পুরনো ছন্দে ফিরছে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (KIFF), শুভ সূচনা ২৫ এপ্রিল

পুরনো ছন্দে ফিরছে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (KIFF), শুভ সূচনা ২৫ এপ্রিল

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: কথায় বলে ‘বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ’। কিন্তু ঠিকভাবে হিসেব করলে দেখা যাবে সংখ্যাটা ১৫তে গিয়ে ঠেকেছে। কারণ বাকি পার্বণগুলির সঙ্গে বইমেলা আর চলচ্চিত্র উৎসবকে (KIFF) জুড়ে দিলে মন্দ হয় না। বলাই বাহুল্য, এই বিষয়ে বেশিরভাগ বাঙালিই সহমত পোষণ করবেন।

সপ্তাহখানেক আগেই শেষ হয়েছে আন্তর্জাতিক কলকাতা পুস্তকমেলা। এবার সিনেমাপ্রেমীদের জন্য সুখবর নিয়ে হাজির তিলোত্তমা। যাবতীয় বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে অবশেষে সূচনা হতে চলেছে ২৭তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (Kolkata International Film Festival)। ২৫ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত সাত দিন ব্যাপী চলবে এই সিনেপার্বণ। চলতি বছরে ৭ জানুয়ারি থেকে এই উৎসব শুরু হওয়ার কথা ছিল। যদিও কোভিডের (Covid 19) অস্বাভাবিক বাড়বাড়ন্তের ফলে সাময়িক স্থগিত হয়ে যায় চলচ্চিত্র উৎসব। উৎসব শুরু হওয়ার ২ দিন আগেই সস্ত্রীক করোনা আক্রান্ত হন রাজ চক্রবর্তী (Raj Chakraborty)। মারণ ভাইরাসের কবলে পড়েন রুদ্রনীল ঘোষ ও পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ও। এর পরেই উদ্যোক্তাদের তরফ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে চলচ্চিত্র উৎসব (KIFF) স্থগিত রাখার কথা জানানো হয়।

তবে, এখন পরিস্থিতি কিছুটা হলেও স্বাভাবিক। ফলে সরকারি উদ্যোগে আবারও নতুন করে দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়েছে। সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষপূর্তি ২ মে, তার ঠিক আগের দিনই শেষ হবে এবারের চলচ্চিত্র উৎসব (KIFF)। সূত্রের খবর, নবান্নের বদলে এবার নজরুল মঞ্চে আয়োজিত হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সাত দিন ব্যাপী ১০টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে ৪১টি দেশের ১৬১টি ছবি। এবছরের ফোকাল কান্ট্রি ফিনল্যান্ড।

জানুয়ারি থেকে পিছিয়ে এপ্রিল। যে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (KIFF) জন্য বহু সিনেপ্রেমী মানুষ মুখিয়ে থাকেন, তা করোনা পরিস্থিতির জেরে একাধিকবার পিছিয়ে যায়। অবশেষে সব বাধা কাটিয়ে তার নতুন দিনক্ষণ ঘোষণা করা হল। আগামী মাসেই শহরে অনুষ্ঠিত হবে সিনেমার উৎসব। দেশ বিদেশের নামী সিনেমা ও তার সঙ্গে জড়িত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আনাগোনা শুরু হতে চলেছে তিলোত্তমায়। নতুন দিনক্ষণ জানতে পেরে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত সিনেপ্রেমীরা। এই সুখবর জানিয়ে ট্যুইট করেছেন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির চেয়ারপার্সন তথা তৃণমূলের সাংস্কৃতিক সেলের চেয়ারম্যান রাজ চক্রবর্তী। ট্যুইটে তিনি আশাপ্রকাশ করেন, এবার সিনেমা হলে ১০০ শতাংশ দর্শক নিয়েই উৎসব উদযাপন করা যাবে। করোনা (Corona) আবহ কাটিয়ে এবার হলগুলিতে ১০০ শতাংশ দর্শক প্রবেশের অনুমোদন মিলেছে। তাই খানিকটা দেরিতে হলেও দর্শকরা ভালোভাবে চলচ্চিত্র উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন বলে তাঁর আশা।

এবার সবমিলিয়ে মোট ১০৩টি ফিচার ফিল্ম এবং ৫৮টি শর্টফিল্ম ও ডকুমেন্ট্রি প্রদর্শিত হবে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (KIFF)। ভারতের অন্যতম চর্চিত এই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের অংশ হতে চলতি বছরে ৭১টি দেশ থেকে মোট ১৬৯৮টি আবেদন জমা পড়েছিল। সেখান থেকে বাছাই করে নেওয়া হয়েছে ১৬১টি পূর্ণ দৈঘ্যের ছবি, ছোট ছবি ও তথ্যচিত্র, যার মধ্যে বিদেশি ছবির সংখ্যা ৪৬টি। মোট ১০টি প্রেক্ষাগৃহ জুড়ে চলবে সিনেমার উৎসব, থাকবে মোট ২০০টি শো এর ব্যবস্থা। প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে থাকছে মোট ৫৯টি ছবি। রাজ্য সরকারের তরফে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, সমস্ত কোভিড প্রোটোকল ও সরকারি নির্দেশিকা মেনেই চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। 

এবছর সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষে বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হবে তাঁকে। ১৯৭০ সালে একটি তারকাখচিত ছবি পরিচালনা করেছিলেন সত্যজিৎ রায়। সেই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শর্মিলা ঠাকুর, সিমি গারেওয়াল, শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়, কাবেরী বসু, শমিত ভঞ্জ, রবি ঘোষ, পাহাড়ি সান্যাল প্রমুখ। সেই ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ ছবিটি এবারের চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী ছবি হিসেবে দেখানো হবে৷ এছাড়াও তালিকায় রয়েছে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘সতরঞ্জ কে খিলাড়ি’, ‘পথের পাঁচালি’, ‘হীরক রাজার দেশে’ সহ একাধিক সিনেমা। পাশাপাশি শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হবে চিদানন্দ দাশগুপ্ত ও হাঙ্গেরিয়ন ফিল্মমেকার মিকলোস ইয়াঞ্চকে। প্রদর্শিত হবে চিদানন্দ দাশগুপ্তের ছবি ‘পোর্টেট অফ দ্য সিটি’ এবং ‘আমোদিনী’। এছাড়াও রয়েছে মিকলোস ইয়াঞ্চের সবচেয়ে বিখ্যাত ছবি ‘ইলেক্ট্রা মাই লাভ’।

সাত দিন ব্যাপী সিনেমার উৎসবে সিনে-ময় হয়ে থাকতে কোথায় কোথায় ঢুঁ মারবেন সিনেপ্রেমীরা? নবান্নের ঘোষণা অনুযায়ী, নন্দন ১,২,৩, নজরুল তীর্থ ১,২, রবীন্দ্র সদন, রবীন্দ্র ওকাকুরা ভবন, চলচ্চিত্র শতবর্ষ ভবন, কনফারেন্স হল, কলকাতা ইনফর্মেশন সেন্টার ও শিশির মঞ্চ সহ শহরের মোট ১০টি প্রেক্ষাগৃহে সাত দিন ধরে প্রদর্শিত হবে দেশ-বিদেশের নানান ভিন্ন স্বাদের ছবি। সিনেমা ও তথ্যচিত্রের স্ক্রিনিংয়ের পাশাপাশি থাকছে নানা ধরনের প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, সিনে আড্ডা। আর থাকবে বিভিন্ন সম্মাননা, পুরস্কার। প্রতিযোগিতা থেকে সেরা ছোট-বড়, দেশি-বিদেশি ছবিগুলি বেছে নেওয়া হবে। সম্মানিত হবেন দেশ ও বিদেশের সেরা ছবির পরিচালকরা। সাধারণত প্রতি বছর নভেম্বর মাসে কলকাতা শহরে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (KIFF) আসর বসে। তবে এবার সব বাধা কাটিয়ে পয়লা বৈশাখ পেরিয়েই শুরু হচ্ছে ২৭তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.