বড়লোকদের হয়ে লাইনে দাঁড়িয়েই দিনে ১৬,০০০! নেটদুনিয়ায় ভাইরাল ফ্রেডির আজব পেশা

Home আজব বড়লোকদের হয়ে লাইনে দাঁড়িয়েই দিনে ১৬,০০০! নেটদুনিয়ায় ভাইরাল ফ্রেডির আজব পেশা
বড়লোকদের হয়ে লাইনে দাঁড়িয়েই দিনে ১৬,০০০! নেটদুনিয়ায় ভাইরাল ফ্রেডির আজব পেশা

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: লাইন! নিত্যদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ঝক্কি ভারতীয়দের যেন জন্মগত অভ্যেস। কিন্তু শুধু লাইনে দাঁড়ানোটাই যখন কারও পেশা হয়, আর তা থেকে দৈনিক আয় তথাকথিত কর্পোরেট দুনিয়ার হোয়াইট কলার জবকেও টেক্কা দেয় তখন চোখ কপালে ওঠে বৈকি। শুধু লাইনে দাঁড়ানো কারও পেশা হতে পারে? হ্যাঁ, শুনতে রসিকতা মনে হলেও ইংল্যান্ডের ফ্রেডি বেকিট কিন্তু এভাবেই দিনে ১৬০ পাউন্ড বা ভারতীয় টাকায় ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা উপার্জন করে এখন নেটপাড়ায় দারুন জনপ্রিয়।

যদিও অনলাইন আর প্লাস্টিক মানির যুগে লাইনে দাঁড়ানোর রেওয়াজ অনেকটাই কমেছে, তবুও কোন কোনও সময়ে লাইনে দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে । কিছু মানুষ আবার এতই ব্যস্ত যে লাইনে দাঁড়ানোর মতো সময়ও নেই তাঁদের কাছে। এরাই বছর একত্রিশের ফ্রেডির কাস্টমার। এছাড়াও যাঁদের বয়স হয়েছে, সন্তানসন্ততি নেই, নেই আত্মীয় পরিজন, তাঁদের হয়েও লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন ফ্রেডি। তা ব্যাঙ্কই হোক বা থিয়েটারের টিকিট ।

এখানেই শেষ নয়! ফ্রেডি নিজে জানিয়েছেন তাঁকে কাজ দেওয়ার আরও একদল আছে। সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্মানো ধনী ঘরের অল্পবয়সী ছেলেপুলে। তাঁদের অনুরোধেও মাঝেমাঝে লাইনে দাঁড়াতে হয় তাঁকে। এভাবেই ঘণ্টা হিসেবে লাইনে দাঁড়িয়ে একাধিক কাস্টমারের কাছ থেকে তাঁর একদিনে গড়ে আয় হয় ১৬ হাজার টাকা।

লন্ডনের ফুলহ্যাম এলাকার বাসিন্দা ফ্রেডি বেকিট। লন্ডনবাসী হিসাবে লাইনে দাঁড়ানো তাঁর ছোটবেলার অভ্যাস। ৩১ বছরের বেকিট জানিয়েছেন, তাঁর কাজের জন্য অবিশ্বাস্য পরিমাণের ধৈর্য প্রয়োজন। তিনি অবলীলায় বলেন, ‘আমি দিনে আট ঘণ্টা কাজ করি। কোথাও হয়তো চিত্র প্রদর্শনী চলছে, আমি লাইনে দাঁড়িয়ে ধনী অথচ বয়স্কদের জন্য টিকিট কেটে রাখি। তাঁরা প্রদর্শনী শুরু হওয়ার সময় এসে আমার থেকে টিকিট সংগ্রহ করে নেন। বিনিময়ে আমার প্রাপ্য মিটিয়ে দেন। এমন নানারকম লাইনে দাঁড়ানোর কাজ করে থাকি।’ কিন্তু যা বলতে পারেন না, তা হল টানা আট ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে  তার পর আর নড়ার শক্তি থাকে না। তবু তাঁকে এই কাজ করেই দিন গুজরান করতে হয়। কারণ এই কাজে লাগে না কোনও বুদ্ধি, না লাগে প্রচুর পরিশ্রম, লাগে শুধু অসীম ধৈর্য্য।

ফ্রেডি পুরনো স্মৃতি হাতড়ে দেখেছেন, প্রথম দিকে অনেকেই তাঁকে টিকিট কাটতে দিতেন জনপ্রিয় শিল্পীর পারফরম্যান্স বা গানের অনুষ্ঠানের। একবার অ্যাপোলো থিয়েটারে এক প্রদর্শনীর জন্য ষাটোর্ধ্ব কিছু ব্যক্তি তাঁকে লাইন দিয়ে টিকিট কেটে দেওয়ার বরাত দিয়েছিলেন। টিকিট কাটা এবং তারপর তাদের আসার জন্য অপেক্ষা করা – সব মিলিয়ে আট ঘন্টার কাজ ছিল। টিকিট কাটা হয়ে যাওয়ার পর, বাকি সময়টা তিনি জাদুঘরে কাটিয়েছিলেন। সেই সময়ের জন্যও তাঁর উপার্জন হয়েছিল। সেই শুরু! যাঁদের অর্থ আছে অথচ যথেষ্ট সময় নেই, তাঁরাই ছিলেন ফ্রেডির গ্রাহক। তিনি বলছেন, ‘অনেকেই আছেন, যাঁদের অর্থ আছে, কিন্তু লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সামর্থ নেই। বয়সের কারণে তাঁদের শারীরিক সক্ষমতা অনেকটাই কমেছে।’ ষাটোর্ধ্ব এমন অনেক মানুষদের টিকিট কেটে দিয়েছেন তিনি। তিনি বলছেন, ‘দৈনিক আমাকে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, বাকিটা সময় অপেক্ষা করতে ক্রেতাদের জন্য। তবে দিনে একাধিক কাজ থাকলে, দাঁড়িয়ে থাকার সময়টা অনেকটা বেড়ে যায়। শুধু সমস্যা হয় আবহাওয়া খারাপ হলে।’ প্রায় শূন্য ডিগ্রিতে হিমশীতল ঠান্ডায় তাঁকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তবে গ্রীষ্মে লন্ডনে সবচেয়ে বেশি কনসার্ট, এক্সিবিশন হয়, তখন সবচেয়ে বেশি উপার্জনের সময় তাঁর। ফ্রেডির কথায়, যেহেতু এই কাজের জন্য কোনও বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন নেই, তাই ঘন্টায় ২০ পাউন্ডের বেশি এতে উপার্জন করা সম্ভব নয়। এ ছাড়া নিজের ব্যবসার বিজ্ঞাপনও নিয়মিত দেন ফ্রেডি। অনলাইনে তাঁকে কাজ দেন অনেকেই। লাইন দেওয়ার পাশাপাশি বেকিট পোষ্যের দেখাশোনা, প্যাকিং করা, বাগানে কাজ করার মতো পরিষেবার কাজও করে থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.