কখন আসবে সেই প্রহর? সুমিতে ভারতীয় ছাত্ররা (Indian students) এখন দেশে ফেরার অপেক্ষায়

Home দেশের মাটি কখন আসবে সেই প্রহর? সুমিতে ভারতীয় ছাত্ররা (Indian students) এখন দেশে ফেরার অপেক্ষায়
কখন আসবে সেই প্রহর? সুমিতে ভারতীয় ছাত্ররা (Indian students) এখন দেশে ফেরার অপেক্ষায়

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: আজ দ্বাদশতম দিন। রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন (Russia’s invasion of Ukraine) থামার কোনও লক্ষণই নেই। বরং তা ক্রমে ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। কারও কথায় কান দিচ্ছেন না পুতিন। উত্তরপূর্ব ইউক্রেনের শহর সুমি। এটা রাশিয়ার সীমান্ত এলাকা (Russian border)। এখানে বহু ভারতীয় পড়ুয়া (Indian students) রয়েছেন। সংখ্যাটা ৭০০-র কাছাকাছি। তাঁরা দেশে ফেরার জন্য প্রহর গুনছেন। কিন্তু তাঁদের সেখানে দিন যাপন যেমন কঠিন, তেমনই কষ্টকর হয়ে উঠেছে দেশে ফেরা।

দিন একদিন একদিন করে এগোচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সোমবার পড়ল ১২ দিনে। ইউক্রেনের সুমিতে আটকে পড়া ভারতীয় পড়ুয়াদের (Indian students) উদ্ধার এখনও অধরা। কথা ছিল, সুমি স্টেট ইউনিভার্সিটির পড়ুয়াদের সোমবারই উদ্ধার করা হবে। সেইমতো, যাবতীয় ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। পড়ুয়ারা স্বস্তি পেয়েছিলেন, গোলাবারুদের দৈনিক আছড়ে পড়ার শব্দ আর শুনতে হবে না। এই অসহ্য পরিবেশ থেকে অবশেষে মুক্তি মিলবে।

কিন্তু, সেটা হল না। গত ১১ দিন জীবন-মরণের  খেলা সঙ্গী করে হস্টেলের বাংকারে ভারতীয় পড়ুয়ারা (Indian students)মুখ গুঁজে পড়েছিলেন, সেই অসহনীয় পরিবেশ আরও কতদিন তাঁদের সহ্য করতে হবে! সেকথা সোমবারই তাঁরা জানতে পারলেন ভারতীয় দূতাবাসের থেকে। সুমি থেকে পড়ুয়াদের বের করে আনতে দূতাবাসের হয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন রেনিস জোসেফ। তিনিই সোমবার ভারতীয় পড়ুয়াদের (Indian students) জানান, নিরাপত্তার কারণে আরও একদিন তাঁদের সুমি-তে কাটাতে হবে।

এর আগে ইউক্রেনের ভারতীয় দূতাবাস টুইট করে জানিয়েছিল, পশ্চিম সীমান্তের পোলতভা দিয়ে সুমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতীয় পড়ুয়াদের (Indian students) ইউক্রেন থেকে বের করা হবে। পড়ুয়ারা তৈরি থাকুন। অল্প সময়ের নোটিসেই তাঁদের সুমি ছাড়তে হবে। ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যেই পোলতভায় পৌঁছে গিয়েছেন বলেও জানিয়েছিল ভারতীয় দূতাবাস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে ধন্যবাদ দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে সুমি-র পড়ুয়াদের যাতে নিরাপদে ইউক্রেন থেকে বের করে আনা যায়  (India’s evacustion), সেই ব্যাপারেও জেলেনস্কির সাহায্য চেয়েছিলেন মোদী।

ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক তাঁকে জানিয়েছে, সোমবার পড়ুয়াদের নিরাপদে ইউক্রেন থেকে বের করা সম্ভব নয়। তিনি সেকথা জানামাত্রই পড়ুয়াদের তা জানিয়েও দিয়েছেন। একইসঙ্গে, মঙ্গলবার ওই পড়ুয়াদের নিরাপদে ইউক্রেন (Ukraine) থেকে সরানো যাবে বলেই আশা প্রকাশ করেন জোসেফ।

আরও জানতে পড়ুন – আবারও পরিত্রাতা সোনু সুদ, ইউক্রেনে আটকে পড়া পড়ুয়াদের দেশে ফেরাতে এগিয়ে এলেন সাহায্যে

জোসেফ যে খুব একটা ভুল কিছু বলেননি, তা অবশ্য সোমবার বেলা গড়াতেই ভারতীয় পড়ুয়ারা (Indian students) নিজেরাও বুঝতে পারছেন। বাংকার থেকেই তাঁরা শুনতে পাচ্ছেন, অন্যদিনের মতোই তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আছড়ে পড়ছে ক্ষেপণাস্ত্র, গোলা। শুনতে পাচ্ছেন গুলি ছোড়া আর পালটা গুলির শব্দও।

মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে বিদেশ মন্ত্রক-এর মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি লিখেছেন, আমরা ইউক্রেনের (Ukraine) সুমিতে ভারতীয় ছাত্রদের নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ করিডোর তৈরি করার জন্য তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির জন্য একাধিক চ্যানেলের মাধ্যমে রাশিয়ান এবং ইউক্রেনীয় সরকারকে দৃঢ়ভাবে চাপ দিয়েছি।

এদিকে শনিবার ইউক্রেনের কিছু অংশে সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে রাশিয়া। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বার্তা সংস্থা স্পুটনিক রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষে বলেছে। ৫ মার্চ মস্কোর সময় ১০টায়, রাশিয়ান পক্ষ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে এবং মারিউপোল এবং ভলনোভাখা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের প্রস্থানের জন্য মানবিক করিডোর খুলে দেয়। বেলারুশে রাশিয়ান ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার সময় বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য মানবিক করিডোর তৈরির বিষয়ে একমত হয়েছিল। এদিকে ইউরোপে সাইবার হানায় বন্ধ হয়ে গেল ইন্টারনেট পরিষেবা । ইউক্রেনের রাশিয়ার হামলার জন্য এই সাইবার হামলা করা হয়েছে বলে খবর। ৯ হাজার মানুষের কম্পিউটারে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে।

এদিকে ইউক্রেন থেকে ভারতীয়দের সরিয়ে আনার প্রক্রিয়া এখনও চলছে। বিদেশমন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, এখনও সেখানে আটকে প্রায় ১০০০ ভারতীয়। অন্তত ১,০০০ ভারতীয় নাগরিক যাদের মধ্যে ইউক্রেনের সুমিতে ৭০০ জন এবং খারকিভে ৩০০ জন এখনও আতকে রয়েছেন। ভারত সরকার শুক্রবার জানিয়েছে, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে তাদের সরিয়ে আনার জন্য বাসের ব্যবস্থা করা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, শেষ ব্যক্তিকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত আমরা অপারেশন গঙ্গা চালিয়ে যাব। প্রায় ২,০০০-৩,০০০-এর (আরও ভারতীয়) সেখানে (ইউক্রেনে) থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সংখ্যাটি পরিবর্তন হতে পারে।

তিনি আরও বলনে, আমাদের প্রাথমিক ফোকাস হল পূর্ব ইউক্রেনের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে ভারতীয় পড়ুয়াদের বের করে আনা। আমরা উভয় পক্ষকে -রাশিয়া এবং ইউক্রেন (Russia and Ukraine) উপায় খুঁজে বের করার জন্য অনুরোধ করছি, যাতে আমরা আমাদের নাগরিকদের বের করতে পারি। সুমি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে (Sumy State University) আটকে পড়া ভারতীয় মেডিকেল ছাত্ররা শুক্রবার সাহায্যের জন্য একটি মরিয়া আবেদন জানিয়ে বলেছিল যে তাঁরা ৮০০-৯০০ জন তাঁদের হোস্টেলে খাবার এবং জল ছাড়াই আটকে রয়েছেন এবং বাইরে যুদ্ধ হচ্ছে, গোলাগুলি চলছে  এবং সর্বোপরি তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.