‘জিতেছেন এবার সংযত থাকুন’, তৃণমূলকে খোলা বার্তা পরমব্রতর

Home জলসাঘর ‘জিতেছেন এবার সংযত থাকুন’, তৃণমূলকে খোলা বার্তা পরমব্রতর
‘জিতেছেন এবার সংযত থাকুন’, তৃণমূলকে খোলা বার্তা পরমব্রতর

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: কলকাতা পুরসভার প্রচারে তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নেমেছিলেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। শাসকদলের নেতার সঙ্গে সখ্যতায় ‘বামমনস্ক’ পরমব্রতর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সেদিন থেকেই জল্পনা শুরু হয়। আর সেইসব জল্পনাকে নতুন মোড় এনে দাঁড় করিয়ে দিলেন অভিনেতা স্বয়ং। কলকাতা পুরভোটে বিপুল জয়ের পর শাসক দলকে ‘সংযত’ থাকার বার্তা দিলেন সেই পরমই।

পুরভোটে তৃণমূল শুধু জয়ের রেকর্ডই গড়েনি,কলকাতা পুরসভায় বিরোধী আসনে বসার মতো যোগ্যতাও অন্য কোনও দল অর্জন করতে পারেনি। ১৪৪টির মধ্যে ১৩৪ টি ওয়ার্ড এখন তৃণমূলের দখলে। আর এই নজিরবিহীন ফলাফলের পরই ট্যুইটারে একটি অর্থবহ পোস্ট করেন অভিনেতা। নিজেকে ‘বর্তমানে বাংলার পরিস্থিতির শুভাকাঙ্খী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে শাসক দলকে বার্তা দেন,‘জিতেছেন, এবার সংযত থাকুন।’

কেন এমন বার্তা পরমের? মনে করা হচ্ছে, পুরভোটের দিন কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিক্ষিপ্ত ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে তৃণমূল বিরোধীরা বারবার তাদের উপর আক্রমণের অভিযোগ তোলে। এমনকী বিরোধীদের পার্টি অফিস ভাঙচুরেরও মতোও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এই ধরনের অভিযোগ নিয়ে ভবিষ্যতে সরকারের দিকে যাতে আর আঙুল না ওঠে,শাসকদলের ‘শুভাকাঙ্খী’ হিসেবে তাই চান পরমব্রত।

পরম ট্যুইটে লেখেন,‘বিরাট সাফল্যের পর বিরোধীদের পার্টি অফিস ভাঙচুরের ঘটনা এবার থামাতে হবে। এমন একটিও ঘটনা যেন না শোনা যায়। বর্তমানে বাংলার পরিস্থিতির শুভাকাঙ্খী হিসেবেই এ কথা আমি বলছি। আমি নেতাদের অনুরোধ জানাব যাতে দলের সদস্য সমর্থকরা এমন কোনও ঘটনা না ঘটায়, তা নজর রাখতে। এতে জনগণের রায়কে অপমান করা হয়।’

এরপরই পরমব্রতর সংযোজন,‘কাদের দোষ, কারা শুরু করেছে, সেসব কাসুন্দি ঘেঁটে লাভ নেই। এমন ঘটনা তখনও খারাপ ছিল, আজও মেনে নেওয়া যায় না।আসুন এই জয়ে সসম্মানে সংযত থাকা যাক।’

উল্লেখ্য, নেতাজিনগরে ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী অরূপ চক্রবর্তীর সমর্থনে প্রচার করতে দেখা গিয়েছিল টলিউড তারকাকে। বাম ভাবধারায় বিশ্বাসী পরমব্রত ঘাসফুল শিবিরের প্রচারে কেন গিয়েছিলেন, তা স্পষ্টও করেছিলেন অভিনেতা। তিনি জানান, ‘ব্যক্তিগতভাবে একজনের প্রচারে গিয়েছিলাম। অল্প কিছু সময়ের জন্য। তাঁকে আমি একজন কৃতী, শিক্ষিত, বুদ্ধিমান, রুচিবান মানুষ হিসেবে চিনি তাই। কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়।’

তবে নিজেকে শুধুমাত্র শাসক দলের শুভাকাঙ্খী হিসেবে দাবি করলেও ইতিমধ্যেই সরকারের তরফে বিশেষ দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। দেউচা পাচামিতে প্রস্তাবিত কয়লা খনি নিয়ে এলাকার মানুষের মতামত জানতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে পরমব্রতকে। সম্প্রতি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে সেই এলাকাতেও গিয়েছিলেন তিনি।সেই দায়িত্ব পাওয়ার পর এবার এক শুভাকাঙ্খী এবং বুদ্ধিজীবী হিসেবে সরকারের বিবেকের ভূমিকায় দেখা গেল অভিনেতাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.