চিরবিদায় দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবিদ্বেষ বিরোধী লড়াইয়ের প্রাণপুরুষ ডেসমন্ড টুটু

Home বিদেশ-বিভূঁই চিরবিদায় দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবিদ্বেষ বিরোধী লড়াইয়ের প্রাণপুরুষ ডেসমন্ড টুটু
চিরবিদায় দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবিদ্বেষ বিরোধী লড়াইয়ের প্রাণপুরুষ ডেসমন্ড টুটু

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: বর্ষবরণের উৎসবের মধ্যেই চিরবিদায় নিলেন আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু ৷ বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে যাঁরা লড়াই করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন টুটু। তাঁর এই লড়াইয়ের জন্য টুটুকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল৷ দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগছিলেন তিনি।

জোহানেসবার্গের বিশপ থাকাকালীন ১৯৮৪  সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ডেসমন্ড টুটু ৷ তাঁর স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি এবং নির্ভীক অবস্থানকে কুর্নিশ জানিয়েছিল নোবেল কমিটি ৷ আফ্রিকার স্বাধীনতা সংগ্রামে টুটু ছিলেন হার না মানার প্রতীক৷ ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে নেমে হিংসার আশ্রয় নিতে হয়নি তাঁকে৷ তিনি ছিলেন অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাসী৷১৯৬১1 এবং ১৯৭৬ সালে কৃষ্ণকায় মানুষদের উপর নৃশংস অত্যাচার হওয়ার পরও নিজের অবস্থান থেকে সরেননি টুটু ৷

নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গেও টুটুর সুসম্পর্ক ছিল৷ গত শতাব্দীর পাঁচের দশকের প্রথম দিকে আয়োজিত একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রথমবার পরস্পরের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন তাঁরা ৷ কিন্তু, তারপর বছরের পর বছর ধরে তাঁরা মুখোমুখি হতে পারেনন৷ বলা ভালো, সাদা চামড়ার দখলে থাকা সরকার পক্ষই কোনও দিন তাঁদের এক জায়গায় হতে দেয়নি৷ যদিও শেষমেশ সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়৷ দীর্ঘ কারাবাস শেষে মুক্তির প্রথম দিনই, কেপটাউনে টুটুর বাড়িতেই প্রথম রাত কাটিয়েছিলেন ম্যান্ডেলা৷ তারপর থেকে যতদিন তিনি বেঁচে ছিলেন বন্ধু টুটুর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন তিনি ৷

টুটুর প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ ট্যুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘ওঁর মৃত্যুতে আমি শোকস্তব্ধ ৷ ওঁর সমস্ত অনুরাগীদের আমি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি৷’ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও নিজের শোকবার্তায় ডেসমন্ড টুটুর লড়াইকে স্মরণ করে লিখেছেন, ‘নির্বাকদের ভাষা হয়েছিলেন আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু ৷ সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি ৷ এবং বিশ্ববাসীর হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলেন ৷’ আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটুর মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধিও৷ তিনি লেখেন, ‘সামাজিক ন্যায় স্থাপনের এই প্রকৃত নায়করাই চিরকাল গোটা বিশ্বকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন৷’

Leave a Reply

Your email address will not be published.