‘কেন কোনও কারণ ছাড়াই বাদ পড়ল বাংলার ট্যাবলো’? হস্তক্ষেপ চেয়ে মোদিকে চিঠি মমতার

Home দেশের মাটি ‘কেন কোনও কারণ ছাড়াই বাদ পড়ল বাংলার ট্যাবলো’? হস্তক্ষেপ চেয়ে মোদিকে চিঠি মমতার
‘কেন কোনও কারণ ছাড়াই বাদ পড়ল বাংলার ট্যাবলো’? হস্তক্ষেপ চেয়ে মোদিকে চিঠি মমতার

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: রাজপথে প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে বাংলার ট্যাবলো বাতিল নিয়ে নিয়ে আরও একবার সামনে এল কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত। আর ট্যাবলো বিতর্কে এবার আসরে নামলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। নেতাজি এবং বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে যে ট্যাবলো পাঠানো হত তা কেন রাজপথের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে জায়গা পেল না, তা জানতে এবার  খোদ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দরবারে গেল রাজ্যের চিঠি।

নরেন্দ্র মোদিকে পাঠানো চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে তিনি ‘হতবাক’ এবং ‘ব্যথিত’। তিনি মনে করেছেন কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অপমান করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে লিখেছেন, ‘দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অগ্রণী ভুমিকা নিয়েছিল বাংলা। তাই কেন্দ্রের এই ভূমিকায় বাংলার মানুষ অত্যন্ত ব্যথিত ।’ মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘দেশের স্বাধীনতার ল়ড়াইয়ে সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয়েছিল বাংলাকেই। একদিকে দেশভাগের যন্ত্রণা  অন্যদিকে লাখ লাখ মানুষের ছিন্নমূল হওয়ার বেদনা সহ্য করেছে বাংলা। দেশ যখন স্বাঘীনতার ৭৫ বছর উদযাপন করছে, তখন বাংলার স্বাধীনতা যোদ্ধারা সেখানে কোনও স্থান পেলেন না।’ একইসঙ্গে মমতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোনও কারণ না দেখিয়েই বাংলার ট্যাবলোর প্রস্তাব বাতিল করেছে মোদির সরকার।

এ বছর নেতাজির ১২৫তম জন্মবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার ৭৫তম বর্ষের কথা বিবেচনা করেই ট্যাবলো পাঠানোর অনুমতি চেয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কিন্তু তা বাতিল করে কেন্দ্র। গত বছরও কেন্দ্র রাজ্যের কন্যাশ্রী ও একাধিক সামাজিক প্রকল্প-সহ ট্যাবলো বাতিল করা হয় এভাবেই কোনও কারণ না দেখিযে।

এ বছর কেন্দ্র আয়োজিত প্রজাতন্ত্র দিবসের থিম ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকীকে মর্যাদা দিতে ২৩ জানুয়ারি থেকে প্রজাতন্ত্র দিবস উদ্‌যাপন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। পাশাপাশি জানানো হয়েছে যে, নেতাজির জন্মদিনকে স্মরণ করেই, এখন থেকে প্রতি বছরই ২৪ জানুয়ারির পরিবর্তে ২৩ জানুয়ারি থেকে প্রজাতন্ত্র দিবস উদ্‌‌যাপন শুরু হবে। তা নজরে রেখেই বাংলার থিমের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘নেতাজি ও আজাদহিন্দ বাহিনী’।

স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, অরবিন্দ ঘোষ থেকে বিরসা মুন্ডার মতো ব্যক্তিত্বের কী ভূমিকা ছিল, চিঠিতে তা তুলে ধরেছেন মমতা। লিখেছেন, ‘ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম জাতীয়তাবাদের মন্ত্র ‘বন্দেমাতরম’ লিখেছিলেন। যা পরে জাতীয় সঙ্গীত হয়। রমেশচন্দ্র দত্ত প্রথম ব্রিটিশদের ঔপনিবেশিক অর্থনীতির সমালোচনা করে প্রবন্ধ লিখেছিলেন। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দেশে প্রথম জাতীয় রাজনৈতিক সংগঠন ইন্ডিয়ান অ্যাসোশিয়েশন তৈরি করেন।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি যথাযথভাবেই প্রধানমন্ত্রীর নজরে এনেছেন বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর কথায় এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের দ্বিচারিতা ছাড়া আর কিছু নয়। একদিকে যখন নেতাজীর জ্ন্মদিনকে জুড়ে সাধারণতন্ত্র দিবস উদযাপনের ঘোযণা হচ্ছে, তখন দেশের স্বাধীনতা প্রাপ্তিতে  সুভাষ চন্দ্র বসু এবং তাঁর আইএনএ-কে উৎসর্গ  করে ট্যাবলোর প্রস্তাব বাতিল হচ্ছে। কোনও কারণ না দেখিয়েই এ ধরনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.