‘নারী ক্ষমতায়নের এক নতুন যুগের সূচনা হবে’, গোয়ার ‘গৃহলক্ষ্মী’ নিয়ে সার্টিফিকেট মদনের

Home দেশের মাটি ‘নারী ক্ষমতায়নের এক নতুন যুগের সূচনা হবে’, গোয়ার ‘গৃহলক্ষ্মী’ নিয়ে সার্টিফিকেট মদনের
‘নারী ক্ষমতায়নের এক নতুন যুগের সূচনা হবে’, গোয়ার ‘গৃহলক্ষ্মী’ নিয়ে সার্টিফিকেট মদনের

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: পাখির চোখ গোয়ার বিধানসভা নির্বাচন । বড়দিনের উৎসবের মাঝেই গোয়ার মাটিতে পা রেখেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার গোয়ায় জনসংযোগ করতে বেরিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্থানীয় মহিলাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তৃণমূলের গৃহলক্ষ্মী প্রকল্পের বিস্তারিত বর্ণনাও দেন। জানতে চান, গোয়ার মহিলারা এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল কিনা। বলেন, ‘দিদি কথা দিলে কথা রাখতে জানেন।আপনাদের আশীর্বাদে গোয়ায় ক্ষমতায় এলে এখানেও সমস্ত কথা প্রতিশ্রুতি পালন করব।’

দলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের কথার রেশ ধরেই এদিন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র আঞ্চলিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ‘গৃহলক্ষ্মী’ প্রকল্প নিয়ে দরাজ প্রশংসা করেন। কামারহাটির বিধায়ক লেখেন, ‘২০২২ সালে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস গোয়ায় সরকার গঠন করে, তবে সে রাজ্যে গৃহলক্ষ্মী প্রকল্প, নারী ক্ষমতায়নের এক নতুন যুগের সূচনা করবে।বিজেপি জমানার অন্ধকার অধ্যায়ের শেষে গোয়া দেখবে উন্নয়নের নতুন ভোর।’

উল্লেখ করা য়েতে পারে, এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল ট্যুইটার হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করে জানানো হয়, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ব্যক্তিগতভাবে গৃহলক্ষ্মী কার্ড গোয়াবাসীর হাতে তুলে দেন। দাবি করা হয়, ‘আমাদের জন কল্যাণ কর্মসূচির উদ্যোগ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গোয়ার মানুষ সত্যিই এক নতুন ভোরের অপেক্ষায় আছেন। এবং সকলের আশ্রীর্বাদ নিয়ে আমরা গোয়াবাসীকে তা উপহার দিতে চাই।’ এই পোস্টের সূত্র ধরেই নিজের মনের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন মদন মিত্র। তুলে ধরেন গোয়ার জন্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ ভাবনা ‘গৃহলক্ষ্মী’ প্রকল্পকে।

যদিও ‘গৃহলক্ষ্মী’ প্রকল্প ঘোষণার শুরু থেকেই বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়েছে। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার জন্যে গৃহীত ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আদলেই মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ‘গৃহলক্ষ্মী’ প্রকল্প চালুর প্রস্তাব দেন। কিন্তু ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে প্রত্যেক মহিলাকে মাসে ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়। কিন্তু গোয়ার ‘গৃহলক্ষ্মী’ প্রকল্পে প্রত্যেক পরিবারের মহিলাকে মাসিক ৫০০০ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়। যেটিকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বলে প্রথমেই বিরোধিতা করে বিজেপি। কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরমও প্রকাশ্যে ‘গৃহলক্ষ্মী’ প্রকল্পের অর্থের জোগানের যে ফর্মূলা তৃণমূল কংগ্রেস দিয়েছে, তা নোবেল পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য বলে কটাক্ষ করেন।

সম্প্রতি গোয়ার প্রাক্তন বিধায়ক লাভু মামলেদার, ‘সাম্প্রদায়িক’ অপবাদ দিয়ে তৃণমূল ছেড়েছেন। লাভুও অভিযোগ তোলেন গৃহলক্ষ্মীর মতো একটি অবাস্তব প্রকল্পে নাম তোলানোর অছিলায়, গোয়ার মানুষদের হাল হকিকত জানার চেষ্টায় রয়েছে ঘাসফুল শিবির।

এতসব বিরোধিতাও অবশ্য তৃণমূলকে টলাতে পারেনি। শুধু নির্বাচনী রণকৌশল তৈরিই নয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবারের সফরে তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে গোয়াবাসীর পরিচয় করিয়েছেন এক নতুন উপমা টেনে-‘কথা দিলে কথা রাখেন’। অর্থাৎ বাংলার শাসকদলের ক্ষমতার পিরামিডের দ্বিতীয় স্থানে থাকা অভিষেক বুঝিয়ে দিন, তৃণমূল কংগ্রেস একমাত্র দল যাঁরা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.