আনন্দ-ধ্বনি নয়, কানে আসছে গোলাবর্ষণ, এর মধ্যে বিয়ে সারলেন ইউক্রেনের যুগল

Home বিদেশ-বিভূঁই আনন্দ-ধ্বনি নয়, কানে আসছে গোলাবর্ষণ, এর মধ্যে বিয়ে সারলেন ইউক্রেনের যুগল
আনন্দ-ধ্বনি নয়, কানে আসছে গোলাবর্ষণ, এর মধ্যে বিয়ে সারলেন ইউক্রেনের যুগল

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: আজকের সূর্য অস্তাচলে। ইউক্রেনের ঘুম ভাঙছে গোলাগুলি আর বোমার আওয়াজে। এককথায় জনজীবন বিপন্ন। এরই মধ্যে বিয়ে সারলেন ইউক্রেনের যুগল।
ইউক্রেনের ২৩টির বেশি প্রদেশে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। যুদ্ধবিমান থেকে ফেলা হচ্ছে ভয়ঙ্কর বোমা। যে আকাশে পাখি ওড়ে, সেই অনন্ত আকাশ ঝলসে যাচ্ছে বারুদ-আগুনে। আজাকিভ বন্দরে হামলা হয়েছে। খারকভ শহর এবং আজাকিভ বন্দরে লাগাতার বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে ১০ জন নিরীহ নাগরিকের। ভেঙে পড়ছে একের পর এক বসতি, বাড়িঘর। মানুষের তৈরি অস্ত্রে মরছে মানুষ! একজন মানুষের মৃত্যু মানে কতগুলি সম্পর্কের মৃত্যু? কত না বলা কথা, স্বপ্ন, প্রেম!

যুদ্ধের দামামা, মুহুর্মুহু বিস্ফোরণের শব্দ, পুলিস–অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনের এই দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত গোটা বিশ্ব। এরই মাঝে এক প্রেমিক যুগল তাঁদের স্বপ্নের বিয়েকে বিসর্জন দিয়ে সাদামাটাভাবে বিয়ে সারলেন। কেবল সাদামাটা বললে ভুল বলা হবে। এই জীবনে একসঙ্গে থাকার শেষ ইচ্ছাকে পুর্ণতা দিতেই নিজেদের বিয়েটা সেরে ফেললেন এই দম্পতি।ইয়ারিনা আরিয়েভা এবং তাঁর সঙ্গী স্যাভিয়াতোস্লাভ ফুরসিন পরিকল্পনা করেছিলেন যে তাঁরা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এক রেস্তোরাঁর ছাদে রাজকীয় বিয়ে সারবেন এই বছরের মে মাসে। এই রেস্তোরাঁটি নিপার নদীর ধারে অবস্থিত, যার উৎস এসেছে রাশিয়ার ভল্দাই পাহাড় থেকে। কিন্তু এই যুগলকে তাঁদের বিয়ের পুরো পরিকল্পনা ত্যাগ করে তড়িঘড়ি বিয়ে সারতে হয় এই সপ্তাহে এক বৌদ্ধ গুম্ফায়। শান্ত নদীর তীর ও সুন্দর আলোকময় পরিবেশের বদলে তাঁদের বিয়ের সময় দূর থেকে ভেসে আসছিল ভয়ানক সাইরেন ও আকাশে উড়ছে রাশিয়ার যুদ্ধবিমান।শহরটা খাঁ খাঁ করছে। রাস্তায় শুধু সেনা। মানুষজন কোনওক্রমে বাঙ্কারে পরিবার নিয়ে মাথা গুঁজেছেন। পেটে খাবার নেই। তার মধ্যে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা। দেশের সরকার সাধারণ মানুষকেও অস্ত্র তুলে নিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়ার আহ্বান জানিয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা প্রাণটা বাঁচবে কিনা তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। এই পরিস্থিতিতে আরিয়েভা ও ফুরসিন জানেন না তাঁদের ভবিষ্যত কি, তাই তাঁরা দুরু দুরু বুকে বিয়েটা সেরে নিলেন। প্রসঙ্গত, গত এক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল এবং ইউক্রেনবাসী যেটা নিয়ে ভয় পাচ্ছিলেন ঠিক সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। রুশ বাহিনী, যাঁরা সীমান্তে ঘোরাঘুরি করছিলেন, আচমকা শহরের মধ্যে ঢুকে পড়েছে এবং একাধিক মিসাইলের বৃষ্টি হচ্ছে কিয়েভ সহ দেশের প্রধান শহরগুলিতে।চলছিল প্রস্তুতি। আগামী মে মাসে নতুন জীবন শুরু তথা যৌথযাপন শুরু করবেন ভেবে রেখেছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল জীবনে বয়ে এনেছে অনিশ্চিত এক ভবিষ্যৎ। রুশ সেনাবাহিনীর (Russian Troop) আক্রমণের জেরে বিধ্বস্ত মাতৃভূমি। তাই ভালবাসার মানুষকে সঙ্গী করেই কার্যত যুদ্ধে নামলেন ইউক্রেনের এই নবদম্পতি (Ukraine Newly Wed Couple)। রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করেছে খবর পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে সোজা মনেসট্রি ছোটেন কিভের ইরয়ানা আরিয়েভা ও সাভিৎসলোভ ফুরসিন। বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন কিভের (Kyiv) এই তরুণ-তরুণী। কিন্তু আর পাঁচটা নবদম্পতির মতো নয়, বিয়ের পরের গল্পটা একেবারেই ভিন্ন আরিয়েভা-ফুরসিনের। বিয়ে সেরে উঠে নবদম্পতি সারাদিন ধরে জোগাড় করে বেড়িয়েছেন রাইফেল! যুদ্ধবিধ্বস্ত মাতৃভূমিকে বাঁচাতে ভালবাসার সঙ্গীর সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে বন্দুকের জোগানে নেমেছেন ইউক্রেনের এই নবদম্পতি।আরিয়েভা-ফুরসিন দু’জনেই ইউক্রেনের টেরিটোরিয়াল ডিফেন্স ফোর্সের সদস্য হিসেবে নাম লিখিয়েছেন। ইউক্রেন সেনাবাহিনীর যে বিভাগে মূলত স্বেচ্ছাসেবকরা নাম লেখান। বিয়ের পর তাঁরা নিজেদের দল ইউরোপীয়ান সলিডিয়ারির দফতরেও ছোটেন। যার পর ভালবাসার মানুষের হাত ধরে রাইফেল জোগাড় করতে বেরিয়ে পড়েন তাঁরা। রাইফেল হাতে হাসিমুখে দু’জনের ছবি এই মুহূর্তে ভাইরাল। আরিয়েভা বলেছেন, এই মুহূর্তে আমাদের একটাই লক্ষ্য, দেশের জন্য যা যা করা সম্ভব, সবটা করার। এখনও অনেক কাজ বাকি। যুদ্ধের পরিস্থিতির মাঝে সেনার পাশাপাশি ইউক্রেনের জনসাধারণের হাতেও বন্দুক তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তারা। দেশকে বাঁচানোর শপথ নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে ভালবাসার সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে অবশ্য হাসিমুখে তাঁদের প্রত্যাশা, ‘আশা রাখি সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।’

একাধিক শহরের পাশাপাশি ইউক্রেনের রাজধানী কিভ পুরোপুরি দখল করতে মরিয়া রুশ বাহিনী। কিভের বাইরে রাস্তা দিয়ে ছুটে আসছে একের পর এক রুশ সাঁজোয়া গাড়ি। সেখানে সামনে এসেছে একটি ভিডিওটি। যেখানে দেখা যাচ্ছে, রুশ বাহিনীর ট্যাঙ্কার ও সাঁজোয়া গাড়ির পথ আটকানোর চেষ্টা করছেন এক ব্যক্তি। বাধার মুখে পড়ে ওই ব্যক্তিকে এড়িয়ে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যায় রুশ বাহিনীর গাড়ি। যে ছবি মনে করায় ৩২ বছর আগের ‘ট্যাঙ্ক ম্যানে’র স্মৃতি। ১৯৮৯-এর ৫ জুন, আজকের রাশিরার বন্ধু দেশ চিনের তিয়েনআনমেন স্কোয়ার। কমিউনিস্ট সরকারের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে ট্যাঙ্কের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ান সাদা জামা, কালো প্যান্ট এক প্রতিবাদী যুবক। থমকে যায় ট্যাঙ্ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.