মুম্বই পুলিসকর্মীর মানবিক মুখ! একাকী বৃদ্ধার জন্মদিন হয়ে উঠল অনন্য

Home দেশের মাটি মুম্বই পুলিসকর্মীর মানবিক মুখ! একাকী বৃদ্ধার জন্মদিন হয়ে উঠল অনন্য
মুম্বই পুলিসকর্মীর মানবিক মুখ! একাকী বৃদ্ধার জন্মদিন হয়ে উঠল অনন্য

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: পুলিস শব্দটির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে একটা গুরুগম্ভীর মানুষের প্রতিচ্ছবি। শ্রদ্ধা-সমীহ-ভীতি সবকিছু জড়িয়ে থাকে যেন এই একটা উর্দিকে। সেই উর্দির আড়ালেই যে একটা নরম মনের মানুষ থাকতে পারেন, তাঁর খোঁজ করার চেষ্টা ক’জনই বা করে! মাঝে মাঝে কাঠিন্য সরিয়ে সেই কোমল মনটার দেখা মেলে বৈকি। সম্প্রতি এরকমই এক মানবিক দৃষ্টান্ত তৈরি করে দারুন প্রশংসা কুড়িয়েছেন মুম্বই পুলিসের এক কর্মী। এর আগেও অবশ্য মুম্বই পুলিস অনেকবারই নেটদুনিয়ার প্রশংসা কুড়িয়েছে। কৌতূকের মোড়কে মুম্বই পুলিসের একাধিক সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন দারুন উপভোগ্য এবং প্রশংসিত হয়। এবার সেরকমই এক উদাহরণ তৈরি করলেন সেই মুম্বই পুলিসেরই সাব ইনস্পেক্টর জয়প্রকাশ সূর্যবংশী। কীভাবে? বান্দ্রা থানার দায়িত্বরত এই এসআই এক একাকী বৃদ্ধার ৮৩ বছরের জন্মদিনটা অন্য এবং অনন্য করে তুললেন।

৮৩ বছরের মার্টিনা পেরেইরা মুম্বইয়ের ফ্ল্যাটে একাই থাকেন। রবিবার বাড়ির কাজকর্ম করতে গিয়ে রান্নাঘরের ভিজে মেঝেতে পড়ে যান তিনি। শারীরিকভাবে এতটাই দুর্বল ছিলেন যে ওঠার ক্ষমতা পর্যন্ত ছিল না। দীর্ঘ আট ঘণ্টা ওইভাবেই মাটিতে পড়েছিলেন। মার্টিনার যে কিছু একটা হয়েছে, তা প্রথম নজরে পড়ে বাড়ির সিকিউরিটি গার্ডের। তিনি দেখেন হোম ডেলিভারির টিফিন কেরিয়ার দুপুর থেকে একভাবে ফ্ল্যাটের বাইরে পড়ে, ঢোকানো হয়নি। তা দেখেই সন্দেহ হয় ওই নিরাপত্তা কর্মীর। এরপর প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে, পুলিসকে খবর দিয়ে দরজা ভাঙেন।

বান্দ্রা থানার সহকারী ইনস্পেক্টর পল্লবী কুলকার্নি পুলিসের কর্তব্যের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়ে আহত বৃদ্ধাকে বান্দ্রারই হোলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভরতি করান। ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে জানেন সামান্য হাড় ভাঙলেও, মার্টিনার অন্য কোনও বড় বিপদ হয়নি। এরপর থেকে হাসপাতালেই থাকতে হয় মার্টিনাকে। পল্লবী এবং তাঁর সহকর্মীরা মার্টিনার নিয়মিত খোঁজখবর নিতেন।

এভাবেই এসআই জয়প্রকাশ জানতে পারেন, সোমবারই মার্টিনা পেরেইরার জন্মদিন। আর সেদিনই সকলকে অবাক করে মার্টিনার পছন্দের চকোলেট কেক নিয়ে একেবারে হাসপাতালে হাজির জয়প্রকাশ। হাসপাতালের বেডে শুয়েই কেক কেটে জন্মদিন সেলিব্রেট করলেন মার্টিনা। রক্তের সম্পর্কের বাইরে গড়ে উঠল আত্মীয়তা। নতুন সম্পর্কের উষ্ণতা ছুঁয়ে গেল অসমবয়সী দু’জনকেই।

সূর্যবংশীর মানবিকতায় মুগ্ধ তাঁর সহকর্মীরা। এরপরই জয়প্রকাশের অভাবনীয় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে মুম্বই পুলিসের অফিসিয়াল ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে এই ঘটনার কথা জানানো হয়। লেখা হয়, ‘একটা কেক আর একরাশ খুশি। সেদিন ছিল মার্টিনা পেরেইরার ৮৩ তম জন্মদিন। অথচ তাঁকে দিনটা কাটাতে হচ্ছিল হাসপাতালে শুয়েই। কারণ বৃদ্ধা নিজের বাড়িতে পড়ে গিয়ে আহত হন। আর শয্যাশায়ী মার্টিনাকে চমকে দিতেই হাসপাতালে কেক নিয়ে পৌঁছে যান সাব ইনস্পেক্টর জয়প্রকাশ সূর্যবংশী। আমরা মিস পেরেইরার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।’

সাংবাদিক নরেশ ফার্নান্ডেজও এক পুলিস কর্মীর দৃষ্টান্তযোগ্য মানবিকতার কাহিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন। নরেশের ট্যুইট থেকেই জানা যায় কীভাবে জয়প্রকাশ মার্টিনার জন্মতারিখটা জানতে পারেন। নরেশ লেখেন, ‘বয়স্ক একাকী প্রতিবেশী রবিবার নিজের ফ্ল্যাটেই পড়ে যান। আহত বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে তাঁকে হাসপাতালে ভরতি করানো পর্যন্ত মুম্বই পুলিস যে কর্তব্যবোধের পরিচয় দিল তা দৃষ্টান্তযোগ্য। ইনস্পেক্টর সূর্যবংশী বৃদ্ধার বয়ান নেওয়ার সময়ই জেনে ফেলেন সোমবারই তাঁর জন্মদিন। আর সেদিনই তিনি কেক নিয়ে হাজির হন হাসপাতালে। দারুন!’ মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় নরেশের ট্যুইট। ভরে যেতে থাকে তাঁর কমেন্ট বক্স। কেউ লেখেন, ‘মুম্ব্ই পুলিস সর্বোত্তম। এই শহরের বাসিন্দা হিসেবে পুলিসের জন্য গর্ববোধ করি।’ অনেকেই এক বয়স্ক নাগরিকের প্রতি এই সহানুভূতি দেখোনোর জন্য সূর্যবংশী এবং মুম্বই পুলিসকে কুর্নিশ জানান। নেটিজেনদের মধ্যেই আবার একজন আবেগতাড়িত হয়ে লিখে ফেলেন, ‘ছোট্ট সুন্দর কিছু ভাবনা এইভাবেই হৃদয় জিতে নেয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.