এবার থেকে অটোতেও (Auto Route) ‘কর্পোরেট কালচার’, সপ্তাহে দু’দিন ছুটি পাবেন চালকরা

এবার থেকে অটোতেও (Auto Route) ‘কর্পোরেট কালচার’, সপ্তাহে দু’দিন ছুটি পাবেন চালকরা

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: আপনি যদি আইটি ফার্ম বা বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত হন, তাহলে সপ্তাহান্তে টানা দু’দিন ছুটির আমেজ নিশ্চয়ই আপনি উপভোগ করেন। এবার সেই ধাঁচেই অটো চালকদেরও সপ্তাহে দু’দিন ডে-অফ বা ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন রুটের (Auto Route) অটো চালকরা সপ্তাহের যে কোনও দু’দিন ছুটি পাবেন, অর্থাৎ অটো চালাতে হবে না ওই দিনগুলিতে। প্রত্যেকটি অটোর জন্য পৃথক দিন ধার্য করা থাকবে, সেই সূচি মেনেই অটো চলবে। এরকমই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন রুট কমিটির পক্ষ থেকে। ইতিমধ্যেই কলকাতার কিছু অটো রুটে এই নতুন ‘কর্পোরেট কালচার’ চালুও হয়ে গিয়েছে।

রুট (Auto Route) কমিটির এই সিদ্ধান্তকে একপ্রকার স্বাগতই জানিয়েছেন অটো চালকরা। তাঁদের বক্তব্য, লকডাউনের পর থেকে গত কয়েক মাসে যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তাই সপ্তাহে সাতদিনের বদলে পাঁচদিন অটো চললে সব অটো চালকই সমান ভাবে যাত্রী পাবেন। সেক্ষেত্রে ক্ষতির অঙ্ক কিছুটা হলেও কমানো যাবে বলে অটো চালকরা মনে করছেন। প্রসঙ্গত, লকডাউন চলাকালীন অন্য বহু পেশার মানুষদের মতো বিপাকে পড়েছিলেন অটো চালকরাও। প্রায় বছরখানেক সমস্ত পরিবহন বন্ধ থাকায় কার্যত যাত্রীশূন্য অবস্থায় দিন কেটেছে তাঁদের। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও বর্তমানে অটোর তুলনায় যাত্রী অনেকটাই কম বলে দাবি অটো চালকদের। আর এই ঘাটতি মেটাতেই এই নয়া উদ্যোগ।

কীভাবে কার্যকরী হচ্ছে এই নয়া নিয়ম? রুট কমিটি ঠিক করে দিচ্ছে কোন দু’দিন কোন অটো বন্ধ থাকবে। সেই দু’দিনের নাম লেখা থাকছে অটোর গায়ে। যাতে কোনওভাবেই চোখ এড়িয়ে ছুটির দিনে চালক সেই অটো নামাতে না পারেন। সব রুটে (Auto Route) নয়া নিয়ম চালু না হলেও কলকাতার একাধিক রুট এই নিয়মেই হাঁটতে শুরু করেছে। ধাপে ধাপে অন্যরাও এই নিয়ম অনুসরণ করবে বলেই জানা যাচ্ছে। প্রধান বিষয়টি হল, অটোর সংখ্যায় লাগাম দিয়ে রাস্তায় ভিড় কমানো। পাশাপাশি যাত্রী না পেয়ে কোনও অটো চালক যাতে লোকসানের মুখে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা। অটো সংগঠনগুলির বক্তব্য, যে রুটে আগে একটি অটো ১৫টি ট্রিপ করতো, এখন সেই অটোই মাত্র ৭-৮টি ট্রিপ করতে পারছে। সেই কারণে যাত্রী পরিবহনে সমতা রেখে সুরাহার পথ খুঁজতে গিয়েই এই নতুন দাওয়াই।

ধরা যাক, মেছুয়া-ফুলবাগান রুট (Auto Route)। মেছুয়া-কাদাপাড়া রুটকে ভেঙে এই নতুন রুট তৈরি হয়েছে। যেখানে প্রায় আড়াইশোর কাছাকাছি অটো চলে। কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক অটোর স্ট্যান্ডে দাঁড়ানোর মতো জায়গা নেই। তাই দুদিন করে সব অটোকেই বন্ধ রাখা হচ্ছে। কোনও অটোর সামনে লেখা মঙ্গল-বৃহস্পতি, কোনওটায় সোম-শুক্র। চালকদের কথা অনুযায়ী সবাইকে সমান রোজগারের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্যই একেকটি রুট কমিটি এই নয়া নিয়ম চালু করেছে। বেশিরভাগ চালকই মালিকের থেকে ভাড়া নিয়ে অটো চালান। দিনপ্রতি কোনও রুটে সাড়ে তিনশো, আবার কোনও রুটে চারশো টাকা ভাড়া। ফলে যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ায় রুটে বেশি অটো হয়ে গেলে রোজগারও অনেকটাই কমে যাচ্ছে চালকদের। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই নয়া নিয়ম।

তবে যাত্রীদের বক্তব্য, অটো চালকদের স্বার্থের কথা ভেবেই এই খামখেয়ালি নিয়ম করা হয়েছে। প্রায়শই যাত্রীরা চালকদের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ করে থাকেন। তাঁদের অভিযোগ, রাত বাড়লেই নির্ধারিত ভাড়ার থেকে অনেক বেশি টাকা গুনতে হয় তাঁদের। এমনকি উৎসবের দিনে বা শহরজুড়ে কোনও বিশেষ অনুষ্ঠান থাকলে সেই সুযোগে যথেচ্ছভাবে ভাড়া বাড়িয়ে দেন চালকরা। বহুদিন ধরে এই দৌরাত্ম্য চলে আসলেও প্রশাসনের তরফ থেকে কোনও ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। এছাড়াও বেশ কিছু রুটে সন্ধের পর অটো পাওয়াও যায় না। ফলে অপেক্ষাকৃত দেরিতে অফিস ফেরত যাত্রীরা সমস্যায় পড়েন এতে। পাশাপাশি বেশ কিছু যাত্রী অভিযোগ করছেন করোনাকালে যে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার চল শুরু হয়েছিল তা এখনও বহাল আছে। সেই সময় অটোপিছু তিনজন যাত্রী নেওয়া হত, তাই ভাড়া বেড়েছিল। কিন্তু এখন তো ৪-৫ জন নেওয়া হয়। শহরতলিতে মাঝে মাঝে ৬ জনকেও একই সঙ্গে সওয়ার হতে দেখা যায়। কিন্তু ভাড়া তো সেই একই রয়ে গেল। রাতে নিউ গড়িয়া থেকে সোনারপুর রুটের অটোতে উঠলেই চালক নিচ্ছেন ২০ টাকা। একটা স্টপেজ গেলেও একই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। গাঙ্গুলিবাগান থেকে সুলেখা ভাড়া ছিল ১০ টাকা, যা বেড়ে হয়ে গিয়েছে ১৫ টাকা। এরকম অধিকাংশ রুটেই (Auto Route) ভাড়া রাতারাতি বেড়ে গিয়েছে। প্রশাসনের এই বিষয়ে কোনও নিয়ন্ত্রণই নেই।

এই প্রসঙ্গে আইএনটিটিইউসির (INTTUC) অটো সংগঠনের অন্যতম সদস্য মদনমোহন ঘোষ বলেন, ‘লকডাউনের পর অটোতে যাত্রী সংখ্যা অনেকটাই কমে গিয়েছে। সে কারণেই বহু রুটে সপ্তাহে দু’দিন করে এক একটি অটোকে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাতে সকল চালকই অটোতে যাত্রী পান। আশা করবো এই সিদ্ধান্তের পরে কলকাতার অটো পরিষেবা আরও মসৃণ হবে’। যাত্রীদের অটো সফর আদতে কতটা মসৃণ হয় সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.