মধ্যপ্রদেশে এবার এমবিবিএস (MBBS) পড়ানো হবে হিন্দিতে (hindi), কিডনির নাম শুনলে হাসি চাপা মুশকিল

Home আজব মধ্যপ্রদেশে এবার এমবিবিএস (MBBS) পড়ানো হবে হিন্দিতে (hindi), কিডনির নাম শুনলে হাসি চাপা মুশকিল
মধ্যপ্রদেশে এবার এমবিবিএস (MBBS) পড়ানো হবে হিন্দিতে (hindi), কিডনির নাম শুনলে হাসি চাপা মুশকিল

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে মধ্যপ্রদেশের ভোপালের একটি মেডিকেল কলেজে হিন্দি ভাষায় এমবিবিএস কোর্স পড়ানো হবে। ইতিমধ্যেই রাজ্যটির মেডিকেল শিক্ষা দপ্তর এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।সূত্রের খবর, ভোপালের গান্ধী গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ পরীক্ষামূলকভাবে হিন্দিতে ডাক্তারি শিক্ষার ব্যবস্থা করছে। মূলত এর মাধ্যমে মেডিকেল পড়ুয়াদের কাছ থেকে কতটা সাড়া পাওয়া যায়, সেটা পরখ করে দেখবে দপ্তর। সাড়া পাওয়া গেলে মধ্যপ্রদেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও হিন্দিতে মেডিকেল শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।এমন উদ্যোগে প্রয়োজন হবে হিন্দিতে এমবিবিএসের বই। সে ব্যবস্থাও করছে সরকার। অটল বিহারি বাজপেয়ি বিশ্ববিদ্যালয়কে এমবিবিএসের বইগুলোর হিন্দি ভার্সন তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মেডিকেল শিক্ষায় পারদর্শী, চিকিৎসক, ভাষাতত্ত্ববিদদের নিয়ে তৈরি কমিটি আপাতত প্রথম বর্ষের বইগুলো হিন্দিতে অনুবাদ করার উদ্যোগ নিচ্ছেন।

কিন্তু মেডিকেল বইয়ের বিশেষ পরিভাষা বা টার্মগুলোকে কীভাবে অনুবাদ করা হবে? কমিটির একজন সদস্য জানিয়েছেন, অন্যান্য বইয়ের মতো সব টার্ম শুদ্ধ হিন্দিতে অনুবাদ করা হবে এমনটা নয়। বরং প্রচলিত হিন্দিতেই স্ট্যাডি ম্যাটিরিয়ালগুলো তৈরি হবে। সেক্ষেত্রে হার্টকে বলা হবে হৃদয়, কিডনিকে গুর্দা, হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্টকে ডাকা হবে হৃদয় প্রত্যার্পণ হিসেবে। তবে স্পাইনকে স্পাইন বা রিড কি হাড্ডি নামেই অভিহিত করা হবে। এক্ষেত্রে মেরুদণ্ড শব্দটি ব্যবহার করা হবে না।বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার যশবন্ত প্যাটেল বলেন, বিশেষজ্ঞরা সিলেবাস তৈরির কাজ করছেন। জুলাইয়ের মধ্যে স্ট্যাডি ম্যাটিরিয়াল তৈরি হয়ে যাবে। মেডিকেল শিক্ষামন্ত্রী বিশ্বাস সারং বলেন, বিতর্কের জন্য নয় বরং নতুন কিছু করতে চাইছি।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন- ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান ও চীন তাদের মাতৃভাষাতেই ডাক্তারি শিক্ষা দেয়। সেকারণেই তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা এত উন্নত। তাই হিন্দিতে এমবিবিএসের প্রচলন ঘটিয়ে চিকিৎসা শিক্ষাখাতে বিপ্লব আনতে চান বলে দাবি করেন বিশ্বাস সারং।১৯৫০ সালে সংবিধান মোতাবেক দেবনাগরী অক্ষরে হিন্দি ভাষাকে রাষ্ট্রের সরকারি ভাষা হিসাবে ঘোষণা করা হয়। বহুভাষিক রাষ্ট্রে একমাত্র ভাষা রাষ্ট্রের কণ্ঠস্বর হতে পারে না। এই নিয়ে বহু রাজ্য সরব হয়েছে।দেশ জুড়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছিল বিজেপি সরকারের জাতীয় শিক্ষানীতির খসড়া নিয়ে। কী আছে এই শিক্ষানীতিতে? নিয়মমতো মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রীর হাতে জমা পড়ে শিক্ষানীতির খসড়া। সেইখানেই বলা হয় দেশের সমস্ত রাজ্যগুলিতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হিন্দিকে বাধ্যতামূলক করার কথা। এই চাপিয়ে দেওয়া নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় গোটা দক্ষিণ ভারত। শিক্ষার গৈরিকীকরণ তথা হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্থান নীতির বাস্তবায়নের এই প্রবণতাকে মেনে নিতে পারননি অনেকেই।

হিন্দি ছাড়া অন্য ভাষা মানেই তা আঞ্চলিক ভাষা, এই ধরনের প্রচার অবিরাম চালিয়ে যাওয়া একরকম কারচুপি। একটু দেরিতে হলেও বাঙালি তা আজ কিছুটা বুঝতে পেরেছে। নিজের ভাষা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বঙ্গবাসী আজ এই ভেবে অনেকটাই গর্বিত যে, আন্তর্জাতিক স্তরে হিন্দির চেয়ে বাংলার গুরুত্ব অনেক বেশি। সেখানে বাঙালি তাঁর সম্মানের জায়গা তৈরি করেছে স্বীয় কৃতিতে। সাহিত্যে নোবেলপ্রাপক রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রের অস্কার পর্যন্ত তার আয়ত্তে। এমনকি একুশে ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্বীকৃতি পাবার প্রেক্ষাপটও বাংলাভাষা। শুধু বাংলা কেন, উর্দু, তামিল, মারাঠি, যে কোনও ভাষার তুলনায় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে হিন্দিভাষা অনেক কম গুরুত্ব বহন করে। তাই বঙ্গভাষার বৈভবপ্রাসাদে কিংবা উদাস মেদুর প্রান্তরে হিন্দিভাষার বীজরোপণে যে সারই প্রয়োগ করা হোক না কেন, তা কিছুতেই সুফসলি হবে না। মাঝে মাঝে আগাছার জঙ্গল আমাদেরই সাফ করে নিতে হবে। এ কথা বলাই বাহুল্য যে বাংলাকে গুরুত্ব দিতে হবে।‘হিন্দি কখনও আমাদের রাষ্ট্রীয় ভাষা হতে পারে না’। তাই দেশের সব মানুষের ওপর হিন্দি ভাষা কখনও চাপিয়ে দেওয়াও যাবে না। এই নিয়ে সরব হয় দক্ষিণের রাজ্য। তাদের অভিযোগ, ভারতীয় জনতা পার্টি ‘সাম্প্রদায়িক’। বিজেপি ভারতের ভারতের সাম্প্রদায়িক ঐক্য নষ্ট করছে বলেও অভিযোগ করেন দক্ষিনীরা।
বিভিন্ন সময় এই নিয়ে সরব হয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা। হিন্দি কখনও ভারতের রাষ্ট্রীয় ভাষা তো নয়ই। তামিল, তেলুগুর মত এটিও একটি ভাষা। তাই বলে এই নয় যে কোনও ভাষার বিরুদ্ধাচারণ করা হচ্ছে। এমন মন্তব্যও করেছিলেন সিদ্ধারামাইয়া।বেশ আগের ঘটনা হলেও উল্লেখযোগ্য, বেঙ্গালুরুর একাধিক মেট্রো স্টেশনের নামের হিন্দি বোর্ড খুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি কর্ণাটকের জন্য পৃথক পতাকা তৈরির দাবিও তোলা হয়। আর সেই দাবিকে আরও একধাপ এগিয়ে এবার হিন্দি রাষ্ট্রীয় ভাষা নয় বলে মন্তব্য করেন সিদ্ধারামাইয়া। প্রসঙ্গত, কর্ণাটকের মেট্রো স্টেশনগুলির নাম কেন হিন্দিতে থাকবে, তা নিয়ে এর আগেই অভিযোগ করেন সিদ্ধারামাইয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published.