‘কৃষকদের খুন করতেই পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্ত’! লখিমপুর খেরির ঘটনায় বিস্ফোরক রিপোর্ট সিটের  

Home দেশের মাটি ‘কৃষকদের খুন করতেই পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্ত’! লখিমপুর খেরির ঘটনায় বিস্ফোরক রিপোর্ট সিটের  
‘কৃষকদের খুন করতেই পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্ত’! লখিমপুর খেরির ঘটনায় বিস্ফোরক রিপোর্ট সিটের  

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দেওয়া লখিমপুর খেরির কৃষক মৃত্যুর ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। এমনই বিস্ফোরক রিপোর্ট দিল করল ঘটনায় নিযুক্ত বিশেষ তদন্তকারী দল। মঙ্গলবার সিটের প্রকাশিত রিপোর্টে তদন্তকারী অফিসার একথা জানিয়েছেন। যেখানে স্পষ্ট করে লিখে দেওয়া হয়েছে, ‘উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরিতে কৃষক হত্যার ঘটনা, কৃষকদের খুন করার জন্যই একটি পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্ত। কারও গাফিলতির কারণে এই মৃত্যু নয়। ’

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় কৃষি আইনের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ দেখানোর সময় গত ৩ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরি এলাকায় এসইউভি গাড়ি চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছিল চার কৃষকের। এরপর অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতে মৃত্যু হয় আরও চারজনের। মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র টেনির ছেলে আশিস মিশ্র। সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার পর আশিসকে গ্রেপ্তার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিস। এদিকে মঙ্গলবারই জেলে গিয়ে ছেলের সঙ্গে দেখা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

গত মাসেই ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলির ফরেনসিক পরীক্ষা করে যে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছিল, তাতেও স্পষ্ট উল্লেক ছিল, ঘটনার দিন ওই লাইসেন্সড আগ্নেয়াস্ত্র থেকেই গুলি চালানো হয়েছিল। যদিও ওইদিনের ঘটনায় কেউ গুলিবিদ্ধ হননি। যদিও কৃষকদের অভিযোগ ছিল, মন্ত্রী-পুত্র ও শাগরেদরা তাঁদের নিশানা করে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়েছে। মন্ত্রীপুত্র রাইফেল ও অঙ্কিতের পিস্তল থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন দু’জনেই। কিন্তু কৃষকদের অভিযোগে আমল দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রগুলি ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়। শেষমেশ ফরেনসিক রিপোর্টে কৃষকদের অভিযোগই সত্যি বলে মেনে নেওয়া হয়। আর এবার তদন্তকারী অফিসার বিদ্যারাম দিবাকরের রিপোর্টে দাবি করা হল, ওই ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত।

প্রসঙ্গত, গত ৩ অক্টোবর লখিমপুর খেরিতে কৃষকদের বিক্ষোভ চলাকালীন গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় চার কৃষকের। মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে এলাকা। পুলিস গেলে তাদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান প্রতিবাদীরা। চলে গণপিটুনিও। সেই হিংসাত্মক পরিস্থিতির মাঝে পড়ে প্রাণ হারান আরও ৪ জন। প্রসঙ্গত, লখিমপুর কাণ্ডে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের তদন্তের মন্থর গতিতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্য পুলিসের তরফে জমা দেওয়া পরপর দু’টি ‘স্টেটাস রিপোর্ট’‌ নিয়েও শীর্ষ আদালতের বিস্তর ভর্ৎসনা মেনে নিতে হয় পুলিস-প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের।

বছর ঘুরলেই যোগীরাজ্যে নির্বাচন। তার আগে লখিমপুরের ঘটনায় সিটের এহেন রিপোর্ট বিরোধীদের হাতে যেমন ব্রহ্মাস্ত্র তুলে দিল, তেমনই শাসক শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.