোঁজ, সংক্রমিত আবুধাবি ফেরত ৭ বছরের বালক
রাজ্যে ওমিক্রনের হানা! কালিয়াচকে প্রথম আক্রান্তের খোঁজ, সংক্রমিত আবুধাবি ফেরত ৭ বছরের বালক

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: এবার পশ্চিমবঙ্গেও থাবা বসাল করোনার নতুন ভেরিয়েন্ট ওমিক্রন! রাজ্যে মিলল প্রথম ওমিক্রন আক্রান্তের খোঁজ। করোনা ভাইরাসের নতুন ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত হয়েছে সাত বছরের এক বালক। তার বাড়ি মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা থানার বেনিয়াগ্রামে। আপাতত শিশুটিকে মালদহের কালিয়াচক এলাকায় তার মামারবাড়িতে রাখা হয়েছে বলে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর। জানা গিয়েছে শিশুটির শরীরে সেভাবে কোনও উপসর্গ নেই এবং তার অবস্থাও স্থিতিশীল।সংক্রামক এই কোভিড ভ্যারিয়্যান্টে আক্রান্ত শিশু কোথায় কোথায় গিয়েছিল? কারাই বা তার সংস্পর্শে এসেছে? এই প্রশ্নের অনুসন্ধানে নেমেছে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন।

সূত্রের খবর, কিছুদিন আগেই ওমিক্রন আক্রান্ত ওই শিশুর পরিবার আবু ধাবি থেকে হায়দরাবাদ আসে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নির্দেশ মোতাবেক হায়দরাবাদে নামার পর ওই শিশুর পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তাঁরা করোনা আক্রান্ত কিনা জানতে করা হয় আরটি-পিসিআর টেস্টও। লালারসের নমুনাও জিনোম সিক্যুয়েন্সিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। তখনই জানা গিয়েছে, ৭ বছরের ওই শিশুটি করোনায় আক্রান্ত। জিনোম পরীক্ষা অনুযায়ী করোনা সংক্রমণের কারণ ওমিক্রন ভেরিয়েন্ট। তেলেঙ্গানার স্বাস্থ্য দপ্তর এই শিশুটির ওমিক্রন আক্রান্ত হওয়ার কথা জানায় পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দপ্তরকে। ততদিনে শিশুটিকে নিয়ে তার পরিবার কলকাতা হয়ে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার বাড়িতে পৌঁছে গেছে। ফলে এর পরই বালকটিকে চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।

মুর্শিদাবাদ জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক চিকিৎসক সন্দীপ সান্যাল বলেছেন, ‘ আমরা জানতে পেরেছি ৭ তারিখ গভীর রাতে শিশুটি কলকাতা বিমানবন্দরে নামে। এরপর ব্যক্তিগত গাড়ি করে পরিবারের সঙ্গে সে বাড়ি ফেরে। তার আগে আবু ধাবি থেকে বিমানে করে হায়দরাবাদে আসে ওই বালক। তার পর কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে সড়ক পথে ফরাক্কা থানার বেনিয়াগ্রামে এসে উপস্থিত হয়। যদিও বর্তমানে আক্রান্ত বালক মালদহ জেলার কালিয়াচক থানা এলাকায় রয়েছে। তার খোঁজ শুরু করেছে স্বাস্থ্য দফতর।’ মুর্শিদাবাদের বেনিয়াগ্রাম এলাকাকে ইতিমধ্যেই কন্টেনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।পাশাপাশি হায়দরাবাদ থেকে মুর্শিদাবাদ ফেরার পথে ওই বালকের সংস্পর্শে কারা কারা এসেছিলেন তাঁদেরও চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

জানা গিয়েছে, ওমিক্রন আক্রান্ত ওই বালক এখন মুর্শিদাবাদে নেই। মালদহে কালিয়াচকের বালিয়াডাঙা গ্রামে মামারবাড়িতে রয়েছে সে। দ্রুত ওমিক্রনে আক্রান্ত ওই বালকের মামাবাড়িতে মেডিক্যাল টিম পাঠানোর ব্যবস্থা করে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। মালদহের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক পাপড়ি নায়েক জানিয়েছেন, ওই পরিবারের প্রত্যেকের তো বটেই, যাঁরা তাঁদের সংস্পর্শে এসেছেন, তাঁদেরও কোভিড পরীক্ষা করা হবে। সেই রিপোর্ট দেখেই নেওয়া হবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত। আপাতত ওই পরিবারের প্রত্যেককে নিভৃতবাসে রাখা হচ্ছে। পাপড়ি বলেন, ‘সুরক্ষার কারণেই ওই বালক এবং তার মা-কে আমরা মালদহ মেডিক্যাল কলেজের কোভিড ওয়ার্ডে নিয়ে এসে নিভৃতবাসে রাখার ব্যবস্থা করছি। নিয়ম মেনেই ওঁদের ফের পরীক্ষা করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’ কালিয়াচকের ওই গ্রামের সকলকে সচেতন করতে স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছেন বলেও জানিয়েছেন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক।

করোনার নতুন স্ট্রেনের কবল থেকে এতদিন মুক্ত ছিল বাংলা। এর আগে ব্রিটেন ফেরত কোভিড পজিটিভ তরুণীর টেস্টের রিপোর্ট ওমিক্রন নেগেটিভ আসে। কিন্তু শেষমেশ ওমিক্রন থেকে মুক্তি পেল না বাংলাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published.