উচ্চমাধ্যমিকের পর ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা দিতে চান? জেনে নিন নিট (NEET) সংক্রান্ত যাবতীয় খুঁটিনাটি

উচ্চমাধ্যমিকের পর ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা দিতে চান? জেনে নিন নিট (NEET) সংক্রান্ত যাবতীয় খুঁটিনাটি

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: আগামী ১৭ জুলাই সারা দেশ জুড়ে আয়োজিত হতে চলেছে ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট বা নিট পরীক্ষা (NEET)। ২ এপ্রিল থেকেই ডাক্তারির স্নাতকস্তরে ভর্তির এই প্রবেশিকা পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন পর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে। মোট ১৩টি ভাষায় এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। সম্পূর্ণ অফলাইন পদ্ধতিতে অর্থাৎ খাতায়-কলমে এই পরীক্ষা নেওয়া হবে। এই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে দেশের মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি হতে পারবেন। যে সকল পড়ুয়ারা এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক, তাঁরা নিট-এর (NEET) অফিসিয়াল ওয়েবসাইট neet.nta.nic.in-এ গিয়ে নিজেদের আবেদনপত্র জমা করতে পারবেন। ৭ মে পর্যন্ত এই পরীক্ষার জন্য নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন পড়ুয়ারা। আবেদন করার সময় যদি কোনও পরীক্ষার্থী কোনও ভুল করে থাকেন, সেক্ষেত্রে তা সংশোধন করার জন্য অতিরিক্ত ৫ দিনের সময়সীমা রাখা হয়েছে। এই সংক্রান্ত বিষয়ে একটি ‘কারেকশন উইন্ডো’ খোলা হয়েছে পড়ুয়াদের সুবিধার্থে। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রক এবং শিক্ষামন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা করেই এই পরীক্ষার দিনক্ষণ স্থির করা হয়েছে বলে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) এক আধিকারিক জানিয়েছেন।

দ্বাদশের গণ্ডি পেরোনোর পর ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রতি বছর কয়েক লক্ষ পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ২০২১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর প্রায় ১৬ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী নিট (NEET) পরীক্ষার জন্য নিজেদের নাম নথিভুক্ত করিয়েছিলেন। যার মধ্যে প্রায় ৯৫.৬ শতাংশ পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় বসেছিলেন। উল্লেখ্য, গত বছরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় মোট ৩ জন প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন।

জেনে নিন নিট (NEET) পরীক্ষার জন্য কীভাবে আবেদন করবেন?
• প্রথমে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির নিট (NEET) সংক্রান্ত অফিসিয়াল ওয়েবসাইট neet.nta.nic.in-এ যেতে হবে পরীক্ষার্থীদের।
• এবার হোমপেজে থাকা রেজিস্ট্রেশন ফর্মে ক্লিক করতে হবে।
• নিজের ইমেল আইডি ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নাম নথিভুক্ত করতে হবে।
• রেজিস্ট্রেশন হয়ে যাওয়ার পর নিজের আইডি ও পাসওয়ার্ড যত্ন সহকারে সেভ করে রাখতে হবে।
• এরপর প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি যথা পরীক্ষার্থীদের স্ক্যান করা ছবি ও সই, দশম ও দ্বাদশের পাশ সার্টিফিকেট এবং আধার কার্ডের ফোটোকপি আপলোড করে আবেদনপত্রের বাকি তথ্যগুলি পূরণ করতে হবে।
• সবশেষে আবেদনের ফি জমা করলেই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে।

পাশাপাশি, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বেশ কিছু নতুন কোর্স চালু করতে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC)। ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, ডিজাইনিং এবং স্পোর্টসের মতো বিষয়গুলির উপর অভিনব কিছু কোর্স চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউজিসি (UGC)। ব্যাচেলর অফ ফ্যাশন টেকনোলজি থেকে শুরু করে আর্বান ডিজাইনিং ও স্পোর্টস সায়েন্স সহ ডাক্তারি এবং সার্জারি সংক্রান্ত নতুন কয়েকটি কোর্স চালু করা হবে। নতুন কোর্স চালু করার পাশাপাশি বেশ কিছু কোর্সের সময়সীমাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ইউজিসি নতুন যে কোর্সগুলিকে স্বীকৃতি দিয়েছে সেগুলি হল :
১) ডাক্তারি ও সার্জারি – ব্যাচেলর অফ সোয়া বিগপা মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি (B.S.R.M.S), এই কোর্সটির মেয়াদ ৫ বছর ৬ মাস।

২) ইঞ্জিনিয়ারিং/ টেকনোলজি/ ডিজাইন/ আর্কিটেকচার –
ক) ব্যাচেলর অফ ফ্যাশন টেকনোলজি (B.F.Tech) – এই কোর্সের সময়সীমা ৪ বছর।
খ) ব্যাচেলর অফ আর্বান ডিজাইন (B.U.D) – এই কোর্সের সময়সীমা ৪ বছর।
গ) মাস্টার অফ ফ্যাশন টেকনোলজি (M.F.Tech) – এই কোর্সের সময়সীমা ২ বছর।
ঘ) মাস্টার অফ ফ্যাশন ম্যানেজমেন্ট (M.F.M) – এই কোর্সের সময়সীমা ২ বছর।
ঙ) মাস্টার অফ আর্বান ডিজাইন (M.U.D) – এই কোর্সের সময়সীমা ২ বছর।

৩) স্পোর্টস –
ক) ব্যাচেলর অফ স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট (B.S.M) – এই কোর্সের সময়সীমা ৩ বছর।
খ) ব্যাচেলর অফ স্পোর্টস সায়েন্স (B.S.S) – এই কোর্সের সময়সীমা ৩ বছর।
গ) মাস্টার অফ স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট (M.S.M) – এই কোর্সের সময়সীমা ২ বছর।
ঘ) মাস্টার অফ স্পোর্টস সায়েন্স (M.S.S) – এই কোর্সের সময়সীমা ২ বছর।

এছাড়াও মাস্টার অফ কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনস (MCA) কোর্সের মেয়াদ ৩ বছর থেকে কমিয়ে ২ বছর করেছে ইউজিসি। অন্যদিকে, ব্যাচেলর অফ অকুপেশন্যাল থেরাপির মতো কোর্সের সময়সীমা বেশ কিছুটা বাড়ানোও হয়েছে। এবার থেকে এই কোর্স করার ক্ষেত্রে ৪ বছরের পরিবর্তে ৪ বছর ৬ মাসের সময়সীমা রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যে সকল করোনা যোদ্ধারা এই কোভিড অতিমারির সময়ে নিজেদের কর্তব্য পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের সন্তানদের জন্য ডাক্তারির স্নাতকস্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় আসন সংরক্ষণের কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রক (Ministry Of Health and Family Welfare) এবং মেডিক্যাল কাউন্সিলিং কমিটির (MCC) তরফে এই ঘোষণা করা হয়েছে। যেসব পরীক্ষার্থীরা ২০২১ সালে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি আয়োজিত নিট-এর (NEET) স্নাতকস্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে মৃত করোনা যোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য মোট ৫টি আসন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যোগ্য প্রার্থীদের এই আসনগুলিতে আবেদনের জন্য নিজেদের রাজ্যের ডিরেক্টরেট অফ মেডিক্যাল এডুকেশন (DME) অথবা ডিরেক্টরেট অফ হেলথ সার্ভিসেস-এর (DHS) দফতরে আবেদনপত্র পাঠাতে হবে। শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ডিএমই বা ডিএইচএস-এর মাধ্যমেই পড়ুয়ারা এই আবেদন করতে পারবেন। মেডিক্যাল কাউন্সিল কমিটির (MCC) কাছে সরাসরি এই আবেদন পাঠালে তা কোনওভাবেই গৃহীত হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.